ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদারীপুরে এক দিনমজুরের ৬মাস পর জামিন

মাদারীপুর সংবাদদাতা: নাম তার সোহেল খালাসী। পেশায় রাজমিস্ত্রি। প্রতিবেশী চাচীর সাথে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চাচীকে শ্লীলতাহানীর চেস্টার ঘটনার স্বীকারোক্তি আদায় করায় ঘটনাটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে না হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেলকে ২ বছরের সাজা প্রদান করে। ওই মামলায় ৬মাস জেল খেটে অবশেষে সোহেল গতকাল (মঙ্গলবার)অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এম এ হামিদের আদালত থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করেন। বাড়ি থেকে  গ্রেফতার করে পুলিশ মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করিয়েছে বলে অভিযোগ সোহেলের পিতার। মাদারীপুরের শিবচরের দত্তপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিধিসম্মতভাবে সাজা দেয়া হয়নি বিধায় মানবাধিকার লংঘন হয়েছে বলে আইনজ্ঞদের মতামত।
মামলার (মিস৪৩/১৭) অভিযোগে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ১৭ সকাল সাড়ে ১০টায় সোহেল তার প্রতিবেশী চাচী সাজেদা বেগমকে শ্লীলতাহানী চেস্টা করেছে এই অভিযোগে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো: মাজেদ আলী মন্ডল সোহেলকে পরদিন সন্ধা ৬টায় বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ক্রসফায়ারে ভয়  দেখিয়ে শ্লীলতাহানীর চেস্টার ঘটনার স্বীকারোক্তি আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও শিবচরের ইউএনও ইমরান আহমেদ এর কাছে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন রির্পোট দাখিল করে। তখন মোবাইল র্কোট সোহেলকে দন্ডবিধি ৩৫৪ ধারায় ২ বছরের সাজা প্রদান করে।
সোহেলের পিতা হাবিব খালাসী বলেন , আমাদের সাথে প্রতিবেশী সাজেদা বেগমের বাড়ীর জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধে থাকায় পুলিশকে ম্যানেজ করে সোহেলকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেয়।
মামলার আইনজীবী আলহাজ্ব মো: হাবিবুর রহমান বলেন, সাজাটি বিধিসম্মতভাবে না হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা জজ সোহেলকে জামিন প্রদান করে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী আবুল হাসান সোহেল বলেন, মোবাইল  কোর্টের ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে মোবাইল  কোর্টের সামনে কোন অপরাধ সংগঠিত ও উদঘাটিত হলে ওই ঘটনায় সাজা দেয়া বিধিসম্মত । এ মামলার বিবরণে তা দেখা যায় না । কেননা ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘটনা হলে ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৬টায় সোহেলকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পুলিশের প্রসিকিউশন রির্পোট দাখিল করা কোন ক্রমেই বিধিসম্মত হয়নি বিধায় সোহেলের মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে মনে করি।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, মোবাইল কোর্টের বিধান মতে কেবলমাত্র মোবাইল কোর্টের সামনে যেসব ঘটনা ঘটবে সেই ঘটনার সাজা দেয়া হবে। পুলিশ ফরোয়াডিং বা প্রসিকিউশন রির্পোটের ভিত্তিতে কোন সাজা দেয়ার সুযোগ নেই।যদি ওই মামলায় ঘটনা এরকম হয়ে থাকে তবে তা বেআইনী। যে ম্যাজিস্ট্রেট এটা করবে তার জন্য কেউ দায়ী হবেনা।তবে ঘটনার বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ