ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 March 2018, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক, অধিকার থেকে বিএনপি বঞ্চিত

স্টাফ রিপোর্টার : ১২ মার্চ বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চেয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এক সপ্তাহ হলেও এখনো অনুমতি মেলেনি। অথচ আজকে যারা জনসভা করছে, তারা ১০ দিন ধরে ঢাকায় মাইকিং করছে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ব্যানার-ফেসটুন। দুঃখ হয়, কারণ আমরা তো এগুলো কিছু চাচ্ছি না! আমরা শুধু চাচ্ছি একটা সভার অনুমতি। যেটা আমার সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার। সেই অধিকার থেকে আজকে বিএনপি বঞ্চিত হয়েছে। কেন একটি দলকে তার রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা ফোরাম এই সমাবেশের আয়োজন করে।
আমির খসরু বলেন, খুলনা সার্কিট হাউসের মাঠে ১০ মার্চ আমরা জনসভার আয়োজন করেছি। প্রধানমন্ত্রী সেখানে জনসভা করে এসেছেন। আমরা সার্কিট হাউসের মাঠ চেয়েছি, আমাদের দেয়নি। হাদিস পার্ক চেয়েছি। আজ অবধি আমার জানামতে অনুমতি দেয়নি। আমরা জানি না ১০ মার্চ কী হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে আমরা ২৭ মার্চ অনুমতি চেয়েছি লালদিঘির মাঠে। আগামী ২১ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে জনসভা করবেন। গত এক মাসে লালদিঘির মাঠে আওয়ামী লীগ সেখানে তিনটা জনসভা করেছে। আমরা কিন্তু জনসভার অনুমতি পাইনি। তাদের তিনটা জনসভায় মারামারি হয়েছে। কোনো জনসভা সুষ্ঠুভাবে হয়নি। আমরা তো শান্তিপূর্ণ জনসভা করতে চাচ্ছি। আমরা মারামারি করার জন্য লালদিঘির মাঠে অনুমতি চাচ্ছি না।
আমীর খসরু বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করব। ইতিমধ্যে বিএনপি যে কর্মসূচিগুলো পালন করছে, এর চেয়ে শান্তিপূর্ণ তো আর কোনো কর্মসূচি নেই।
 সভা-সমাবেশ করার অধিকারকে বিএনপির নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চের আজকের জনসভা। আমরা জনসভাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে জনসভা করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর জনগণকে জনসভায় ডেকে শপথ গ্রহণ করাচ্ছেন। তাই আমরা চাই, আমাদের সাংবিধানিক, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, সভা-সমাবেশ করার যে অধিকার, সেই অধিকারটুকু আমাদের পালন করতে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা কাউকে শপথ গ্রহণ করাব না। কারণ শপথ গ্রহণ করানো সংবিধান, স্বাধীনতার পরিপন্থী ও অনৈতিক।
আমীর খসরু বলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তারাও জনসভায় আসছেন। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ, আমরা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ চাই। সুতরাং আজকে যারা ক্ষমতাসীন দল, তারা জনসভা করবে, এখানে কোনো ভিন্ন মত থাকার কারণ নেই।
আওয়ামী লীগ তাদের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা পরিপূর্ণভাবে পালন করছে মন্তব্য করে খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের সব স্বাধীনতা ভোগ করছে। কোনো অবহেলা করছে না। কিন্তু আজকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রশ্নœবিদ্ধ। যে কারণে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারছে না, সমতলভূমিতে রাজনীতি হচ্ছে না, বাক-স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত এবং গণমাধ্যম ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে যুব সমাবেশে কথা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, এলডিপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ