ঢাকা, রোববার 4 March 2018, ২০ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুর উপজেলায় বিলুপ্তপ্রায় শিমুল গাছে বসন্তের আগুন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : বসন্তের রঙে রঙীন শিমুল গাছ

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : গ্রাম বাংলার শিমুল গাছ দেখা যায়। শিমুল গাছ বা শিমুল ফুল চেনে না এমন লোক অনেক কম আছে। শিমুল গাছের ইংরেজি নাম ঝরষশ ঈড়ঃঃড়হ। এটি উচচতা ১৫ থেকে ২০ মিটার। শিমুল গাছ ছোট ছোট কাটাযুক্ত। শিমুল কাছের ফুল খুবই প্রসিদ্ধ আমাদের দেশে। শিমুল গাছ থেকে তুলাও হয়।

৮-১০ বছর আগেও শাহজাদপুর উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ীর আনাচে কানাচে প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। বিশেষ করে ফাল্গুন মাসে শিমুল গাছের নয়নাভিরাম ফুলই জানান দিত কোন এলাকায় শিমুল গাছ আছে। সেই সাথে গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুল বাঙালীকে স্মরণ করিয়ে দিত বসন্ত কালের কথা। দিগন্ত বিস্তৃত গ্রামে লাল শাড়ী পড়ে মাথা উঁচু করে দূরের পথিককে হাতছানী দিত এই শিমুল গাছ। রক্ত লাল শিমুল ফুল রূপ বসন্তের শোভাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।  কিন্তু এখন আর সেই কান্তিক শিমুল গাছ তেমন একটা চোখে পড়ে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে, বেতকান্দী বাজারের পশ্চিমে, ডায়া জামসেদ আমীনের বাড়ীর সামনে, বেড়াকুচাটিয়া, নন্দলালপুর, পুঠিয়া, নগরডালা, রতনকান্দী, বাড়াবিল, পোতাজিয়া, জামিরতা, নরিনা, সাতবাড়িয়া, এসব এলাকায় শিমুল গাছ দেখা যায়।

শাহজাদপুর উপজেলার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিমুল গাছ রোপণ করা হয় না। তা ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে গ্রাম অঞ্চলের আনাচে কানাচে যে সকল শিমুল গাছ গজিয়ে উঠে সেগুলো এক শ্রেণীর ফার্নিচার ব্যবসায়ী ক্রয় করে ইট কাটার ফর্মা তৈরি করেন। পাশাপাশি এলাকায় শাটারিং ব্যবসায়ীরা অবাধে শিমুল গাছ নিধন করেন বিল্ডিং নির্মাণে শাটারিং তৈরির কাজ করছেন। ফলে শাহজাদপুর উপজেলা থেকে দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ। একে এক দিকে এলাকার মানুষ বঞ্জিত হচ্ছে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরীর মান সম্মত তুলা থেকে। অপর দিকে প্রাকৃতিক হারাচ্ছে তার ভারসাম্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ