ঢাকা, সোমবার 5 March 2018, ২১ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আর একটি মন্দ উদাহরণ

‘সরষের ভেতরই ভুত’ কথাটির বেশ প্রচলন রয়েছে আমাদের সমাজে। এক্ষেত্রে আর একটি উদাহরণ যোগ করলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। ২ মার্চ তারিখে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, নিজেরা মদ খেয়ে গাঁজাসহ গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজনকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন সেপাই ও একজন সোর্স। থানায় তাঁদের মাতলামিতে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ তাদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের খবর দেয়। কর্মকর্তারা তাঁদের সহকর্মীদের মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিলেও সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায়। কর্তব্য পালনের সময় মদ খাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দু’জন হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার এস আই মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস ও গোয়েন্দা শাখার সেপাই মো. সেলিম।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ) আতিকুল হক ১ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিকেলে  আমাদের কাছে খবরটি এসেছে। আমরা বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।’ এদিকে পুলিশ জানায়, এসআই মনোজিৎ, সেপাই সেলিম ও তাদের সোর্স সুশীলকে হাসপাতালে নিয়ে ‘স্টমাক ওয়াশ’ করানো হয়। হাসপাতালের দেয়া সনদের ভিত্তিতে সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জেলা কর্মকর্তারা থানায় এসে পুলিশকে জানান যে, তাঁদের দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর আটক দুইজনকে মুচলেকা নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়। মুচলেকায় তাঁরা উল্লেখ করেন, তাঁরা মদ খেয়েছিলেন, এরপরে আর কোনোদিন এমন করবেন না।
আমরা জানি, মদ বা মাদকদ্রব্য গ্রহণ অন্যায় কাজ, আর ডিউটিরত অবস্থায় যদি তা করা হয় তাহলে তো অন্যায়ের মাত্রা বেড়ে যায়। যারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করবেন তারাই যদি এমন উদাহরণ সৃষ্টি করেন, তাহলে মাদকচর্চা নিয়ন্ত্রিত হবে কেমন করে? মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে সংস্থাটি। ২৮ জন মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সঠিকভাবে তাদের কাজ না করায় এবং অভিযোগ থাকায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে ঢাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ নিজের সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কেউ মাদকে জড়ালে চাকরি থাকবে না। কোনো সংস্থাকে কার্যকর রাখতে এ ধরনের হুঁশিয়ারি কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে নৈতিক শিক্ষা ও নৈতিক মান বজায় রাখার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংস্থাটি সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ