ঢাকা, শুক্রবার 2 March 2018, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

 

সংগ্রাম ডেস্ক : সতের কোটি মানুষের বাংলাদেশে কৃষি জমি যে বাড়ছে না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিডিনিউজ

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, দেশের লোকসংখ্যা বাড়তেই থাকবে। সেই সঙ্গে খাদ্যের উৎপাদনও বাড়াতে হবে। কিন্তু জমির পরিমাণ ঠিক সেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ কারণে তিনি কৃষি গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পিত শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা নির্দেশ দিয়েছি দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমি কোনোভাবেই এ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অন্য জমিগুলোতে আমরা শিল্পায়ন থেকে শুরু করে যা যা করার করব। এটা আমাদের পরিবল্পিতভাবে করতে হবে।”

খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০০৫-০৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের উৎপাদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে যেখানে ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা প্রায় তিন কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে ১৪২৩ বঙ্গাব্দের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করতে ১৯৭৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিল’ গঠন করা হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর এ পুরস্কার বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

২০০৯ সালে পুনরায় এ পুরস্কার চালু করা হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬’ করে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়। বর্তমানে ওই ট্রাস্টের অধীনেই এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

এর আওতায় প্রতিবছর পাঁচজনকে স্বর্ণ, নয় জনকে রৌপ্য এবং ১৮ জনকে ব্রোঞ্জ দেয়া হয়। ২৫ গ্রাম ওজনের পদকের সঙ্গে স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা এক লাখ টাকা, রৌপ্যপদকপ্রাপ্তরা ৫০ হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জপদকপ্রাপ্তরা ২৫ হাজার টাকা পান। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপনের জন্য পাবনা থেকে সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন ও ভোলার নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এবার কৃষি সম্প্রসারণে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।

কৃষি গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ড. রাখহরি সরকার এবং কৃষি সম্প্রসারণে কিশোরগঞ্জে মো. আমিনুল ইসলাম এ পদক পেয়েছেন। মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে অবদানের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরকে স্বর্ণপদক দেয়া হয়েছে এবার। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে অবদানের জন্য কৃষি গবেষণায় রৌপ্য পদক পেয়েছে গোল্ডেন বার্ন কিংডম প্রাইভেট লিমিটেড।

কৃষিতে নারীদের অবদানের জন্য খুলনার বেগম সালেহা ইকবাল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ময়মনসিংহের মো. সেলিম রেজা, কৃষি সম্প্রসারণে কুমিল্লার মোসাম্মত সুলতানা ইয়াসমিন ও ঝিনাইদহের ড. খান মো. মনিরুজ্জামান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষে ঝিনাইদহের বেগম লাভলী ইয়াসমিন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গবাদিপশু পালন ও খামার প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন হায়দার, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি চাষে সাফল্যের জন্য নওগাঁর সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপনে ঢাকার সাখাওয়াত হোসেন রৌপ্য পদক পেয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আবদুল কাদির ও কুষ্টিয়ার মো. বকুল হোসেন; উচ্চমানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণে মানিকগঞ্জের মো. আমজাদ হোসেন,  কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারে টাঙ্গাইলের মো. শহিদুল ইসলাম খান ও জামালপুরের শেখ মো. মুজাহিদ নোমানী; পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে কিশোরগঞ্জের মো. নিজাম উদ্দিন; কৃষিতে নারীর অবদানের জন্য শিখা রানী চক্রবর্তী ও যশোরের বেগম ফারহানা ইয়াসমিন; বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপনের জন্য পিরোজপুরের শেখ হুমায়ুন কবির, মাগুরার মো. বাবুল আক্তার, ঠাকুরগাঁওয়ের মো. মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ও ঝালকাঠির মো. মাহফুজুর রহমান; বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপনের জন্য বান্দরবানের সিংপাত ¤্রাে এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষের জন্য কুমিল্লার ছারোয়ার আলম মজুমদার বাবুল ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন।

এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণে নীলফামারীর মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে রংপুরের ময়েনপুর কৃষি তথ্যও যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক বনায়নের জন্য কুষ্টিয়ার চিথলিয়া সিআইজি (ফসল) সমবায় সমিতি লিমিটেড ও রাজশাহীর বরেন্দ্র গালিজ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে।

এ নিয়ে ৩১ বারে মোট ১০৭৩ জনকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার দেয়া হল।

কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ