ঢাকা, শুক্রবার 2 March 2018, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তদন্ত প্রতিবেদন দেখে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ...........স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

 

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে ২০১৮’ উপলক্ষে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

এক নারী অভিযোগ করেছেন, পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের কাছে বাসা থেকে তাকে কৌশলে গত বছরের জুলাই মাসে তুলে নিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা মিজান। পরে বেইলি রোডের বাসায় নিয়ে তিনদিন আটকে রাখেন। এরপর বগুড়া থেকে তার মাকে ১৭ জুলাই ডেকে আনা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা কাবিননামায় মিজানকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে লালমাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখেন মিজান। অথচ মিজান পূর্ব-বিবাহিত।

ওই নারী আরও জানান, কয়েক মাস কোনো সমস্যা না হলেও ফেসবুকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি ছবি তোলার পর ক্ষেপে যান মিজান। বাড়ি ভাঙচুরের একটি মামলায় তাকে গত ১২ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর মিথ্যা কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আরেকটি মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়। দুটি মামলায় জামিনে বেরিয়ে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তা মিজানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন ওই নারী।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। পরে ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি কমিটি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরেশী এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এসপি মিয়া মাসুদ হোসেন। অভিযোগ ওঠার পরপরই ডিআইজি মিজানকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিআইজি মিজানের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা হয়েছে। এখন তার শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ করে প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ প্রতিবেদন দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিআইজি মিজানের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা হয়েছে। এখন তাঁর শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ করে প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সহযোগিতা করবো - আইজিপি

নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের উদ্দেশ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, 'আপনাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, তবে এই পরিবারগুলোকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করবো। যদি আপনাদের পরিবারে উপযুক্ত কেউ থাকে, তবে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাহিনীতে চাকরি দিতে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করবো।' গতকাল ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে -২০১৮' অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী ১৩০ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘গত বছর আমরা ১৩০ জন পুলিশ সদস্যকে হারিয়েছি, যারা কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ আমার সামনে বসে আছেন। আমরা আপনাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, জানি। তবে সব সময় আপনাদের পাশে আমরা আছি, আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সঙ্গে থাকবো।’ তিনি বলেন, ‘হয়তো সব চাহিদা মেটাতে পারবো না, তবে আমাদের সাধ্যমতো যা করণীয় অবশ্যই আমরা সেটুকু করবো।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, “গত বছর থেকে এই দিনটি আমরা ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ হিসেবে পালন করে আসছি। সারাদেশের প্রতিটি জেলায় এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আমাদের একজন সহকর্মী বলছিলেন, ‘এ ধরনের দিবস না পালন করতে হলে খুবই ভালো হতো।’ আমিও মনে করি এটা।” ‘তবে পৃথিবীতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হচ্ছে পুলিশিং। এই পেশায় যত মানুষ মারা যান, অন্য কোনও পেশায় এত মৃত্যু হয় না', যোগ করেন তিনি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের জন্মই হয়েছে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পুলিশ বাহিনী ৪৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অপরাধ দমন ও দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।’

 দেশে জঙ্গি দমনে পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে ১৩০ জন মা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন, সম্ভবত ১৩০ জন নারী স্বামীহারা হয়েছেন, কয়েকশ’ সন্তান পিতৃহারা হয়েছে।’

 বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আপনাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দিতে পারবো না, তবে আপনারা প্রত্যেকেই তাদের জন্য গর্ববোধ করতে পারেন।’ বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য কাজ করেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই শহীদের মিছিল বাড়ছে, বড় হচ্ছে। আমি মনে করি, এর জন্য পুলিশের সুরক্ষার জন্য ভালো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যদি কোনও দুর্ঘটনা হয়, তবে ওই সদস্যকে পোস্ট-হসপিটালিটি কতটা উন্নত ও আধুনিকভাবে করা যায়, সেটি করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখার সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড প্লানিং ডিআইজি এ কে এম শহীদুর রহমান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ