ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 March 2018, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নারী সমাজের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে

‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবনধারা’ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী আদর্শের যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমে নারী সমাজের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন নারী অধিকার আন্দোলনের সভানেত্রী  প্রফেসর চমন আরা ও সেক্রেটারি প্রফেসর ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে নারী অধিকার আন্দোলনের নেতৃদ্বয় গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন। তারা বলেন, নারী অধিকার নিয়ে অনেক মনোরঞ্জিকা, উৎসাহব্যঞ্জক ও চটকদার কথা বলা হলেও আমাদের সমাজে নারীরা এখনও অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত, অবহেলিত, নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত। পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নানাভাবে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের নারী সমাজ। নারীরা শুধু আমাদের দেশেই নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন না বরং বিশ্বব্যাপীই তারা নানাভাবে উপেক্ষা ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। মূলত বিশ্বব্যাপী নারী সমাজকে অবমূল্যায়নের কারণে মানব সভ্যতা যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। তাই সভ্যতার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ও আগামীর পৃথিবীকে সর্বাঙ্গসুন্দর এবং সমৃদ্ধ করতে হলে নারী সমাজকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা  গেছে, আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার। এ সকল নারী নিজ গৃহে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রাস্তায় ও কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন । এমনকি তাদেরকে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ধর্ষণ ও পাশবিকতার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।  কর্মক্ষেত্রে নারীরা পূরুষদের সমান্তরাল হলেও তারা আর্থিক সুবিধায় অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশে মাত্র মাসিক ৩৭ ডলার মজুরি দেয়া হয় নারী কর্মীদের। এটি অমানবিক, বৈষম্যমূলক ও এক ধরনের নির্যাতনের নামান্তর। আমাদের দেশে নারীরা শিক্ষা ক্ষেত্রেও পূরুষদের তুলনায় অনেক অনগ্রসর। সনাতনী ধ্যান-ধারণা ও কুসংস্কারের কারণেই অধিকাংশ নারী তাদের শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারেন না। তাই নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে এই সংকীর্ণ বৃত্ত থেকে অব্যশ্যই বেড়িয়ে আসতে হবে।
নারী  নেতৃদ্বয় বলেন, আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নের কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রকার বৈরিতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়। কর্মের বা সেবার পরিপূর্ণ সুযোগ তাদেরকে দেয়া হয় না। অনেক সময় তাদের সহকর্মীর হাতে নাজেহাল ও নিগ্রহের শিকার হন নারী জনপ্রতিনিধিরা। মূলত বাস্তব জীবনে ইসলামী অনুশাসন অনুসরণ না করার কারণেই সমাজে এত অশান্তি ও নারীরা আজ উপেক্ষিত ও অধিকারবঞ্চিত। বস্তুত ইসলামই নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজকে ইসলামের ছায়াতলেই আশ্রয় নিতে হবে।
তারা বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নারীকে সৃষ্টি ও সভ্যতার অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। নারী কোনো পৃথক সত্তা নয় বরং সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নারী ছাড়া সৃষ্টির সৌন্দর্য শ্রীহীন, স্তব্ধ, স্থবির সর্বোপরি অপূর্ণ। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় পুরুষের পাশাপাশি নারীও অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। যুগে যুগে নারীরা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, মনন, যোগ্যতা, শ্রম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও মমতার সংমিশ্রণে গড়ে তুলেছে মানব সভ্যতার সুদৃঢ় স্তম্ভ। হয়েছেন ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের অংশ। সভ্যতার ইতিহাসে নারী সমাজের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। তাই নারী সমাজকে অবহেলিত রেখে কোনোভাবেই জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই নারী সমাজকে উপেক্ষা করে কোনোভাবেই জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। অথচ আমাদের সমাজে নারীদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। নারীর ক্ষমতায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ সকল পেশাতেই নারীরা উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে নারীরা আজও চরমভাবে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারী সমাজকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।
নেতৃদ্বয় নারী অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ