ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেটের জৈন্তাপুরে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ ॥ আহত অর্ধশতাধিক

 

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত এবং প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত ছাত্রের নাম মুজাম্মিল আলী। তিনি হরিপুর মাদরাসার ছাত্র। খবর পেয়ে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমবাড়িতে গত সোমবার সন্ধ্যায় আটরশি পীরের অনুসারীরা একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে ইসলাম বিরোধী কোন বক্তব্য দেয়া হয় কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য কওমীপন্থী স্থানীয় অপর একদল মুসল্লি সেখানে হাজির হন। ওয়াজ মাহফিল নিয়ে দু’পক্ষ লিপ্ত হয় তর্কাতর্কিতে। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে মাদরাসা ছাত্র মারা যাবার খবর পেয়ে হরিপুর বাজার মাদ্রাসা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক হলে রাত ২টায় ঘটনাস্থলে বিজিবি তলব করা হয়। সিলেট থেকে ছুটে যান র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা। তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জৈন্তাপুর থানার ওসি খান মোহাম্মদ ময়নুল জাকির একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি। সংঘর্ষের ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। পুরো এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সন্দীপ কুমার সিংহ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি বলে জানান জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- সোমবার রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলাবাজার আমবাড়ি এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে আটরশির অনুসারীরা। ওয়াজ চলাকালে রাত ১১টার দিকে হরিপুর মাদরাসার ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংঘর্ষ বৃহৎ আকার ধারণ। দু'পক্ষের হাজারো লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এলাকার অন্তত ৪০টি বাড়িঘর। এতে হরিপুর মাদ্রাসা ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন নিহত হন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেটে গর্ত ধস  

আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭

 জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে পাথর কোয়ারিতে গর্ত ধসে মাটি চাপায় পাঁচ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ৭ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গর্ত ধসে নিহত পাথর শ্রমিক আতাবুরের ছেলে নাছির মিয়া বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। গত রোববার রাত ১০ টার দিকে ভোলাগঞ্জের কালাইরাগে গর্ত করে পাথর তুলছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় মাটি ধসে পাঁচ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরো ৪/৫জন।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলী আমজাদ ছাড়াও ফয়জুর রহমান, আব্দুর রউফ, তানজির আহমদ (কনাই), কালা মিয়া, মাসুক মিয়া ও আব্দুস সাত্তারকে আসামি করা হয়। ধসে পড়া গর্ত আলী আমজাদের মালিকানাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার দায়েরের কথা জানিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিলীপ কান্তি নাথ জানান, ঘটনায় পরপর আটক কোয়ারির শ্রমিক সর্দার আব্দুর রউফকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ