ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হিরুকাওয়ার রোবট

প্রযুক্তি খাতে উন্নততর কারিগরি দিক সংযোজনে নিয়োজিত দক্ষ প্রকৌশলীগণ শারীরিক দিক দিয়ে দুর্বল বয়োবৃদ্ধদের শয্যাত্যাগ, হুইল চেয়ারে বসতে সহায়ক রোবট প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মন দিয়েছেন। এসব রোবট প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হলে এগুলো প্রবীণদের তুলে নিয়ে বাথটাবে বসিয়ে দিতেও সক্ষম হবে (ছবিতে দেখুন তারই পরীক্ষা চলছে)।
তবে প্রবীণদের সহায়তা করা ছাড়াও এসব রোবটের ব্যবহার কীভাবে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগানো যায়- সে চিন্তাভাবনাও জাপান সরকারের আছে। এক্ষেত্রে এমন রোবট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে- যে রোবট কোন রোগী বা অসুস্থ লোকের বাথরুমে যাওয়ার কথা আগে থেকেই জেনে গিয়ে সে অনুযায়ী সেবা প্রদান করতে পারে। এ প্রসঙ্গে জাপানের এ্যাডভান্সড ইনডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স ও টেকনোলজির রোবট প্রযুক্তি গবেষণার পরিচালক ডক্টর হিরোহিশা হিরুকাওয়া বলেন, এসব রোবট প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে নার্স ও সেবিকাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া যারা বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীণ আশ্রয় কেন্দ্রে না গিয়ে নিজেদের বাসায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাদেরও বাসায় থাকা আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত হবে। হিরুকাওয়ার মতে রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না ঠিকই তবে এটি অনেক শারীরিক ও একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে বেশ সহায়ক হবে।
জানা গেছে, হিরুকাওয়ার গবেষণা কেন্দ্র নার্সিং সেবা প্রদানে সক্ষম এমন ৯৮টি রোবটিক প্রযুক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারী সহায়তা প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়। বিগত পাঁচ বছর যাবত এই প্রকল্পের সমন্বয়ে হিরুকাওয়ার প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে। তবে এ থেকে যেসব রোবট বেরিয়ে আসে তার সবই যে সেবাধর্মী কাজে লাগে তা নয়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক কাজে প্রয়োজন হয় ১৫টি প্রতিষ্ঠানের এমন রোবট প্রযুক্তিও বাজারে স্থান করে নিয়েছে।
হিরুকাওয়ার মতানুসারে, রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না ঠিকই তবে অনেক শারীরিক ও একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে বেশ সহায়ক হবে। তিনি বলেন, তাঁদের উদ্ভাবনী সেবাদানকারী রোবটের মাত্র ৮ শতাংশ জামানের নার্সিং হোমগুলোতে কাজে লাগানো হয়েছে। এত কম সংখ্যক রোবটের ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, মূলত দুটি কারণে রোবটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়নি। কারণ দুটো হল- প্রথমত, এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়সাপেক্ষ এবং দ্বিতীয়ত, সেবা গ্রহণকারীদের মানসিকতা। যেমন অনেকে যান্ত্রিক সেবা গ্রহণের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, বরং মানবিক গুণাবলি সচেতন হাতের মাধ্যমেই তাঁরা সেবা গ্রহণে বেশি আগ্রহী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ