ঢাকা, বৃহস্পতিবার 1 March 2018, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ১২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে ৬ জনকে যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরকে অপহরণের পর খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে ৬ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।  মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ জজ সৈয়দা  হোসনে আরা এই রায় দিয়েছেন। এছাড়া আরও এক আসামীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। একই রায়ে আদালত দন্ডিত প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন।  রায়ে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পিপি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, যাবজ্জীবন দন্ডিত আসামীদের সবাই পলাতক আছেন।  এরা হলেন, মাহবুবুল আলম, হাবিবুর রহমান, আমিনুল হক, মিলন বড়ুয়া, আবুল কাশেম এবং নূরুল আলম। দন্ডিত আরেক আসামী সমীর দাশকে রায়  ঘোষণার পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।  খালাস  পেয়েছেন ইউনূস, আবু সৈয়দ, মনির ও  সেলিম নামে চার আসামী। পিপি জানান, ১৯৯১ সালের ২১ জুন পটিয়া উপজেলার ছত্তরপিটুয়া গ্রামের দিলীপ বড়ুয়ার ছেলে সুভাষ বড়ুয়া (১৬) নিজ ঘর থেকে অপহরণের শিকার হন।  ওইবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী সুভাষকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ঘরে ঢুকে অপহরণের পর তার বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় সুভাষের বাবা দিলীপ বড়ুয়া বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুজনকে  গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে  বেরিয়ে আসে, সুভাষকে অপহরণের পর হাইদগাঁও পাহাড়ে নিয়ে খুন করে লাশ পুঁতে ফেলা হয়েছে।  সুভাষের মরদেহ পরবর্তীতে আর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পিপি জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশ পরবর্তীতে ১১ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  অভিযোগ গঠনের পর ১০ জনের সাক্ষ্য  শেষে এই রায় এসেছে।
মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায়
কাভার্ডভ্যান চালক ও ব্যবসায়ী নিহত
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার  রাত ২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়দারোগারহাট ও সকালে মুরারীপুর গ্রামের রাস্তার মুখে সড়ক দুর্ঘটনা দু’টি ঘটে। বড়দারোগারহাট এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর এক পর্যায়ে চট্টগ্রামমুখী কাভার্ডভ্যান চালক মো. একরাম (২৫) সামনে থাকা একটি গাড়ির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে একরাম নিহত হয়। সে চালকের সহকারী (হেলফার) বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গাড়ির চালক রঞ্জু (২৮) আহত হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় দোকানে যাওয়ার সময় উপজেলার মুরারীপুর গ্রামের রাস্তার মুখে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্বপন কুমার দাশ (৫০) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। উপজেলার মিঠাছরা বাজারে মা মেডিকেল হল নামে তাদের একটি ফামের্সি আছে। তিনি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর গ্রামের মৃত সুজিত চন্দ্র দাশের ছেলে। স্বপন কুমার দাশের ১ ছেলে রয়েছে।
মিরসরাই হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এসআই একরামুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী একটি কাভার্ডভ্যান অজ্ঞাতনামা আরেকটি গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে ঘটনাস্থলেই মারা যান সহকারী একরাম। আহত হন একই গাড়ির চালকও। পরে তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই হাসপাতালে পাঠানো হয়। কাভার্ডভ্যান সহকারী চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় উপজেলার মুরারীপুর গ্রামের রাস্তার মুখে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় মিরসরাইমুখী একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মিঠাছরা বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন কুমার দাশ (৫০) ঘটনাস্থলে নিহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ