ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুনতে অদ্ভুত হলেও সত্যি

জাফর ইকবাল : মানুষ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনেক কিছুই করে থাকে। তবে কিছু কিছু রয়ে যেগুলো মানুষ কর শখের বশে। এবারের আয়োজনে এমনই কিছু উল্লেখ করা হলো।
শখ করে কারাবাস : অপরাধের শাস্তি হিসেবে মানুষকে পাঠানো হয় কারাগারে। সেখানে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দুঃসহ ও মানবেতর জীবন কাটাতে হয় বন্দিদের। ফলে কেউই কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে চায় না। কিন্তু মালয়েশিয়ার দুই নাগরিক স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছেন! তাও আবার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে! শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে এমনটাই ঘটেছে। নং ইন উ এবং অন বং তেক নামের মালয়েশিয়ার দুই পর্যটক এক দিনে ৫০০ রুপি দিয়ে তেলেঙ্গানার ওই কারাগারে বন্দি হিসেবে কাটিয়েছেন।
১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারাগারটি ভারতের সবচেয়ে পুরাতন কারাগার। দুইশত বছরের পুরাতন এই কারাগারটিতে সাধারণ মানুষকে জেলের বন্দি জীবনের অনুভূতি পাইয়ে দিতে ‘ফিল দ্য জেল’ অর্থাৎ কারাগারের অভিজ্ঞতা নামক একটি উদ্যোগ নিয়েছে তেলেঙ্গানা জেলার কারা বিভাগ। অর্থাৎ পুরো একটা দিন কারাগারে অন্য কয়েদির মতোই সব অনুশাসন মেনে কাটাতে হবে আপনাকে। এক দিন কারাগারে থাকার জন্য ফি হিসেবে দিতে হয় ৫০০ রুপি। স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা ব্যক্তিদের কয়েদির পোশাক পরেই কাটাতে হয় কারাগারে। সেখানে কয়েদিদের জন্য বরাদ্দ খাবারই দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেউ চাইলে জেলে বন্দি থাকা অন্য কয়েদির সঙ্গে একই সেলে থাকার অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন।
ভূতের সঙ্গে বিয়ে : সাধারণত মানুষের সঙ্গে মানুষের বিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন ভূতের সঙ্গে মানুষের বিয়ের কথা। শুনতে উদ্ভট মনে হলেও সম্প্রতি এমনটাই ঘটেছে আয়ারল্যান্ডে। ভূতকে বিয়ে করেছেন দেশটির আমান্ডা তেগ নামের পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সি এক নারী। দীর্ঘদিন ধরে জীবন সঙ্গী খুঁজছিলেন আমান্ডা। অনেক খোঁজাখুজির পরও যখন মনের মতো কারো দেখা পাননি তখন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনশ বছর আগে মারা যাওয়া জ্যাক স্পারো নামের এক জলদস্যুর ভূতকে।
তবে ভূত বিয়ে করার সিদ্ধান্ত এক দিনে নেননি আমান্ডা তেগ। ঘটনার শুরু ২০১৪ সালের এক রাতে। প্রতিদিনের মতো আমান্ডা রাতের খাওয়া সেরে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তার পাশে কেউ একজন শুয়ে আছে। প্রথমে চমকে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেন যখন জ্যাকের আত্মা তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করে। এরপর গত চার বছর তারা চুটিয়ে প্রেম করেছেন, একে অপরকে জেনেছেন। কথাগুলো আমার আপনার কাছে বানানো কাহিনি মনে হলেও আমান্ডার কছে তা সত্য। আর দশটা নারীর মতো আমান্ডাও তার ভূত স্বামীকে নিয়ে দিব্যি সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করছেন। নিজের বিয়ে নিয়ে এক সংবদামধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে আমান্ডা বলেন, ‘সে আমার আত্মার আত্মীয়। তাকে নিয়ে আমি সুখে আছি। যারা অলৌকিক সম্পর্কে বিশ্বাস করেন না তাদের জন্য আমার এই বিয়ে একটা বার্তা।’
৮৩ বছর বয়সে বিয়ে : কোনো কোনো ব্যক্তির কাছে বয়স যে শুধুমাত্র একটা সংখ্যা সেটাই প্রমাণ করলেন ভারতের রাজস্থানের করুলি জেলার সুখরাম। বয়স আশির কোটায়। তাতে কী? এই বয়সেই আবারো বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। পাত্রী তার থেকে তেপ্পান্ন বছরের ছোট রামেশি দেবী। রাজস্থান রাজ্যের সমরাদা গ্রামে অনুষ্ঠিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠান জাঁকজমক করতে চাননি সুখরাম। অল্প কিছু গ্রামবাসীকে সাক্ষী রেখে বিয়ের পর্ব সেরেছেন। সুখরামের এটা দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের স্ত্রীর দুটি মেয়ে রয়েছে। একটি ছেলেও ছিল। তবে পনের বছর আগে এক দুর্ঘটনায় ছেলেটি মারা যায়। সুখরাম মনে করেন মেয়েরা সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য উপযুক্ত নয়। তার সারা জীবনের অর্জিত সম্পত্তি দেখার জন্য একটা ছেলে প্রয়োজন। ছেলের আশায় এই বয়সে আবারো ছাদনা তলায় বসলেন তিনি।
নিজের প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকার পরও দ্বিতীয় বিয়ে করে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল সুখরামের। কিন্তু তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে মত দেয়ায় আপাতত আইনি ঝামেলা থেকে নিস্তার পেয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় থানার সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি।  তবে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ