ঢাকা, বৃহস্পতিবার 1 March 2018, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ১২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৫টি দুর্নীতির মামলা নিয়ে শপথ নেন

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত কারাবন্দী দেশনেত্রী এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খালেদা জিয়াকে সরকার প্রতিহিংসামূলকভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। সবাই সরকারের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দিয়ে সরকার নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে মন্তব্য করে তিনি বলেন, খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তরা জামিন পেলেও খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। অনেক খুনের আসামীর আপিল গ্রহণের সাথে সাথেই জামিন হচ্ছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিনে নথির কথা বলা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট এর সভাপতি ও এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোঃ রহমত উল্লাহ, ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক এম করিম খান, যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয়কারী মাওলানা শোয়েব আহমেদ, এনডিপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, নিপুন রায় চৌধুরী, স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড. কাজী মনিরুজ্জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম খানসহ প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সাবেক সেনা সরকারের সময় শুধু খালেদা জিয়া নয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলো সচল রাখা হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সরকার ১৫টি মামলা করেছে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন তার মাথার উপর ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিলো। কিন্তু সেগুলোকে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক নজরুল ইসলাম খান বলেন, দুই কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হলে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির জন্য কত বছর জেল হবে? শেয়ারবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারির জন্য কত বছর সাজা হবে? বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্যই এসব লুটেরা-দুর্নীতিবাজরা চায় বর্তমান সরকার আবারো ক্ষমতায় থাকুক।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আর সে দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় নেত্রী। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া সরকারে সব অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করেন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছেন তাই বর্তমান সরকারে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। মিথ্যা সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজানো দেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাবো। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটি ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে সরকার। কিন্তু তারা উপলদ্ধি করতে পারছে না দেশনেত্রী এখন সাধারন জনগণের কাছে মায়ে পরিণত হয়েছে। আর মায়ের জন্য সবাই রাজপথে নেমে আসবে। বিএনপি ও জোট সম্পর্কে বলেন, ১/১১ তে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং জোট ভেঙ্গে ছিল তাদের অনেকেই আত্মসমার্পণ করে বিএনপিতে ফিরে  এসেছে। বর্তমানে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।
সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ৮ই ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে আমরা এলডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহম্মেদ বীর বিক্রম এর নেতৃত্বে মাঠে আছি এবং থাকব। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভোটারবিহীন সরকার ষড়যন্ত্র করে সফল হবে না। বরং আগামী একাদশ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে আসল দূর্নীতিবাজদেরকে বিচারের মুখমুখি করা হবে। হাজার হাজার কোটি টাকা যারা লুটপাট করছে বাংলার জনগণ তাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দিবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ