ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 March 2018, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ট্রাইব্যুনালে বিচারক শূন্য ॥ ক্ষতিগ্রস্ত বিচারপ্রার্থীরা

খুলনা অফিস : খুলনার জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নেই। অপরদিকে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকলেও প্রত্যাশিত মামলা সংকট। খুলনার বিচারিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি ট্রাইব্যুনালের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া দীর্ঘ সূত্রতার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় আদালতের মামলা জট কমাতে নানা উদ্যোগ নিলেও খুলনায় তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং নিষ্পত্তির থেকে প্রতিনিয়ত মামলা দায়েরের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দিনদিন মামলার পাহাড়। খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে চার হাজার মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন এ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রবিউল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩১ নবেম্বর খুলনা থেকে বদলি হয়ে চলে যান। ট্রাইব্যুনালটি বিচারক শূন্য এক বছর তিন মাস পেড়িয়েছে। এতো দীর্ঘ সময় ধরে বিচারক শূন্যতায় ট্রাইব্যুনালে দিন-দিন মামলার জট বেড়ে মহামারী আকার ধারণ করছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০৫টি। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যোগ হয়েছে আরও শতাধিক মামলা। ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য পরবর্তি তারিখ নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারধীন মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী শিশু (জিআর) তিন হাজার ৯০২টি, নারী শিশু (সিআর) ৬৩৪টি, মানবপাচার ১৩৪টি, মিস পিটিশন ৯২৩টি, ক্রিমিনাল আপীল ১০টি ও ক্রিমিনাল রিভিউশন দু’টি।  ২০১৬ সালের মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মোট ৫৩০৪টি মামলার মধ্যে ১৪২টি মামলা নিষ্পত্তি করে ৫১৬২টি মামলা বিচারাধীন ছিলো। ট্রাইব্যুনালে বিচারকের উপস্থিতির কারণে একই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মামলার সংখ্যা সাড়ে চার হাজারে নেমে আসে। প্রায় একবছর বিচারকের অনুপস্থিতির কারণে নতুন প্রায় দেড় হাজার মামলা সংযুক্ত হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আরও দু’টি আদালত বৃদ্ধিসহ সরকারি কৌশুলী বাাড়নোর দাবি বহু দিনের। কিন্তু তা শুধুমাত্র দাবির মধ্যেই রয়েছে, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া বিচারক শূন্যতার কারণে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১’র বিচারক মো. রেজাউল করিম ট্রাইব্যুনালের মামলার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে মামলাগুলোর নির্ধারিত তারিখে পরবর্তী দিন নির্ধারণ ছাড়া নিষ্পত্তির জন্য কোন কার্যক্রম হয় না বলে বিচারপ্রার্থীরাসহ তাদের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেন।  অপরদিকে জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান ২০১৭ সালের ৯ নবেম্বর বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে বিচারক শূন্য রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ট্রাইব্যুনালটিতে বিচারক নিয়োগ না হলে একই সমস্যার সৃষ্টি হবে। মামলা জটের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়ছে বিচারপ্রার্থী মানুষের। এই ট্রাইব্যুনালে ক্রিমিনাল আপীল, ক্রিমিনাল রিভিউশন, দেওয়ানী আপীলসহ অন্যান্য ক্যাটাগরীর আনুমানিক ২৫০টির মতো মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. সায়েদুল হক শাহীন জানিয়েছেন।  বিচারকের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 

এদিকে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা দিয়েছে। বিচারক ও ট্রাইব্যুনালের সকল দফতরের জনবল থাকা সত্ত্বেও মামলার আগমন হ্রাস পেয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালে এখন সপ্তাহেও একটি মামলার তারিখ থাকছে না। অলস সময় পার করছেন ট্রাইব্যুনালে কর্মরতরা। আসামীপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ করায় ট্রাইব্যুনালে মামলা সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।  বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দ্রুত বিচারের জন্য মাত্র চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আরও সাতটি মামলা রয়েছে কিন্তু উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ওই মামলাগুলোর বিচার স্থগিত রয়েছে।  আদালতের সূত্রে আরও জানায়, বিভাগের প্রতিটি জেলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলার বিচার নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মামলার সকল কার্যক্রম শেষে ৯০ কার্য দিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয় এই ট্রাইব্যুনালে। মূলতঃ আসামী পক্ষের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কাজ পরিচালনা একটি আতঙ্কের বিষয়। এ কারণে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে মামলার বিচারকার্য পরিচালনায় বিঘœ সৃষ্টি করে রাখেন।    

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ