ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র ও সীলসহ চাকরিচ্যুত দুই সেনা সদস্য গ্রেফতার

খুলনা অফিস : খুলনায় সেনাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র ও সীলসহ দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফুলতলা উপজেলার আলকা চৌদ্দমাইল গ্রাম থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর কাপড়ের তৈরি ব্যাগে ভুয়া দু’টি নিয়োগপত্রের অপূরণকৃত ফরম, একটি সেনা নিয়োগের প্রশ্নপত্র ও নিয়োগ সংক্রান্ত ছয়টি সীল উদ্ধার করা হয়।  গ্রেফতারকৃতরা হলো, ফারুক হোসেন (৩০)। তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে এবং সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য (নং-৪৫০৬৯৬৩)। বর্তমানে তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বসবাস করেন। গ্রেফতারকৃত অপরজন হলো-সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত ল্যান্স নায়েক শরিফুল ইসলাম (৩৮) (নং-৪০২৬২৫৪)। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের মৃত খৈয়মুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী পৌরসভার উপশহরের গোলাম আলী টিপুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া।
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতরা গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ মৃধার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান মৃধা ও একই উপজেলার কাশালিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের ছেলে মো. আশ্রাব আলী মল্লিককে সেনা বাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার টাকা দেয়ার জন্য তাদের খুলনার ফুলতলা উপজেলার অলকা চৌদ্দমাইল এলাকার শহিদুলের হোটেলের সামনে আসতে বলা হয়। এ সময় পূর্ব থেকে অবস্থানরত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর কাপড়ের তৈরি ব্যাগে ভুয়া দু’টি নিয়োগপত্রের ফরম অপূরণকৃত, একটি সেনা নিয়োগের প্রশ্নপত্র ও নিয়োগ সংক্রান্তে ছয়টি সীল পাওয়া যায়। যার মধ্যে ব্রাঞ্চ রিক্রুটিং ইউনিট খুলনা সেনানিবাস, ব্রাঞ্চ রিক্রুটিং ইউনিট যশোর সেনানিবাস, মেজর অধিনায়ক বি,আর,ইউ, খুলনা, মেজর অধিনায়ক বি,আর,ইউ, রংপুর, মেজর অধিনায়ক বি,আর,ইউ, যশোর ও মেজর মেডিকেল অফিসার উল্লেখ ছিল।
এছাড়া তারা দবির উদ্দিন ও তানভীর নামে দু’জনকে যশোর কুইন্স হাসপাতাল থেকে রক্ত পরীক্ষা করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯ লাখ টাকা নিয়ে দু’টি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছে। এ ঘটনায় মো. হাবিবুর রহমান মৃধা বাদী হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিকদার আক্কাস আলী বলেন, গ্রেফতারকৃত ফারুক ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ময়মনসিংহ সেনানিবাস ৭ম বীর থেকে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ায় কোর্ট মার্শাল ল’তে এক বছরের সাজা ভোগ করে ২০১৭ ডিসেম্বর মাসে ছাড়া পায় এবং একই অভিযোগে ল্যান্স করপোরাল শরিফুল ২০১৬ সালে একই ভুয়া নিয়োগপত্র দানে বান্দরবান সেনানিবাস ৭ম বীর থেকে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে এক বছর সাজা ভোগ করে ছাড়া পায়। এছাড়া টাকা নিয়ে ভুয়া নিয়োগের বিষয়ে রাজশাহীতে আরও একটি মামলার কথা স্বীকার করে তারা।  তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা পরস্পর তাদের সহযোগী অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ