ঢাকা, রোববার 11 March 2018, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিলে হামলা লাঠিচার্জ বাধা

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিএনপির মিছিল -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গত বৃহস্পতিবারের  পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এছাড়া বিএনপির উদ্যোগে গতকাল সকালে নয়াপল্টনে মিছিল বের করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকটি স্থানে লাঠিচার্জের পাশাপাশি হামলা চালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল প- করে দিয়েছে। এতে কমপক্ষে ৩০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। কয়েকজনকে আটক করারও খবর পাওয়া গেছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভীর নেতৃত্বে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার অংশ হিসেবে গতকাল ভোরে নয়াপল্টন এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে বিএনপি।  প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে আবার সেখানে এসেই শেষ হয়। তার সাথে কয়েকজন নেতাকর্মীকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।
উত্তর বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাড্ডা থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এজিএম সামসুল হকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। পল্লবী থানা বিএনপি একটি মিছিল কমিশনার মোঃ সাজ্জাদ ও বুলবুল মল্লিকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তেজগাঁও থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে কানন বাজার কাঁচা বাজারের সামনে এসে শেষ হয়। মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম মতিন এর নেতৃতে ইকবাল রোড থেকে আসাদগেটে গিয়ে শেষ হয়। মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির আরেকটি বিক্ষোভ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে মোহাম্মদপুর বাসষ্ট্যান্ড গেলে পুলিশি বাধায় মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়।
দক্ষিণখান থানা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল হাজী দক্ষিণখান থানা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক জনাব আলী আকবর আলীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশী বাধায় পন্ড হয়ে যায়। শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শাহ আলম, তোফায়েল আহম্মেদ, সোহেল সহ থানা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে সমরিতা হাসপাতালের সামনে গিয়ে পুলিশি বাধায় পন্ড হয়ে যায়। কাফরুল থানা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল সকাল ১১-৩০ মিনিটে রাজধানীর ইবরাহীমপুর মেইন রোডে অনুষ্ঠিত হয়। শাহআলী থানা ও মিরপুর থানা বিএনপি ও অংগ সংগঠনের একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। রামপুরা থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল টিভি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশী ধাওয়ায় মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়।  এসময় ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হানিফ উদ্দিন হিমুকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
খিলক্ষেত থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল হাজী ফজলুল হক ফজলুর নেতৃত্বে খিলক্ষেত পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে শুরু হলে পুলিশ চারপাশ ঘিরে ফেলায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়। ভাষানটেক ও ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি যৌথ বিক্ষোভ মিছিল কচুক্ষেত বাজারের সামনে থেকে করতে চাইলে আওয়ামীা সন্ত্রাসী ও পুলিশের উপস্থিতিতে করা সম্ভব হয়নি। উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শুরু করলে পুলিশী তৎপরতায় মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়। উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে শুরু হলে পুলিশী বাধায় মিছিল করা সম্ভব হয় নাই। উত্তরখান থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল আহসান হাবিব, মোঃ হিরণ, জাহাঙ্গীর বেপারী সহ বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিছিল বাহির করলে ব্যাপক পুলিশী আক্রমণে মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি’র অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের নগ্ন হামলার প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে সকল থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশি বাধার মধ্যেও বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ স্বর্তঃস্ফুর্তভাবে এই কর্মসূচী সফল করেন। কর্মসূচী চলাকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ ১৪/১৫ জন আহত হন।
শাহবাগ থানা বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল মুক্তাঙ্গন থেকে আরম্ভ করে বি.বি এভিনিউ হয়ে গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে গেলে পুলিশি হামলায় ছত্রবঙ্গ হয়ে যায়। দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্লীমা সংসদ থেকে শুরু হয়ে খিলগাঁও থানার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে খিদমাহ্ হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মতিঝিল থানায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রমনা থানা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির ও আব্দুল মোতালেব রুবেল এর নেতৃত্বে মিছিলটি সিদ্ধেসরী গার্লস স্কুল এর সামনে থেকে শুরু হয়ে মৌচাক মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়।  যাত্রাবাড়ি থানা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ভান্ডারী ও আনোয়ার সরদার এর নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ি আইডিয়াল স্কুলের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে সায়দাবাদ জনপদে মোড়ে গেলেই পুলিশি হামলায় মিছিলটি ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়।
কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির নেতা হাজী মনির হোসেন চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে ঝাওলাহাটি চৌরাস্তা (হাজীর ঘাট) বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেড়ীবাধ প্রধান সড়ক গিয়ে শেষ হয়। তানভীর আহম্মেদ রবিন এর নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিল শ্যামপুর থানার ধলেশ্বর হইতে শুরু হয়ে শ্যামপুর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। নিউ মার্কেট থানা একটি বিক্ষোভ মিছিল এ্যাড: মকবুল হোসেন এর নেতৃত্বে এ্যলিফ্যান্ট রোড বাটা সিগনাল থেকে শুরু হয়ে সাইন্স ল্যাবরেটরী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সূত্রাপুর থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আঃ সাত্তার এর নেতৃত্বে রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে ধোলাইখাল চিশতিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ডেমরা থানা বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন ও আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
কলাবাগান থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের নেতৃত্বে সোনারগাঁও রোড সুন্দরবন হোটেলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বসুন্ধরা সিটি প্রদক্ষিণ করে পান্থপথ সিগনালে গেলে মিছিলটি পুলিশি বাধার কারণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কোতয়ালী থানায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বিএনপি নেতা মোল্লা সাইফুল এর নেতৃত্বে বাবু বাজার ব্রীজ থেকে শুরু হয়ে মিটফোর্ড রোডে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির লালবাগ, হাজারীবাগ, মুগদা, পল্টন, বংশাল, সবুজবাগ, ধানমন্ডি এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ