ঢাকা, শুক্রবার 2 March 2018, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যেনতেন নির্বাচন করতেই খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের কারাগারে নিচ্ছে সরকার --মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : যেনতেন একটা নির্বাচন করতেই খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাগারে নিচ্ছে সরকার এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বক্তব্যে নয়, সবাই এখন অ্যাকশন দেখতে চায়। কেন না ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার দেশের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক অধিকার মঞ্চ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান  অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বক্তব্য দিতেও ইচ্ছে করে না। আর মনে হয়, কারো শুনতেও ইচ্ছে করে না। কারণ সবাই এখন কাজ করতে চায়। সবাই অ্যাকশন চায়। দেশনেত্রীকে বের করে আনতে হবে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সকল কারাবন্দী নেতাদের বের করে আনতে হবে। এটাই সারা দেশের মানুষ চায়।

খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রীকে শুধু অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়নি। বরং তার যে নৈতিক অধিকার জামিন পাওয়া, সেটা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি দুর্নীতিপয়ারণ দল- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ কথা বলার আগে তো আয়নায় নিজের মুখ দেখতে হবে। বলার আগে, মানুষ আপনাদের সম্পর্কে কি বলে, সেটা জানতে হবে। 

প্রসঙ্গত, বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপিকে দুর্নীতিপরায়ণ দল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের (নেতাকর্মীদের) সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দানবকে (সরকার) পরাজিত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু আপত্তিকর কথা বলেছেন। একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (বিএনপি) যা প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, যে দল বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছে, সেই দলটিকে তিনি বললেন দুর্নীতিপরায়ণ দল।

অনুষ্ঠানে ফখরুল বলেন, সাংবাদিক এ বি এম মুসা বলে গিয়েছিলেন যে, আওয়ামী লীগ দেখলেই বলবা চোর। বদরউদ্দিন ওমর সাহেব কয়েকদিন আগে কলকাতার এয়ারপোর্টে একেবারে নাম ধরে বলেছেন চোর। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। দেশের মানুষ খুব ভালো করে জানে, কারা দুর্নীতি করছে, কারা দুর্নীতি করছে না।

দেশের মানুষের ভোটের ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব  যে দানব আজ চেপে বসেছে, তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরাজিত করতে হবে।

যেনতেন নির্বাচন করতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে নিচ্ছে সরকার এই অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীর নামে চারটি মামলা। আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল পনোরটা। ১৫টি মামলা তুলে নিয়ে এই চারটি রেখে দিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া সাত হাজার মামলা তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের মামলা বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৮ হাজার। আসামির সংখ্যা একমাস আগে পর্যন্ত ছিল ১৮ লাখের ওপরে। গোটা কারাগার ভরে গিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীতে।

আমাদের কাজ এখন খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্ত করে আনা। আরেকদিকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করার সংগ্রাম। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই দানব সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা কার কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইব? যারা দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের জোরে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। আমরা তাই কারো কাছে বিচার চাই না। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে আনব। 

প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ