ঢাকা, বৃহস্পতিবার 1 March 2018, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ১২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রশ্ন ফাঁস রোধে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোগ

সংসদ রিপোর্টার : প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের পরামর্শে আগামীতে অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একটি বিচার বিভাগীয় এবং একটি প্রশাসনিক কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। নাহিদ বলেন, মাঠ পর্যায়ে ট্রেজারি-নিরাপত্তা হেফাজত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণ পর্যায়ে প্রায় ২৭ হাজার কর্মকর্তা শিক্ষক কর্মচারি নিয়োজিত থাকেন। এপর্যায়ে যে কোন একজন ব্যক্তির দ্বারাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি থেকে যায়। এ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তির ওপর নজরদারি নিশ্চিত করা অত্যক্ত দুরূহ ব্যাপার।
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির কারণে অযোগ্যরা জিপিএ পাচ্ছেন সরকারদলীয় এমপি নুরুল ইসলাম মিলনের এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল বুধবার সংসদকে তিনি এসব তথ্য জানান।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁস রোধে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন-মুদ্রুণ ও বিতরণের স্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিজি প্রেসে প্রশ্নপত্র মুদ্রণের সঙ্গে জড়িতদেরকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও ট্রাংকজাত করার সময় তদারকি দল গঠন, পরীক্ষার সময়সূচি ও পুন:নির্ধারণ করে দুটি বিষয়ের পরীক্ষার সময়ে ব্যাপ্তি কমিয়ে পরীক্ষার সময়কাল কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। এমনকি পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের সুবিধা সম্বলিত ঘড়ি, কলম যেকোন অনুমোদনবিহীন ইলেকট্রনিকস্ ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খোলার নির্দেশনা জারি করা হয়। তথাপি পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছু সময় আগে-পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ আসে।
মন্ত্রী জানান, সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ইতিমধ্যে ৫২টি মামলায় ১৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে উদ্ভূত অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামীতে অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাসমূকে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের পরামর্শে পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ কে এম রহমতুল্লার লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে মোট শিক্ষার্থীর ১ শতাংশের কম ছাত্র-ছাত্রী ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়া করছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, দেশে সর্বমোট ৩২৭টি সরকারি কলেজ রয়েছে। দেশের যেসব উপজেলায় কোন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই সেসব উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে। সে আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম চলছে।
গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১০ সালে সারাদেশে ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে। নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনিদিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ