ঢাকা, শনিবার 10 March 2018, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ২১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরে আম ও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আমগাছে দেখা দিয়েছে আমাদের সম্ভাবনাময় মুকুল। ছবিটি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দারোগার আমবাগান থেকে তোলা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম রুহুল আমিন প্রধান: উত্তর জনপদের উন্নতমানের আম ও লিচু উৎপাদনের উর্বর সম্ভাবনাময় বাগানগুলোতে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেলে এ বছর দিনাজপুরের শহরে লিচু আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরে নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে হতে পারে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। দেশের তৃতীয় মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জানান, এ বছর আম ও লিচুর বাগানে এত বেশী পরিমাণ মুকুল দেখা দিয়েছে যা ৫০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মৌসুম ভিত্তিক আম ও লিচু চাষ করে উপজেলার শতাধিক বেকার শিক্ষিত যুবক দারিদ্র্যতার নির্মম কষাঘাতকে পিছনে ঠেলে দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে আম চাষে উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য এলাকা মাহমুদপুর ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই কৃষি জমিতে ধান, গম, সরিষা, আলুর সাথে সাথী ফসল হিসেবে উন্নতমানের হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, খিস্যাপাতি আম চাষ করে নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিদেশে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ফলচাষীরা। মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লি. এর সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ এলাকার উন্নত জাতের আম ও লিচুর গুণগতমান ও বিদেশে রপ্তানি করতে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হলাইজানা ফাজিল মাদ্রাসায় আম ও লিচু চাষীদের নিয়ে যুগোপযোগী ও মান সম্মত আম ও লিচুর উৎপাদনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্র থেকে গবেষকদের নিয়ে এসে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে বাগানে গাছগুলোতে এসেছে প্রচুর মুকুল। মুকুল গুলো ফল দেয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সার্বক্ষণিক গবেষকদের দেয়া প্রশিক্ষণ অনুযায়ী চলছে নিবিড় পরিচর্যা। ফল চাষী আইয়ুব আলী জানান, আমগুলো পরিপক্ক হলে বাগানে বাগানে চলবে ব্যাগিং পদ্ধতি।  এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে আমের সৌন্দর্য ও বিদেশে রপ্তানি করতে সহজ হবে। এ বছরে বিদেশে ব্যাগিং করা আম রপ্তানি করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের পতিœচান, রঘুনাথপুর এলাকার সফল ফল চাষী মো. রফিকুল ইসলাম ও আম ও থাই পেয়ারা চাষী জহুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলেই বাগানগুলো থেকে আম ও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাগানের ফল সংগ্রহের সময় আসলে বিভিন্ন জেলাসহ খোদ রাজধানী থেকে পাইকারীরা বাগান থেকে ফল ঢাকায় নিয়ে যায়। এতে করে তাদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্য মূল্য পেয়ে থাকেন। গত বছর নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বজলুর রশীদ উন্নত জাতের আম উৎপাদনে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফলের গুণাগুণ ও উৎপাদন কৌশল বিষয়ে বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু রেজা আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাগানগুলোর পরিচর্যার জন্য চাষীদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ