ঢাকা, বৃহস্পতিবার 1 March 2018, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ১২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসি’র দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা : একজন কারাগারে

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের শওকত হোসেন শেখের ছেলে মো. হাবিবুর রহমানকে সড়ক ও জনপদ বিভাগে চাকুরি প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে ছয় লাখ টাকা আত্মসাত করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দুই জন কর্মচারী। এ ঘটনায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে (নং-১৮৭/১৭)। মামলার প্রধান অভিযুক্ত রূপসা তালিমপুরের গৌরপদ দাসের ছেলে কেসিসি’র কর্মচারী (এমএলএসএস) দিপু দাস (৩৫) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর অভিযুক্ত কেসিসি’র কর্মচারী লক্ষ্মী রানী দাস (৫০) গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের শওকত হোসেন শেখের ছেলে মো. হাবিবুর রহমানকে সড়ক ও জনপদ বিভাগে চাকুরি প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে ছয় লাখ টাকা নেয় লক্ষ্মী রানী দাস ও দিপু দাস। জমি বিক্রি করে সন্তানের চাকুরির আশায় অসহায় পরিবারটি কেসিসির দু’জন কর্মচারীর হাতে টাকা তুলে দেন। এক পর্যায়ে গত বছরের ১লা আগস্ট তারা চাকুরির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে চাপ দেয়। কিন্তু এরা দু’জন টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় শওকত হোসেন শেখের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার পলাতক আসামি দিপু দাস আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল হোসেন নামঞ্জুর করেন। তিনি বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে রেয়েছেন।
এনজিও কর্মকর্তা গ্রেফতার
খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন মরিয়মপাড়ায় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে অপু রঞ্জন মন্ডল (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি একজন সাবেক এনজিও কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে সোমবার রাতে খুলনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন ধর্ষিত ওই নারী।
খুলনা সদর থানার এসআই ইকবাল জানান, নগরীর সদর থানাধীন মরিয়মপাড়ার বাসিন্দা এক নারী (৩২) অপু রঞ্জর মন্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে সদর থানায় মামলা করেন। মামলা নং-৪০। অভিযোগে তিনি জানান, অপু রঞ্জন মন্ডল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে শারিরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। বিয়ে করতে বললে অপু রঞ্জন মন্ডল টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলে ভুয়া একটি কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে অপু তার কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। মামলা দায়েরের পর অভিযোগকারিনীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার একটি পার্ক থেকে অপু রঞ্জন মন্ডলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অপু রঞ্জন মন্ডল বিবাহিত এবং বাগেরহাট জেলার মংলা থানাধীন চিলা গ্রামের অনিমেশ মন্ডলের ছেলে। ইতোপূর্বে খুলনায় তিনি একটি এনজিওতে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করতেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অতি সম্প্রতি তিনি মংলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন বলেন, ধর্ষিতা নারী নিজেই বাদী হয়ে সোমবার রাতে অপুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ