ঢাকা, বুধবার 28 February 2018, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আর কত পুড়লে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি চালু হবে

বাঁশখালীর প্রায় ৮ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি

মোঃ আব্দুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে পৌরসভার দক্ষিণ জলদী বাজারস্থ এলাকায় ২০১০ সালের মার্চ মাসে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করলেও ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অপেক্ষিত ভাবে পড়ে আছে ভবনটি। অপর দিকে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের সহায় সম্ভল থেকে শুরু করে বাড়িঘর ও দোকানপাট।
ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি তাদের কার্যক্রম শুরু না করায় যখন আগুন লাগার ঘটনা ঘটে তখন পেকুয়া,সাতকানিয়া,আনোয়ারা পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি আসতে আসতে এখানে সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় জনসাধারণের প্রশ্ন বাঁশখালী উপজেলার অতিব জরুরী গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র ফায়ার সার্ভিসটি চালু হবে কবে?
বাঁশখালীতে প্রতিনিয়ত লেগেই আছে সংঘটিত অগ্নিকান্ড গুলো সাধারণ মানুষের নীরব দর্শকের মত চেয়ে থাকা ছাড়া কোন কিছু করার থাকে না। পার্শ্ববর্তী উপজেলা পেকুয়া অথবা সাতকানিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আসতে প্রায় ১-২ ঘন্টা চলে যায়। ইতিমধ্যে অগ্নিকান্ডে সর্বহারা নিঃস্ব হয়ে যায়। যার দরুণ প্রতি বছর অগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয় এই উপজেলাবাসীর । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকান্ডের সময় দুর্ঘটনাস্থলে সহযোগিতার জন্য পাড়া-প্রতিবেশীরা ঝাঁপিয়ে পড়লেও বেশির ভাগ সময়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। বছরের পর বছর ধরে অপ্রতিরোধ্য আগুনের লেলিহান শিখা এখানকার শত শত ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়েছে।
এই উপজেলায় সম্প্রতি পৌরসভার উত্তর ভাদালিয়া ১নং ওয়ার্ডের ফজর আলী তালুকদারের বাড়িতে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়। এই অগ্নিকান্ডে ২ বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে করে আগুন লাগার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশে পাশের এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ঘরের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় প্রবাসী মাওলানা হাফেজ তৈয়বের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হামিদা আক্তার (২৯) এর পুরো শরীর পুড়ে মারা যায় এবং তার বড় মেয়ে ৫ম শ্রেণীর সমাপনি পরীক্ষার্থী তানজিনা সোলতানা সাইমা(১২) ধোয়াঁয় অবরুদ্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এর আগে জালিয়াখালী নতুন বাজারে ৫টি দোকান পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আস্করিয়া পাড়া এলাকায় ভয়াভহ অগ্নিকান্ডে ৫ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় জনসাধারণ জানান।
উল্লেখ্য বছর গুলোতে দেখা যায়, বাহারছড়ার বশির উল্লাহ মিয়াজীর বাজার, পুইছড়ি প্রেমবাজার, নাপোড়া বাজার, ছনুয়া মনুমিয়াজীর বাজার, শেখেরখীল মৌলভী বাজার, চাম্বল বাজার, মনকিচর জালিয়াখালী নতুন বাজার, বড়ঘোনা সকাল বাজার, টাইমবাজার, উপজেলা সদর পৌরসভা,মিয়ার বাজার,জলদী হারুন বাজার, সরল বাজার, বৈলছড়ি কে.বি বাজার, কাথারিয়া বাজার, কালিপুর রামদাশ মুন্সির হাট, গুনাগরি চৌমহুনী, সাহেবের হাট, বানীগ্রাম বাজার, চৌধুরী হাট, খানখানাবাদ বাজার, পুকুরিয়া চৌমহুনীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিগত বছর গুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ফলে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল সহ দোকান পাট, বাণিজ্য কেন্দ্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও মৌখিক সহানুভূতি ছাড়া কর্তৃপক্ষ বা জনপ্রতিনিধিদের আর কোন ভূমিকা থাকে না।
বাঁশখালীতে প্রায় ৮ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালু না থাকায় নিমিষেই চোখের সামনে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারা প্রশাসনের কাছে শীঘ্রই বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের কাযক্রম চালু করার দাবী জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
এই ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, বাঁশখালীবাসী মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার পৌরসদর দারোগা বাজারস্থ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ভবন নির্মাণ করে ও আবার কাজও সমাপ্তি হয়েছে। আমি নিজেই ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে খুব শীঘ্রই তাদের কার্যক্রম শুরু করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব যাহা যথা সময়ে উদ্ভোধন হলে তাদের কার্যক্রম চলবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস কার্যক্রম চালু করার ব্যাপারে আলাপ হলে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, অর্থ ও পানি সম্পদ সম্পর্কীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য  মোস্তাফিজুর রহমান এমপি বলেন, এটা জরুরী ভিক্তিতে চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে আশা রাখি অল্প কিছু দিনের মধ্যে উক্ত ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনটি চালু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ