ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 March 2018, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল বুধবার সারাদেশে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যেগে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে) এই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর সেদিনের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের  মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
তিনি বলেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’
ভোর সাড়ে ৬ টার আগেই বঙ্গবন্ধু ভবনের আশপাশের এলাকা সর্বস্তরের মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ভোর ৬টা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে জমায়েত হতে থাকে।
এ সময় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগ বঙ্গববন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
এছাড়া জতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুব শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মোটরচালক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু লেখক সমিতি, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জননেত্রী পরিষদ, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমিসহ অসংখ্য দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিৃকতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।
এদিকে গতকাল আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে বিভাগ ও জেলাওয়ারী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব‘। গতকাল এ উৎসব পালিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের উপর দেশের ৪৭ জন শিল্পী আঁকলেন ৪৭টি চিত্রকর্ম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ-লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণের নানা ক্যানভাসে শিল্পীরা জীবন্ত করে তোলেন সেই দিনের ইতিহাসকে।
শুরুর দিনে সকালে শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এক আর্টক্যাম্পে শিল্পীরা এইসব ছবি আঁকেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐহিত্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি এই ক্যাম্পের আয়োজন করে।
চিত্রশালা প্লাজায় সকালে ‘৭ই মার্চের ভাষণ : বাঙালির স্বাধীনতার মাইলফলক’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব’ উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, শিল্পী জামাল আহেমদ ও শিল্পী ফরিদা জামান।
সমরজিৎ রায় চৌধুরী আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, যে লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য শিল্পীরা এই আর্টক্যাম্পে ছবি আঁকছেন। এটা আমাদের বহুল আকাক্সিক্ষত ক্যাম্প। ক্যাম্প থেকে যে সব চিত্রকর্ম শিল্পীরা উপহার দেবেন, তা এ জাতির শিল্পকর্মের ইতিহাসে অনন্য সম্পদ হয়ে থাকবে।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্য-সংস্কৃতিজন লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আজকে যে সব গুণী শিল্পীরা এই আর্টক্যাম্পে ছবি আঁকছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ৭ই মার্চের ভাষণের প্রত্যক্ষদর্শী। ২০৪১ সালে যখন দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে, তখন এই শিল্পীরা হয় তো বেঁচে নাও থাকতে পারেন। তাদের এই ঐতিহাসিক কাজ ও ঘটনা স্মৃতি হয়ে থাকবে। চিত্রকর্মেও ৭ই মার্চের ভাষণকে সংরক্ষণের জন্য এই ক্যাম্প অনুষ্টিত হলো। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের উপর ছবি এঁকে এ শিল্পীরা তাদের মহান দায়িত্ব পালন করলেন।
 দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে একদল তরুণ শিল্পীও আর্টক্যাম্পে অংশ নেন। ক্যাম্পে অংশ নেয়া শিল্পীরা হচ্ছেন, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, হামিদুজ্জামান খান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, অলকেশ ঘোষ, জামাল আহেমদ, ড. ফরিদা জামান, নাসিম আহমেদ নাদভী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ