ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লোহাগাড়ায় আইন অমান্য করে ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি দেদারসে ব্যবহার চলছে

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : আইন অমান্য করে লোহাগাড়া উপজেলার ৫নং কলাউজান ইউনিয়নে ৪/৫নং ওয়ার্ডের আধা কিলোমিটারের মধ্যে ৪টি ইট ভাটায় ফসলি জমির উপরিভাগ অর্থাৎ টপসোয়েল নিয়ে ইট ভাটাগুলো চলছে। ফলে এলাকাবাসী নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে ফসলি জমির উপরিভাগ কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এতে জমির উবর্রতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এ কারণে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।
সরকার ফসলি জমির মাঁটি দিয়ে ইট তৈরী নিষিদ্ধ করেছেন। এজন্য আইনও করা হয়েছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর (১) ধারা অনুযায়ী ইট তৈরীর জন্য পাহাড়, টিলা ও কৃষি জমি থেকে মাটি নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। এ আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।
কৃষি সূত্র আরো জানায়, জমির উপরিভাগের ১২ থেকে ১৫ গজ মাটিরই উরর্বর থাকে। তাই উপর থেকে মাটি উরর্বতা শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিবিন্ন উপাদান থাকে। এগুলো গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদন জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে সেটি আর ফিরিয়ে আসে কম পক্ষে ১০/১৫ বছর সময় লাগবে। ইট ভাটার কাছাকাছি চাষিরা টাকার লোভে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তি জমি নিচু হয়ে গেলে অগত্যা উপর ওয়ালা জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ছাড়া ক্ষতিকর দিক গুলো হচ্ছে- ইট ভাটার মাটির ডেম্পার গুলো দূরত আসা যাওয়ার ফলে এলাকার প্রতিষ্ঠান সমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের নাকে হাত ছাপা দিয়ে স্কুল, মাদ্রাসায় আসতে হচ্ছে। অথচয় এলাকায় শাহ্ মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ্ মজিদিয়া কেজি স্কুল, খালাসী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহ মজিদিয়া এতিমখানা ও হেফজখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গুলো রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক চোটখাটো দূর্ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও খবরদারির অভাবে এলাকাবাসীকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনের বেলায় ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াতের সময় মাটি কাটার ডেম্পার গুলো বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ