ঢাকা, মঙ্গলবার 6 March 2018, ২২ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এ পথ অন্ধকারের পথ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের সামনে ছিল ছাত্রছাত্রীদের জমায়েত। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রোবটিকস প্রতিযোগিতা চলছিল। মঞ্চের ওপর কাঠের সোফায় বসে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। সোফার পেছনে ছাত্রছাত্রী, পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা তিনজন দাঁড়ানো। সবাই ছিলেন উৎসবের আমেজে। জাফর ইকবালের ঠিক ঘাড়ের পেছনেই দাঁড়িয়েছিল ফয়জুর। বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে হঠাৎই দৃশ্যপট বদলে যায়। ফয়জুরের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। সিএমএইচ-এ তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা আশা করছেন, তিনি শিগগিরই সেরে উঠে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারবেন। আমরা ¯্রষ্টার কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন দ্রুত সেরে উঠতে পারেন। 

৩ মার্চ উৎসবমুখর পরিবেশে সন্ত্রাসের যে ঘটনাটি ঘটলো, তা ভালোভাবে ভেবে দেখার মত একটি বিষয়। ৪ মার্চ র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফয়জুর জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হয়েই অধ্যাপক জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা চালান। তিনি নিজেই এসব কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের হামলায় সাধারণত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা দেখা যায়, কিন্তু এ দফায় ঠিক কতজন হত্যা চেষ্টায় অংশ নিয়েছে, সে ব্যাপারে জানা যায়নি। ফয়জুর দাবি করেছেন, তিনি একাই ছিলেন। সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন থাকায় ফয়জুরকে খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি বলেও জানান র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ। উল্লেখ্য যে, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বেধড়ক পেটান ফয়জুরকে। সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে তাকে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া হাসপাতালে এবং পরে সিলেটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে হামলার শিকার হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্ত্রী ইয়াসমিন হককে ফোন করে উদ্বিগ্ন হতে নিষেধ করেন। ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামাল দেয়ার কথাও স্ত্রীকে বলেন তিনি। মারাত্মক আহত অবস্থায়ও তিনি যে কর্তব্যজ্ঞানের পরিচয় দিলেন, বর্তমান সময়ে তা দুর্লভ।

ঘটনার পর সবার মনেই প্রশ্ন, কে এই ফয়জুর? পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, নানা মন্তব্যও করা হয়েছে। জানা গেছে, ফয়জুর রহমানের বাবা আতিকুর রহমান সিলেটের একটি মাদরাসার শিক্ষক। ফয়জুর ধল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। দিরাইয়ের ধল গ্রামে লজিং থেকে লেখাপড়া করতেন। ফয়জুরের বাবা ১৫ বছর আগে সপরিবারে সিলেট চলে গেলেও ফয়জুর মাঝেমধ্যে গ্রামে আসতেন এবং গ্রামের বাজারে ফেরি করে লুঙ্গি-গামছা বিক্রি করতেন। আমরা মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ ফয়জুর সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নেবে এবং আমরা হামলার মোটিভ ও প্রকৃত তথ্য জানতে পারবো। হামলার ঘটনায় যে বা যারা প্রকৃত দোষী তাদের উপযুক্ত শাস্তি আমাদের কাম্য। কারণ এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেয়া যায় না। প্রসঙ্গত এখানে পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ফয়জুর সম্পর্কে রিপোর্ট করতে গিয়ে কেউ কেউ ‘মাজহাব’ ও ‘আহলে হাদিস’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। হামলার ঘটনার সাথে মাজহাব কিংবা আহলে হাদিসের সম্পর্ক কী? কিছু মোস্তাহাব বিষয় নিয়ে ফিকহি মতপার্থক্য তো কোনো নতুন বিষয় নয়। এই মতবৈচিত্র্য অতীতে ছিল, এখনও আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। গবেষণার ক্ষেত্রে এই মতবৈচিত্র্য তো কাউকে হামলা করতে বলে না। আমরা মনে করি বিভ্রান্তি সৃষ্টির বদলে বরং তদন্তের সুষ্ঠু প্রক্রিয়াকেই সবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ