ঢাকা, শনিবার 10 March 2018, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ২১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মশার উপদ্রব

শীতকালে মহানগরী ঢাকাসহ সারাদেশে যখন মশক নামক ক্ষুদে পতঙ্গের যন্ত্রণা অনেকটা কম ছিল তখন বিকেল হলে সিটি করপোরেশনের ফগার কামানের গর্জন বেশ শোনা যেতো। এখন গরম পড়েছে। বেড়েছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামবার সঙ্গেসঙ্গে মহা উল্লাসে যেন নাগরিকদের আবাসস্থলে প্রবেশ করে সংগীতানুষ্ঠান শুরু করে দেয় মশারা। এর সঙ্গে চলে নররক্ত শোষণের সাঁড়াশি অভিযান। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা অগ্নিমূল্যের এরাসোল স্প্রে করেও মশকবাহিনীর অভিযান দমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী পড়তে বসবে কিংবা অফিসফেরত মানুষ একটু স্বস্তিতে টিভির সামনে বসবেন তার কোনও উপায় নেই। মশকবাহিনীর ভনভন ফনফন সাতসুরো সংগীত আর ওদের আক্রমণে অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশকের অসহনীয় আক্রমণ কেবল মহানগরী ঢাকাতেই নয়। সারাদেশে তীব্র আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এই পতঙ্গবাহিনী। সারাদেশ থেকে এমন উদ্বেগজনক খবরই পাওয়া যাচ্ছে সম্প্রতি।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর সিটি করপোরেশনকে মশকনিধনের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য বহুসংখ্যক কর্মচারীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কেনা হয়েছে বিপুল সংখ্যক ফগার কামান। কিন্তু সেগুলোর রহস্যজনক নিস্তব্ধতায় নাগরিকদের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে সম্প্রতি। সিটি করপোরেশন কী জবাব দেবে জানি না। তবে মশকবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে নাগরিকসমাজ অতিষ্ঠ। রাত-দিন বলে কোনও বাছবিচার নেই। যেন দুর্দান্ত শক্তিতে মশকবাহিনী নিরবচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ঘরেবাইরে, বাজারহাট, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিডিয়া হাউজ সবখানে মশকের হামলা চলছে। কোথাও কোনও নাগরিক স্বস্তিতে নেই। সিটি করপোরেশনগুলোতে অভিযোগ দায়ের করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
মশকের হ্যাচারি হচ্ছে ডোবা, নালা, মজাপুকুর, উন্মুক্ত ম্যানহোল, আবর্জনার স্তুপ, ফুলের টব ইত্যাদি। এসব হ্যাচারিতে সকালে লার্ভা এবং বিকেলে বা সন্ধ্যায় পূর্ণবয়স্ক উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য প্রতিদিন  কীটনাশক স্প্রে করবার নিয়ম। কিন্তু যারা মশানাশক কীটনাশক স্প্রে করেন তাদের ঠিকমতো ব্রিফিং করা হয় বলে মনে হয় না। তাই অপরিকল্পিতভাবে শুধু বিকেলে মশা মারবার কামান দেগে কোনও লাভ হয় না। শুধু পরিবেশদূষণের কাজটি সম্পন্ন করে অঢেল অর্থের অপচয় হয়।
দীর্ঘদিন যাবৎ মহানগরীর সড়ক মেরামতের জন্য খোঁড়াখুঁড়িতে সৃষ্ট গর্তে পানি জমে থাকাতেও মশার জন্ম হয় বেশি। যতোটা দ্রুত সম্ভব এ গর্তগুলো ঢেকে ফেলা দরকার। প্রয়োজনে এসব খোলা গর্তেও সকালে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়া বসতবাড়ি, অফিস, স্কুলকলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজারহাটসহ সবজায়গা নিয়মিত পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন রেখে মশকের হ্যাচারি ধ্বংস করতে হবে। বসতবাড়ির ভেতর কীটনাশক স্প্রের বা মশা তাড়াবার দায়িত্ব কিন্তু করপোরেশন কর্মীদের নয়। এটা করতে হবে নিজেদেরই। মনে রাখতে হবে মশা কেবল কামড়ায় বা রক্তই পান করে না; ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকাভাইরাসের সংক্রমণজনিত অসুখও ছড়ায়। কাজেই মশানিধনে নাগরিকদেরও সচেতন ও সাবধান হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ