ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতে পণ্য রফতানিতে অশুল্ক বাধাই প্রধান সমস্যা

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে পণ্য রফতানিতে শুল্ক সমস্যার চেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও বিদ্যমান অশুল্ক (নন টেরিফ) জটিলতা। এ কারণে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির সম্ভানা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বাণিজ্য  বৈষম্য না কমে তা বেড়েই চলেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা’ বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অফ বাংলাদেশ (আইবিএফবি) এবং ইন্ডিয়ান ইমপোর্টার্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইআইসিসিআই) যৌথভাবে আলোচিত সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হাফিজুর রহমান, আইবিএফবির সভাপতি এম হাফিজুর রহমান খান, সংগঠনটির পরিচালক এম এস সিদ্দিক, আইআইসিসিআই এর পরিচালক টি কে পান্ডে প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে আবিএফবি’র পরিচালক এম এস সিদ্দিকি ও আইআইসিসিআই এর পরিচালক টি. কে পান্ডে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
অবশ্য এ সেমিনারে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সবধরনের বাধা অপসারনের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। জল, স্থল, রেলপথ সহ দ্রত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ইতিমধ্যে কাজ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। সিলেট ও খুলনা জেলায় ভারতীয় হাইকমিশনের শাখা খোলা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।
 সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুল্ক সমস্যা কম থাকলেও বিদ্যমান নন টেরিফ জটিলতা এখন বাণিজ্যের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সনদ থাকা সত্ত্বেও ভারত অনেক পণ্য আটকে দিচ্ছে।
উদারহণ টেনে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা ভারতে টয়লেট পণ্য হিসেবে সাবান (সোপ) রফতানি করি। কিন্তু ভারতে কসমেটিকস পণ্য বলে সাবান আটকে দেয় এবং বেশ কিছু মান যাচাই করতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট অন্যদিকে খরচও বেড়ে যায়। ভারতে পণ্য রফতানিতে এ রকম শত শত নন টেরিফ বাধার মুখে ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, অনুন্নত যোগাযোগ ও অবকাঠামো সমস্যা দুই দেশের বাণিজ্যের প্রধান বাধা। তাই বাণিজ্য বাড়াতে অশুল্কগত বাধা দূর করতে হবে। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইন সংস্কার দরকার। ভারত সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। দু’দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধান করবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে আছে। এছাড়াও বাণিজ্য বাড়াতে বর্তমানে ২১টি বাংলাদেশি খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মান সনদে স্বীকৃতি দিয়েছে ভারত। আরও ছয়টি পণ্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
বানিজ্য মন্ত্রলায়ের যুগ্ম সচিব মো: হাফিজুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া এখন সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে বানিজ্য মন্ত্রনলায় কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ