ঢাকা, শনিবার 3 March 2018, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৪ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ওষুধবণিকদের অনাকাক্সিক্ষত মানসিকতা

সবকিছুতে বণিকমানসিতা অনাকাক্সিক্ষত। ওষুধ উৎপাদনকারী এবং এর ব্যবসায়ীদের বণিকমানসিকতাই অনেক সময় ওষুধের বাজার অস্থির করে তোলে। ওষুধ এমন একটি পণ্য যা মানুষের বিপদের সময় প্রয়োজন পড়ে। ওষুধকে তাই  জীবনরক্ষাকারী পণ্যরূপেও গণ্য করা হয়। ওষুধ কেউ সখ করে কেনেন না। মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসক তখন প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন রোগ নিরাময়ের জন্য। কিন্তু অগ্নিমূল্যের জন্য অনেকেই ভালো ওষুধ কিনতে ব্যর্থ হন। অবশ্য যারা অঢেল অর্থবিত্তের অধিকারী তাদের বেশিরভাগই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান। অসুবিধে হয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের। তারা না যেতে পারেন ভালো চিকিৎসকের কাছে, না কিনতে পারেন প্রয়োজনীয় ওষুধ অধিক মূল্য দিয়ে। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোতো তাদের জন্য কল্পনার বাইরে। দেশের সরকারি হাসপাতালই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেখানেও দালালের দাপট ও নানা প্রতারণার ফাঁদ পাতা থাকে। কাজেই গরিবের জন্য সুচিকিৎসা কল্পনা মাত্র।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এনটিভি’র সান্ধ্যকালীন নিউজ বুলেটিনে জানানো হয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম হুহু করে বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শ্বাসকষ্টের রোগীদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ইনহেলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বেড়েছে অন্যান্য ওষুধের দামও। উৎপাদকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাঁচামালের আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়াতে ওষুধের উৎপাদনব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদকরা অবশ্য ওষুধের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির জন্য প্রায়শই আমদানিকারকদের দায়ী করেন। আর আমদানিকারকরা বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা। অর্থাৎ অজুহাত বের করতে তাদের তেমন অসুবিধে নেই। আসলে ওষুধ হচ্ছে সেবামূলক শিল্প। কিন্তু যাদের হাতে এশিল্পের চাবিকাঠি তাদের সেবামূলক মানসিকতার তীব্র অভাব। তারা দেখেন কেবল অর্থ রোজগারের দিকটা। গরিবের সামর্থ বিবেচনার অবকাশ তাদের আদৌ নেই।
ওষুধশিল্প একটি খুব জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশে উৎপন্ন অনেক ওষুধ বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এতেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে দেশ। উৎপাদকরাও লাভবান হচ্ছেন। তাই দেশে বিক্রিতে ছাড় কিছুটা হলেও দিতে পারেন তারা। কিন্তু যেহারে ওষুধের মূল্য বাড়ছে তাতে উৎপাদকদের বণিকমানসিকতাই প্রকটতর হচ্ছে। এমন মানসিকতা অব্যাহত থাকলে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্তের পক্ষে ওষুধ কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। এছাড়া অধিক মূল্য দিয়েও মানসম্পন্ন ওষুধ পাওয়া যাবে তারও কিন্তু নিশ্চয়তা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন ওষুধ আমদানি করে বিক্রি করবার অভিযোগও রয়েছে অনেক কোম্পানির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি র‌্যাব অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন বিদেশি ওষুধ জব্দ করেছে। অতএব ওষুধবণিকদের হীন ও অনাকাক্সিক্ষত মানসিকতা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি রুখে দিতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ