ঢাকা, রোববার 4 March 2018, ২০ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্মাণের সাত মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে খুলনার টার্মিনাল ঘাটে পন্টুনের দু’টি স্পার্ট

খুলনা: কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ খুলনা টার্মিনাল ঘাটের টিপি-২ নামের একটি পন্টুনের দু’টি স্পার্ট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে

খুলনা অফিস: কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের খুলনা টার্মিনাল ঘাটের টিপি-২ নামের একটি পন্টুনের দু’টি স্পার্ট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ছিড়ে গেছে স্পার্টের রিং, বেঁকে গেছে গ্যাংওয়ে। এছাড়া প্রটেকশন ওয়ালের সাথে প্রচ- আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পন্টুনটি। অভিযোগ উঠেছে স্পার্ট দু’টি নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন, গত পূর্ণিমায় জোয়ারের পানির চাপে ঘাটে থাকা বেশ কিছু লঞ্চের ধাক্কায় এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে কাজের মান ভালো ছিল।
জানা গেছে, নদী পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের খুলনা টার্মিনাল ঘাটে লঞ্চে যাত্রী উঠা-নামার জন্য চারটি পন্টুন ব্যবহৃত হয়।
বছর খানেক আগে চারটি পন্টুনের মধ্যে টিপি-২ নামের একটি পন্টুনের স্পার্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পন্টুনের দু’টি স্পার্ট সম্পূর্ণ নতুনভাবে স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় গত বছর জুন মাসে। কিন্তু কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় শেষ হওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই পূর্ণিমায় জোয়ারের পানির চাপে তা ভেঙে পড়ে। ছিড়ে যায় রিং, বেঁকে যায় গ্যাংওয়ে। আর প্রটেকশন ওয়ালের সাথে প্রচণ্ড আঘাতে পন্টুনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় ওই পন্টুনের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের খুলনা টার্মিনাল ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় টেন্ডারবাজীর মাধ্যমে শীপা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজটি বাগিয়ে নেয়। এরপর তড়িঘড়ি কাজ শেষ করে তারা ফাইনাল বিলও তুলে নিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কাজের ক্ষেত্রে সিডিউলের নিয়ম অনুসরণ করেনি। ফলে পুরো কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে।
স্পার্টের পাতের পুরুত্ব ও   দৈর্ঘ্য কম দেয়া হয়েছে। ফলে সামান্য পানির চাপে এ দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, পন্টুনে পুরাতন একটি স্পার্ট ছিল কিন্তু সেটি এখনও অক্ষত রয়েছে। জোয়ারের পানির চাপে আগে পুরাতন পন্টুনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো নতুন দু’টি স্পার্ট ভেঙে পড়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, আগে চারটি পন্টুনে লঞ্চে উঠার সুযোগ ছিল। এখন একটি পন্টুন নষ্ট হয়ে পড়ায় বাকী তিনটি পন্টুন দিয়ে যাত্রীদের সামাল দেয়া হচ্ছে। এতে অনেক ভোগান্তি বেড়েছে।
অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজিবুল হক কাজের মান ভালো হয়েছে দাবি করে বলেন, গত পূর্ণিমায় জোয়ারের পানি ও টার্মিনালে অবস্থিত লঞ্চের ধাক্কায় স্পার্ট, রিং ও ব্লড ভেঙ্গে পন্টুনটি গিয়ে নদীর প্রটেকশন কংক্রিটে আঘাত লাগে। এতে পন্টুনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভেঙে যাওয়া স্পার্ট দু’টি পানি থেকে উঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী এইচ এম ফরহাদুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তবে কবে নাগাদ স্পার্ট ফের নির্মাণ করে পন্টুন সচল করা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পানেনি তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ