ঢাকা, শুক্রবার 2 March 2018, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টাকা দেয়ার অঙ্গীকারে  রোববার পর্যন্ত সময় পেলো রবি

 

স্টাফ রিপোর্টার : আদালতের আদেশ বিপক্ষে যাওয়ার পর আগামী রোববারের মধ্যে ফাঁকি দেয়া করের প্রায় ১৯ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছে মোবাইল অপারেটর রবি। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রবির সব অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

বৃহস্পতিবার সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়, এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব অপরিচালনযোগ্য (ফ্রিজ) করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। তখন রবি’র পক্ষে অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়, অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি পাওনা পরিশোধ করবে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব পরিচালনযোগ্য (আনফ্রিজ) করার অনুরোধ করা হলো।

এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিউ)-কর কমিশনার মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আগামী রবিবারের মধ্যে ফাঁকি দেওয়া প্রায় ১৯ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছে মোবাইল অপারেটর রবি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব পরিচালনযোগ্য (আনফ্রিজ) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তারা (রবি) যদি রবিবারের কর্মদিবসের মধ্যে সব টাকা পরিশোধ না করে তাহলে সোমবার থেকে আবারও রবির সব অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, রবি যখন বুঝতে পেরেছে যে আইনি লড়াইয়ে আর পারবে না, তখনই টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। আমাদের কাজ সরকারের রাজস্ব আদায় করা; সে কাজটিই আমরা করছি।

মতিউর রহমান বলেন, রবির সিইও আমাকে বিদেশ থেকে এসএমএস করে বলেছেন, যে রাজস্ব পাওনা রয়েছে তা দ্রুতই সমাধান করা হবে। এছাড়া সিএফও আমাকে চিঠি পাঠিয়েছেন, আজকে ব্যাংক হিসাব খুলে দিলে তারা রবিবার টাকা দিয়ে দিবেন।

জানা গেছে, রবি অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক, স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত ভ্যাট, কম প্রদর্শিত সিমের ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট এবং বিটিসিএল-কে প্রদত্ত সেবার ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ মোট ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কর ফাঁকি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ১৯ কোটি টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে রবির অ্যাকাউন্ট তিন দিনের জন্য জব্দ রাখতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সব ব্যাংকে চিঠি পাঠায় এনবিআর।

 সেখানে বলা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি একজন অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে রাজস্ব বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল রবির করপোরেট অফিস পরিদর্শন করে। সে সময় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির সবশেষ আর্থিক বিবরণী এবং সিম বিক্রির কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়।

 সেই কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রবি অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক, স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত ভ্যাট, কম প্রদর্শিত সিমের ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট এবং বিটিসিএল-কে প্রদত্ত সেবার ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ মোট ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কর ফাঁকি দিয়েছে।

এনবিআরের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে রবি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৭ ফেব্রুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন। এনবিআর ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আদেশ তিন দিনের জন্য স্থগিত করে দেয়। ফলে ব্যাংক আকাউন্ট বন্ধের নির্দেশনাই বহাল থাকে।

অবশ্য রবি এর আগে দাবি করেছিল, কর ফাঁকির কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাদের সঙ্গে ‘দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে’ এনবিআর অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। 

এর আগে প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রবিকে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছিল এনবিআর।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ