ঢাকা, মঙ্গলবার 27 February 2018, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ১০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একটি নিরপেক্ষ অনুভূতি

আসমা শিমুল : সমাজ, রাষ্ট্র্র, দেশ। পরাধীনতার বেড়াজাল তছনছ করা ৭১ এর স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ইস্যু, ঘটনা, দূর্ঘটনা, অর্জন আর লিখিত অলিখিত অজানা অনেক কিছুই ঘটছে চলছে চায়ের কাপে ঝড় ওঠা আলোচনা কখনো ঘরে-বাইরে কখনোবা লোকমুখে। বিরামহীমভাবে সূচনালগ্ন হতেই বারবার নজরে কুনজরে বন্ধুত্বের প্রলোভনে দেশ। কিন্তুরূপ-বৈচিত্র্য সম্পদ গৌরবে তারুণ্যের শক্তি, মেধা-মননশীলতা এমন হাজারো শৈল্পিকতা থাকা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়ানো বা প্রতিষ্ঠিত রূপে পৌঁছানো যেন সময়ের ব্যপারমাত্র।
পারছি কি আমরা সময়ের সাথে লক্ষ্যের দিকে যেতে? বাঁধা-প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা প্রেক্ষাপট ভেদে ভিন্নভিন্ন রূপে আসে-যায়। তবে? তবে যেন তেমন কিছুইনা! প্রয়োজন ৪১ বছর আগের, মাঝের ও পরের  “বাংলাদেশ-বিশ্লেষণ”। আবিষ্কার-অনাবিষ্কার, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, সাহস, বীরত্ব  গাঁথা অবশেষে জীবন দেয়া-নেয়া কি নেই দেশের ইতিহাসে! এতো বললাম ইতিহাসের কথা। ৪১ বছরের মধ্যবর্তী সময়ের অভ্যন্তরীণ রীতিনীতি, সংস্কৃতি, শাসন-প্রশাসন, পরিচালনা, নবীণ-প্রবীণের পদচারণা এখনও বর্তমান অর্থাৎ সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইতিহাসের পাতায় কি গত হতে যাচ্ছে তা শুধু সুশীল বা বুদ্ধিজীবীদের জন্য নয়, প্রত্যেক নাগরিকের ভাবনার বিষয়। কিন্তু কিভাবে সম্ভব নাগরিকেও যে বিভাজন! যেমন-সচেতন নাগরিক, নাগরিকত্ব পাওয়া শুধুই নাগরিক, সুবিধা বঞ্চিত নাগরিক । তবুও আমরা আশাবাদী। স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বোভৌমত্ব রক্ষার, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আর সকল বিভক্ত নাগরিকের দায়িত্ব নেয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলগণ দেশকে এগিয়ে নিতে আপ্রাণ ও আপন চেষ্টায়রত। তবে কিভাবে লেখনীতে তা আর স্থান নাইবা পেল। বিলবোর্ড, প্রচার-প্রচারনা, সভা বা সেমিনার, বক্তব্য সবতো আম জনতার জন্যই!!
২০১৮ সাল
দেশের জন্য আরেকটি স্মরণীয় বছর যা হতে পারে ইতিহাস রচনার খুব কাছাকাছি। মাঠে-ময়দানে ইশতেহার, বক্তব্য-বিবৃতিতে জনতার অধিকার, ক্ষমতা পাওয়ার উপায়-উপকরণ কাজে লাগাবার হিসাব-নিকাশই লক্ষণীয়। যাহোক ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ, কর্মজীবী, পেশাজীবী, প্রভাবশালী মহল ক্রমশোই সাময়িক নানা ইস্যুতে প্রতিনিয়ত সরগরম। গত কয়েক বছর যেভাবে সমাজ ও দেশের পরিবর্তন ঘটে চলেছে কি পেয়েছি আমরা?? শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, জান-মালের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, মৌলিক অধিকার হনন। মনে হচ্ছে আমরা অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছি।
প্রয়োজন হাল ধরার। বেহাল দশা হতে মুক্তি, চারদিকে আর্তনাদের অবসান। মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও দশের কল্যাণে এগিয়ে আসার যেন উপযুক্ত সময় এখনই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ