ঢাকা, মঙ্গলবার 27 February 2018, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ১০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইল্ম ও আমলের পরিপূর্ণ সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মুমিন জীবন গঠন

ডাঃ শিরিন আক্তার রুনা : “আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দান করে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো সেই মুষলধারার বর্ষণের মতো, যা ভূমিতে পড়ে অতঃপর সেই ভূমির একটা পরিচ্ছন্ন অংশ পানি শোষণ করে নেয়। তারপর সেখানে প্রচুর ঘাস ও লতাগুল্ম জন্মায়। সেই ভূমির অপর একটি অংশ উদ্ভিদ অঙ্কুরণের উপযোগী, তবে তা পানি ধরে রাখে। আল্লাহ সেই পানি দ্বারা মানুষের উপকার করেন। মানুষ সেই পানি পান করে, অন্যদেরকেও পান করায় এবং তা কৃষিকাজে লাগায়। সেই ভূমির আরেকটি অংশ হলো প্রস্তরময় প্রান্তর ও পাহাড়-পর্বত, যা পানি ধরে না এবং সেখানে উদ্ভিদও গজায় না। প্রথম ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এই যে, আল্লাহর দ্বীন সে ভালোমত বুঝেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে। তা সে নিজে শিখেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এই যে ইলম ও হিদায়াত আসার পরও সে মূর্খতা থেকে মাথা উঁচু করে তাকায়নি এবং আল্লাহর হিদায়াত, যা সহকারে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা কবুলও করেনি।” (হযরত আবু মূসা আশ’আরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) এর হাদীস)
ইলম তথা জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ এক নেয়ামত, রহমত বিশেষ। রাসূল (সা.) বলেছেন- “আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ব্যুৎপত্তি ও গভীর জ্ঞান দান করেন।”
জ্ঞান মানুষকে সত্যের পথ দেখায়, কল্যাণের দিকে ধাবিত করে, ক্ষতিকে দূরীভূত করে।
জ্ঞানী ব্যক্তির সম্মান, মর্যাদাও আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। সূরা মুজাদালার ১১ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন।”
সেই সাথে রাসূল (সা.) বলেছেন-“প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ইলম অর্জন করা ফরজ।”
সুতরাং জ্ঞানার্জন থেকে পিছিয়ে থাকার কোন সুযোগই নাই। আর জ্ঞানই আমলকে সমৃদ্ধ করবে, পরিপূর্ণ করবে। হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন-“ইলম হলো আমলের ইমাম, আর আমল তার অনুসারী।” তাই আমল তথা কর্মের জন্য ইলম তথা জ্ঞান অত্যাবশ্যক।
উমর ইবনে আবদুল আযিয (র.) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান (ইলম) ছাড়া কাজ করে সে যতটুকু ঠিক করে তার চেয়ে বেশি নষ্ট করে।”
রাসূল (সা.) এর উপর প্রথম নাজিলকৃত আয়াতও ছিল-‘ইক্রা’ অর্থাৎ পড়। সুতরাং জ্ঞানার্জন ছাড়া না আমাদের আমল সহীহ হবে, না আমরা কল্যাণ পাবো, আর না আমরা ভারসাম্য মু’মিন জীবন গঠন করতে পারবো।
রাসূল (সা.) বলেন-“যে ব্যক্তি জ্ঞান অনে¦ষণের উদ্দেশ্যে কিছু পথ অতিক্রম করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন।” সুতরাং সঠিক ইল্ম বা জ্ঞান যেমন একদিকে আমাদের আমলকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছাবে, ঠিক সাথে সাথে মুমিন হিসাবেও আল্লাহর কবুলিয়াতের দিকে নিয়ে যাবে এবং জান্নাতের পথও সুগম করবে ইনশাআল্লাহ।
ইল্ম কী?
ইল্ম শব্দের আভিধানিক অর্থ জ্ঞান। ইসলামী পরিভাষায় ইলম মানে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান। ইলম অর্জনকে ফরজ বলা হয়েছে, যদি এখানে সব জ্ঞানই বুঝায় তাহলে নবীর পক্ষেও এ ফরজ পালন করা সম্ভব ছিল না। যিনি এই পৃথিবীসহ সকল প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, তিনিই একমাত্র সকল জ্ঞানের উৎস। মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণীর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিগতভাবেই তাদেরকে যার যার প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করেছেন। মানব সন্তান কোন রকম জ্ঞান ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে। তবে আল্লাহ তার মধ্যে জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা এবং আপনাকে জানার আগ্রহ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার মধ্যে জানার জন্য সব উপায় উপকরণও সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ সূরা নাহলের ৭৮ নং আয়াতে বলেন, “এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এবং এ অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয় যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।”
এই উপকরণগুলো কাজে লাগিয়েই মানুষ পার্থিব জ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞান তথা ইলম অর্জন করে।
আল্লাহর নিয়ম এটাই তিনি বৃষ্টির মতো জ্ঞানকে মানুষের উপর বর্ষণ করবেন না বরং ইলম অর্জনের জন্য মানুষকে চেষ্টা ও সাধনা করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন- “ওহে জনম-লী! তোমরা জ্ঞানার্জন করো। শোনার মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, গভীর জ্ঞান লাভ করা যায় চিন্তা-অনুধাবনের মাধ্যমে।”
সুতরাং ইলম বা জ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বা অনাগ্রহী থাকা কোন মু’মিন বা মুসলমানের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। রাসূল (সা.) আরো বলেন, “তুমি আলিম হও অথবা হও শিক্ষার্থী, অথবা শ্রোতা অথবা প্রেমিক। পঞ্চম হয়ো না। তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।”
অর্থাৎ মানুষকে সচেতনভাবে এবং ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করেই আল্লাহর দেয়া উপকরণ ও নেয়ামতকে কাজে লাগিয়ে ইলম অর্জন করতে হবে। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে মানুষকে নিজেকে এবং এই পৃথিবীকে কিভাবে পরিচালনা করবে, কোন গুণাবলী কিভাবে অর্জন করবে, কোন বিধান কিভাবে বাস্তবায়ন করবে- যাবতীয় জ্ঞান রাসূল (সা.)-এর নিকট ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন ও রাসূলের হাদীসই পারে আমাদের সঠিক ও পরিপূর্ণ ইলম অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
ইল্মের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা : ইলম বা জ্ঞান হলো শক্তি। জ্ঞান ছাড়া এক মুহূর্তও চলা সম্ভব নয়। কর্মের প্রধান চালিকা শক্তিই জ্ঞান। কিন্তু জ্ঞান যদি নির্ভুল না হয় তাহলে কর্মের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবেই। গাড়ীর ড্রাইভার যদি সঠিক জ্ঞানের অধিকারী না হয় তাহলে এক্সিডেন্ট করে গাড়ি ধ্বংসের সাথে সাথে নিজের জীবনও হারাতে পারে। তাই সব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। দুনিয়ায় সবাই সুখ ও শান্তি চায় এবং সে যা কিছু করে এ উদ্দেশ্যেই করে। সুখ-শান্তি পাওয়ার নিয়তেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, চুরি ডাকাতি, খুন ইত্যাদি করে এবং পরিণামে দুনিয়াতেই চরম অশান্তি ভোগ করে। এর একমাত্র কারণই হলো সহীহ ইলমের অভাব।
আল্লাহ মানুষ ও বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে তার নিজের দেহ ও দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নবী রাসূলের মাধ্যমে সহীহ জ্ঞান দিয়েছেন। এজন্য প্রথম মানুষটিকেও নবী হিসেবে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন যাতে সহীহ জ্ঞানের অভাবে কেউ বিপদে না পড়ে। রাসূল (সা.) এর নেতৃত্বে ইসলাম বিজয়ী হওয়ার পর জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রেই মুসলিমরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। এবং এই জ্ঞান বিজ্ঞানে তাদের প্রাধান্য থাকার কারণেই কয়েকশ’ বছর বিশ্বে কর্তৃত্বের আসনে ছিল তারা। কিন্তু যখন মুসলিম জাতি রাষ্ট্রক্ষমতাকে ভোগের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করলো এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে পাশ্চাত্যরা মুসলিমদের থেকেও এগিয়ে গেল তখন তারা জ্ঞানের প্রাধান্যের বলেই মুসলিম দেশগুলো দখল করে নিল। জ্ঞান ও ঈমানের জোরেই মুসলমানরা ৮০০ বছর স্পেন রাজত্ব করেছিল। খ্রিষ্টান বিশ্ব বুঝে গেল মুসলমানদের ইলম বা জ্ঞান থেকে পিছিয়ে দিতে না পারলে, জ্ঞানশূন্য না করতে পারলে এবং সেই সাথে ঈমান হারা না করলে তাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। তাই তারা স্পেনের উপর এক তা-বলীলা চালালো। তারা চক্রান্ত করে ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মুসলিমদের আটকে ফেলল। মুসলিমদের নীতি-নৈতিকতায় আঘাত হেনে ঈমানকে দুর্বল করে দিল সেই সাথে প্রত্যেক বাড়ি থেকে সমস্ত কিতাব, বই, গ্রন্থসমূহ একত্রিত করে তা জ্বালিয়ে দিল। সমস্ত আলেম-ইমামদের হত্যা করলো। মসজিদ, লাইব্রেরী, পাঠশালাগুলো পুড়িয়ে দিল। এভাবেই জ্ঞান ও ঈমান শূন্য করে দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনকে ধ্বংস করে দিল। স্পেনে কায়েম হলো খৃষ্টানদের আধিপত্য।
ঈমান ও ইল্ম একদিকে যেমন মুসলিমদের শান্তির উৎস ঠিক অপরদিকে বাতিলেরও এটিই ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। তাই রাসূল (সা.) ও জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান বিতরণের কাজকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েছেন। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে প্রতিপক্ষের ৭০ জন যোদ্ধা বন্দী হয়। তারা পড়ালেখা জানতো, মদীনাবাসী যা জানতো না। বন্দীদের মধ্যে মুক্তিপণ দেবার সামর্থ্য ছিল না, রাসূল (সা.) তাদের প্রত্যেকের নিকট মদীনার দশজন তরুণকে সোপর্দ করেন তাদের লেখা শেখানোর জন্য। এটাই ছিল তাদের মুক্তিপণ।
মদিনা থেকে আনসাররা যখন আকাবার বাইয়াতের পর মদীনায় ফিরতে লাগলো রাসূল (সা.) তাদের সাথে মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-কে পাঠান। আর তাকে বলেন- “মানুষকে কুরআন পড়াবে, ইসলামের তালিম দেবে এবং দ্বীনের বিধান শিক্ষা দেবে।” রাসূল (সা.) সবাইকে উৎসাহিত করে বলতেন- “জ্ঞান হারানো ধন। তাই যেখানেই পাও তা কুড়িয়ে নাও।” সেই সময় পুরুষ সাহাবীদের পাশাপাশি মহিলা সাহাবীরাও জ্ঞানার্জন সমান তালে আগাতে থাকেন। আয়েশা (রা.) বলেন- “আনসার মহিলারা সবচেয়ে ভালো মহিলা। দীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদেরকে বিরত রাখে না।”
পুরুষ সাহাবীদের পাশাপাশি মহিলা সাহাবীরাও অনেক হাদীস বর্ণনা করেন। হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মধ্যে হযরত আয়েশা (রা.)-এর স্থান ছিল অনেক উচ্চে। তিরমিযী শরীফের হাদীসে এসেছে-“ইসলামের একজন সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি শয়তানের কাছে হাজারো অজ্ঞ ইবাদতগুজারের চাইতে ভয়ঙ্কর।” জ্ঞানী ব্যক্তিকে শয়তানও ভয় পায়। তাই তো হযরত আলী (রা.)-কে দেখলে শয়তান উল্টাদিকে দৌড় দিত।
আল্লাহ সূরা তাওবার ১২২ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন-“তাদের প্রত্যেক দল বা গোত্র থেকে একটি অংশ বের হয় না কেন, যাতে করে তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসে, তখন যেন তারা সতর্ক করে।” ইল্ম অর্জনের গুরুত্ব, তাৎপর্য সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে হবে মুসলিম জাতিকে। আজও মুসলিম জাতি অহীর জ্ঞান ধারণ করার মাধ্যমে মানব সমাজকে বিজয়ী করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে। অতীতের মতোই রাষ্ট্রশক্তির অধিকারী হয়ে মানব জাতির নেতৃত্বের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যেতে পারবে। সেই সোনালী যুগের মানুষের মতো ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে তারাও সফল হতে পারবে। তাই মানবজাতির মধ্যে ওহীর জ্ঞানসমৃদ্ধ একদল মানুষ সকল যুগেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে তারা ওহীর জ্ঞানে আলোকিত না হলে মানব সমাজের কেমন দুর্দশা হয় আধুনিক বিশ্ব তার বাস্তব প্রমাণ। সেই সাথে সঠিক আমলের চর্চা ও মু’মিন জীবন গঠনের জন্য ওহীর জ্ঞান বা ইল্ম এর বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন কর। কারণ, জ্ঞানার্জন করা হলো আল্লাহভীতি, জ্ঞানের অনে¦ষণ হলো ইবাদত, পঠন-পাঠন হলো তাসবীহ পাঠ, গবেষণা হলো জিহাদ, শিক্ষাদান করা হলো সাদকা, উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য তা ব্যয় করা হলো নৈকট্য, সে একাকীত্বে সঙ্গী, নির্জনে বন্ধু, দ্বীনের ব্যাপারে পথ প্রদর্শক, স্বচ্ছতা ও অভাব অনটনে সাহায্যকারী, বন্ধুদের সাথে অবস্থানকালে মন্ত্রদাতা এবং ঘনিষ্ঠজনদের সাথে থাকার সময় অতি ঘনিষ্ঠ। এই জ্ঞান জান্নাতের পথের আলোকবর্তিকা। আল্লাহ এর দ্বারা বহু জাতিকে উন্নত করে এবং সত্য ও কল্যাণে তাদের নেতৃত্ব ও পথ প্রদর্শকের আসন দান করেন। ফলে কল্যাণের পথে জ্ঞানী ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা হয় এবং তাদের কর্ম ও আচরণ গভীরভাবে তাকিয়ে দেখা হয়। ফেরেশতাম-লী তাদেরকে ভালোবাসে এবং ডানা দিয়ে তাদেরকে স্পর্শ করে। সতেজ ও শুষ্ক সকল বস্তু তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি সাগরের সকল মাছ ও ডাঙ্গার হিংস্র ও গৃহপালিত জীবজন্তু এবং আকাশ ও তারাকারাজি তাদের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করে। এমনকি তারা বলে, এই জ্ঞান দ্বারাই আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদত করা হয়। এর দ্বারাই আল্লাহর একত্ব, মহত্ব ও মর্যাদা ঘোষণা করা হয়। এর দ্বারাই তাকওয়া, পরহেযগারী অবলম্বন করা হয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা হয়, হালাল হারাম চেনা যায়। জ্ঞান হলো ইমাম তুল্য, আমল হলো তার অনুসারী। সৌভাগ্যবানরা ঐশী প্রেরণের মাধ্যমে তা অর্জন করে আর হতভাগারা তা থেকে বঞ্চিত হয়।”
ইল্ম অর্জনকারীর মর্যাদা : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ও হাদীসেও ইলম অনে¦ষণের গুরুত্ব ও ইলম অর্জনকারীর মর্যাদা তুলে ধরেছেন।
রাসূল (সা.) বলেন, যেকোন মুসলিম আল্লাহ যা কিছু ফরয করেছেন তার একটি, দুইটি, তিনটি, চারটি অথবা পাঁচটি শিখবে এবং সেগুলো অন্যকে শেখাবে, বিনিময়ে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অনে¦ষণের উদ্দেশ্যে কিছু পথ অতিক্রম করে আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য থেকে কোন একটি ঘরে যখন কোন একটি সম্প্রদায় বা দল সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পর পাঠ করে শোনায় তখন ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে রাখে। তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করে। দয়া অনুগ্রহ তাদেরকে আচ্ছাদিত করে রাখে এবং আল্লাহ তার পাশে যারা আছেন তাদের সাথে এদের বিষয়ে আলোচনা করে।”
তিনি আরও বলেন, ফেরেশতাকুল শিক্ষার্থীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য নিজেদের ডানা মেলে দেয়, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলে, এমনকি পানির মধ্যে মাছও জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আবিদ ব্যক্তির উপর আলিম ব্যক্তির মর্যাদা এমন অত্যুজ্বল মর্যাদা। আলিমগণ আম্বিয়ায়ে কেরামের ওয়ারিছ তথা উত্তরাধীকারী। আর আম্বিয়াগণ উত্তরাধীকার হিসাবে দিনার দিরহাম ছেড়ে যাননি, তারা ইলম তথা জ্ঞান রেখে যান। যে তা গ্রহণ করবে সে পরিপূর্ণতা অর্জন করে।” অর্থাৎ ইলম অর্জনকারীর সবচেয়ে বড় মর্যাদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাতের উত্তরাধীকারী হওয়া।
রাসূল (সা.) বলেন, “দু’টি জিনিস ছাড়া আর কোন কিছুর জন্য ঈর্ষা করা ঠিক নয়। একজন মানুষ, আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং সঠিক পথে তা ব্যয় করার ক্ষমতাও দান করেছেন। আরেকজন মানুষ আল্লাহ যাকে জ্ঞান দিয়েছেন, তা দিয়ে সে সঠিক বিচার করে এবং সে জ্ঞান অন্যকে শেখায়।”
রাসূল (সা.) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাম-লী, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অধিবাসী, এমনকি গর্তে অবস্থানরত পিঁপড়ারা এবং মাছ পর্যন্ত মানুষকে সৎ ও কল্যাণের কথা শিক্ষাদানকারীদের জন্য অবশ্যই দোআ ও ইসতেগফার করে।” সুবহানআল্লাহ এই হাদীসের মাধ্যমেও জ্ঞানী ব্যক্তির অবস্থান ও মর্যাদা সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, “উত্তম সাদাকা হলো, একজন মানুষ কোন জ্ঞান শিখবে, এবং তা একজন মুসলিম ভাইকে শেখাবে।”
“রাসূল (সা.) মসজিদে অনুষ্ঠানরত দু’টি মজলিশের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। একটি মজলিশে আল্লাহর নিকট দুআ ইসতেগফার ও তার নিকট আশা-আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করা হচ্ছিল। আর অন্যটিতে চলছিল দ্বীনের বিধি বিধান শেখানোর কাজ। তিনি মন্তব্য করলেন, দু’টি মজলিশেই ভালো কাজ হচ্ছে। তবে একটি অপরটির চেয়ে বেশি ভাল। এই যে তারা আল্লাহর নিকট দুআ করছে, তার আশা-আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করছে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে দিতে পারেন। আর ইচ্ছা করলে নাও দিতে পারেন। আর এরা দ্বীনের ফিকহ ও ইল্ম শিখছে এবং মূর্খদের তা শেখাচ্ছে। এরাই উত্তম আর আমিতো মুআল্লিম বা শিক্ষক হিসাবে প্রেরণ হয়েছি। একথা বলে তিনি শেষোক্ত মজলিশে বসে পড়লেন।”
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। আর জ্ঞানের স্বার্থে মানসিক প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য আয়ত্ব কর এবং যার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করা হয় তার সামনে বিনয়ী হও।”
হযরত আলী (রা.) বলেন, জেনে রাখ মানুষ সৎকর্মশীল। প্রত্যেকটি মানুষের মর্যাদা তার ভালো কাজের মধ্যে। তোমরা জ্ঞানের বিষয়ে কথা বলো, তোমাদের মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
উপরোক্ত হাদীস এবং বর্ণনাগুলোতে খুবই চমৎকারভাবে একজন ইলম অনে¦ষণকারীর মর্যাদা, সম্মান, গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও মানুষের ভালোবাসা পেতে এবং সফল হতে সঠিক নিয়তে ইলম চর্চার ও আমলের বিকল্প নেই।
ইলম ও আমলের সম্পর্ক : ইলম ও আমল পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। ইলম ছাড়া যেমন আমল সঠিক ও পরিপূর্ণ হতে পারে না তেমনি আমলবিহীন ইলম ও কোন কল্যাণ আনতে পারে না। ইলমই আমলকে মজবুত করে, সঠিক রূপ দান করে এবং পূর্ণতায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। ইলম বিহীন আমল মাঝিবিহীন নৌকার মতো। মাঝিবিহীন নৌকা যেমন কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে কখনোও পৌঁছাতে পারে না এবং ডুবে যাওয়ারও শঙ্কা থাকে ঠিক ইল্মবিহীন আমলেরও ভবিষ্যৎ একই। উল্টো সেই আমল গ্রহণযোগ্য না হয়ে বরং আরও বেশি ভুলের মধ্যে ডুবিয়ে দিতে পারে। কুসংস্কার, শিরক, কুফরীর মতো গুনাহেও খুব সহজে লিপ্ত হতে পারে। হযরত উমার বিন আবদুল আযিয বলেন, যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) ছাড়া কাজ বা আমল করে সে যতটুকু ঠিক করে তারচেয়ে বেশি নষ্ট করে। তাই ইলম ও আমলের সমন্বয়েই ঈমান গঠন করতে হবে, গঠন করতে হবে মু’মিন জীবন। যার কোন বিকল্প নাই।
ইল্ম হলো ঈমান তথা বিশ্বাসের ভিত্তি : ইসলাম অনুমান ও ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে। আকীদা বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞান ও নিশ্চয়তা ছাড়া আন্দাজ অনুমানের কোন গুরুত্ব ইসলামে নেই। মানবজাতিকে চিন্তাভাবনায় উদ্বুদ্ধ করতে এবং অন্ধ আনুগত্য থেকে মুক্ত হবার জন্য আল্লাহ কুরআনে বহুবার বলেছেন-
তারা কি বুঝে না?
তারা কি চিন্তা করে না?
তারা কি দেখে না?
চিন্তা ভাবনা করা ইসলামে অপরিহার্য বিধান। ইসলাম মানুষের উপর আল্লাহর ইবাদত যেমন ফরয করেছে তেমনি ফরয করেছে চিন্তাভাবনা করাও। আল্লাহ সূরা সাবার ৪৬ নং আয়াতে বলেছেন-“বল, তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’ দু’জন অথবা এক একজন করে দাঁড়াও। তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখ।” সুতরাং আমরা বলতে পারি ইসলামে আকীদার বিষয়টি জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর কুরআনেও তার স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায়। কুরআনে সূরা হজ্জের ৫৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-“যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা যেন জানতে পারে যে, এ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত সত্য, অতঃপর তারা যেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন তার প্রতি আনুগত্য করে।”
অর্থাৎ সঠিক জ্ঞান মানুষকে ঈমানের দিকে আহ্বান জানায় এবং সেদিকে পথ দেখায়। সঠিক ইলম ঈমান বা প্রত্যয়ের সৃষ্টি করে। আর ঈমান মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি তৈরি করে। অর্থাৎ ইলম ও ঈমানের ফল হল: আল্লাহকে ভয় করা, আল্লাহর প্রতি বিনীত হওয়া। সূরা রূম এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন- “কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করছো।”
সত্য সঠিক জ্ঞান মানুষকে ঈমানের দিকে ধাবিত করে, আর সত্য সঠিক ঈমান জ্ঞানের ক্ষেত্রকে প্রশস্ত করে। তাই পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। তবে লক্ষ্যণীয় বর্তমান সময়ে আমরা যে প্রচলিত জ্ঞান বলতে যা বুঝি তা হলে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠিত বস্তুগত জ্ঞান। এই বস্তুগত জ্ঞান ও মানুষের জীবন পরিচালনায় প্রয়োজন। তবে কেবল এই জ্ঞান মানুষের জীবনকে আনন্দময় করতে সফল করতে ও মানুষের চলার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় না। মানুষের আত্ম অহমিকা, প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা, অন্যায় প্রতিরোধ করতে পারে না। এ কারণেই দ্বীনি ইল্ম একান্তই প্রয়োজন। এই জ্ঞান তার ঈমানকে সমৃদ্ধ করবে, সমস্ত অন্যায় থেকে তাকে হেফাযত করবে, সকল অনৈতিকতা থেকে মুক্ত রাখবে, সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বাঁচাবে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় ইল্মই ঈমান তথা বিশ্বাসের ভিত্তি।
ইল্ম হলো আমলের গাইড লাইন : ইল্ম একদিকে যেমন ঈমানের পথ প্রদর্শক ঠিক ইল্ম তথা জ্ঞান হলো আমলের গাইড লাইন। কথা ও কাজ শুদ্ধ হবার জন্য জ্ঞান থাকা শর্ত। জ্ঞান ছাড়া কথা ও কাজ গুরুত্বহীন। জ্ঞানই নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে, আমল বা কর্মকে শুদ্ধ করে। সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা ফাতিরের ২৮ নং আয়াতে বলেছেন- “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা আলিম তথা জ্ঞানী, তারাই তাঁকে ভয় করে।” অর্থাৎ জ্ঞানী ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে কারণ তারা আল্লাহর পরিচয়, ক্ষমতা, বিশালত্বকে সঠিকভাবে জেনে উপলব্ধি করে, আল্লাহর আদেশ, নির্দেশ, হালাল-হারাম সম্পর্কে তারা স্পষ্ট থাকে তাই প্রতিটা মুহূর্তে তাদের অন্তর আল্লাহভীতিতে নত থাকে। আল্লাহর আনুগত্যে সদা তৎপর থাকে। রাসূল (সা.) এক মজলিশে সূরা যিলযালের ৭ ও ৮ নং আয়াতটি পাঠ করছিলেন। কেউ সরিষা পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে এবং কেউ সরিষা পরিমাণ অসৎকর্ম করলেও সে তা দেখতে পাবে।”
সেই মজলিশে এক মরুবাসী বেদুঈন ছিল। সে আয়াতটি শুনলো আর বলে উঠলো “ইয়া রাসুল (সা.) সরিষা পরিমাণ? বললেন হ্যাঁ”। বেদুঈন বললো, হায়রে মন্দ কপাল। তারপর সে উঠে দাঁড়ালো এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে করতে চলে গেল। তখন রাসূল (সা.) বললেন, বেদুঈনের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেছে।
ইল্ম বা জ্ঞান যেমন সেই বেদুঈনের মধ্যে ঈমান তৈরি করেছে এবং তাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছে, সেই সাথে আমলের বা কাজের পথও বাতলে দিয়েছেÑ এভাবেই ইল্ম আমলকে গাইড করে। শুধু তাই নয়, ইল্মই বলে দেয় কোন আমল আগে সম্পন্ন করতে হবে, কোনটি বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য, কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল, কোনটি বিদআত। ইল্ম আমলের সীমা স্তরের মধ্যে পার্থক্য সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়। ইল্ম না থাকলে শরিয়ত পালনের ক্ষেত্রেও কখনও বেশি কঠোরতা চলে আসে আবার কখনো শিথিলতা প্রশ্রয় পায় আবার কখনো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হবার সুযোগ যেমন থাকে তেমনি গুরুত্বহীন আমলকেও অগ্রাধিকার দিয়ে ফেলে কখনো কখনো ফরজের চেয়েও নফল বেশি গুরুত্ব পায়। যেমন অনেক সময় দেখা যায় মসজিদ নির্মাণে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয় অথচ সমাজ থেকে কুফরী, নাস্তিকতা, অনৈতিকতা, অনৈসলামিক শক্তির মোকাবেলা বা ইসলাম প্রচারে আর্থিক সহযোগিতাতে গুরুত্বই দেয়া হয় না। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই মুসলমানদের মধ্যে ছোটখাট বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে অহেতুক মত পার্থক্য তেরি হয়, মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়, ঐক্য ভেঙ্গে যায়। তাই জ্ঞানের স্বল্পতা বা ঈমানী দুর্বলতা যেমন একদিকে ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করে তেমনি সামষ্টিক ঐক, সংহতি এবং মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করে, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যও বিচ্যুত ঘটায়।
উত্তম ইবাদত ও উত্তম আখলাকের শর্ত ইল্ম : ইবাদত সহীহ হওয়া, সঠিক হওয়া এবং উত্তম হবার শর্ত সঠিক ইল্ম থাকা। ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য, ইবাদতের ধরণ, প্রসেস সঠিকভাবে না জানা থাকলে সেই ইবাদত হবে ত্রুটিপূর্ণ। যা কখনোই কবুল হবে না। একদিন একব্যক্তিকে রাসূল (সা.) মসজিদে সালাত পড়তে দেখলেন। লোকটি খুব দ্রুততার সাথে রুকু সিজদা সঠিকভাবে আদায় না করে সালাত শেষ করলো। রাসূল (সা.) তখন তাকে বললেন, “যাও আবার সালাত আদায় কর, তুমি সালাত আদায় করোনি। কারণ তার সালাত ছিল ত্রুটিপূর্ণ তাই তা কবুল হয়নি।
রাসূল (সা.) বলেছেন-“ইলমের ফযীলত ইবাদতের ফযীলতের চেয়ে উত্তম।” আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন-“আবিদের উপর আলিমের মর্যাদা হলো নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মর্যাদার মতো।”
রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, “আবিদের উপর আলিমের মর্যাদার দৃষ্টান্ত হলো তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার মর্যাদার মত।” ইবাদতের উপর ইল্মকে গুরুত্ব ও মর্যাদা দেবার কারণ এই যে, কোন ব্যক্তি আমলের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচুর সওয়াব অর্জন করবে ঠিকই কিন্তু তার মৃত্যুর সাথে সাথে সেই আমল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ জ্ঞানী ব্যক্তির জীবনের অবসানে তার জ্ঞানের অবসান হবে না। এর ফলাফল যুগ থেকে যুগান্তরে যতদিন মানুষ চর্চা করবে ততদিন বিদ্যমান থাকবে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ