ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 March 2018, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

থাকছে না অভিন্ন প্রশ্নপত্র সেট নির্ধারণ হবে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার। শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনমতো ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেবে। এ ছাড়া কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে পরীক্ষার ঠিক আগে। কোনও শিক্ষক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতে পারবেন না। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাতেই এই পরিবর্তনগুলো আনতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করা বা কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তগুলো বহাল থাকবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সোহরাব হোসাইন ছাড়াও অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) অরুনা বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ প্রমুখ। সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
 বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ভর্তিতে জিপিএ-৫ প্রিভিয়াস নম্বর হিসেবে যোগ না করে সরাসরি পরীক্ষা নিয়ে ফলের মাধ্যমে ভর্তি করানো যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ না পেয়ে ভর্তি হতে পারছে না। অভিভাবকরাও মরিয়া হয়ে উঠছেন। কারণ, জিপিএ-৫ না পেলে তাদের সন্তান তো কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক অথবা যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক জিপিএ-৫ প্রি-কোয়ালিফিকেশন হওয়ার কারণে অনেকেই ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ পাচ্ছে না। এটা নিয়ে ভাবা দরকার আছে। প্রিভিয়াস নম্বর হিসেবে যোগ না করে সরাসরি পরীক্ষা নেওয়া যায় কিনা ভাবতে হবে। এছাড়া, গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়েও একটি আলোচনা রয়েছে।
সচিব বলেন, সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসছি। বোর্ডগুলো নিজেদের মতো করে প্রশ্নপত্র  তৈরি করতে পারবে। তবে প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার রুমে ঢোকার আগে নির্ধারিত হবে না। তারা রুমে ঢোকার পরে নির্ধারণ করা হবে কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব বোর্ডের জন্যই এটা করা হবে। দেখা যাবে একেক বোর্ডে একেক সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে।
এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্তে অটল থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করে তার আসনে বসতে হবে। কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কাউকে মোবাইলসহ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার বা আটক করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেবে। তবে ক্যামেরাবিহীন একটি মোবাইল ফোন থাকবে কেন্দ্র সচিবের হাতে।
এ বিষয়ে সোহরাব হোসাইন বলেন, পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে হলে প্রবেশ না করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনের সিদ্ধান্তও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে বর্তমান সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্যতম সুপারিশ হলো বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল, এক বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হলে এর জন্য অন্য বোর্ডের পরীক্ষায় প্রভাব পড়বে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়। তবে গত বছর শিক্ষাবিদদের সুপারিশে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সমতার ভিত্তিতে মেধার সঠিক মূল্যায়নে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ