ঢাকা, রোববার 11 March 2018, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাকরির বয়স ৩৫ করার আন্দোলনে পুলিশের বাধা লাঠিপেটা ॥ আহত ৫০

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে মিছিল সহকারে বাংলা মোটর পৌঁছলে মিছিলে পুলিশের এ্যাকশন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনরত প্রার্থীদের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছ পুলিশ। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩৫ করার দাবিতে একদল আন্দোলনকারী গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে শাহবাগ জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে দুই শতাধিক আন্দোলনকারী সেখানে অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা তাঁরা সেখানে থেকে ওই দাবিতে শ্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেখান থেকে বাংলামোটরের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তাঁরা বাধা উপেক্ষা করতে গেলে পুলিশ তাতে লাঠিপেটা করে। এ সময় পুলিশের পিটুনি ঠেকাতে নারী আন্দোলনকারীরা সামনে এলে পুলিশ তাঁদেরও পিটুনি দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়।
কয়েকজন আন্দোলনকারী বলেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জনকে ধরে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে,চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকালী সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ এর সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন জানান, সকাল ১০টায় শাহবাগ এলাকায় তারা সমাবেশ করে বেলা ১১টার দিকে তেঁজগাওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওয়ানা হন। তবে বাংলামোটর এলাকায় মিছিলটিকে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাদের ওপর লাঠিপেটা করে পুলিশ। ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ বিনা উস্কানিতে এই হামলা করেছে। এতে আমাদের ৫০ জনের মতো আহত হয়। তাদের কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আবার এখান থেকে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে।’
পুলিশের রমনা জোনের এডিসি এইচ এম আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল তারা। আমরা তাদেরকে থামিয়ে দিয়েছি। আমরা মনে করেছি, এখানে ইন্ধন থাকতে পারে, আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছি। সংখ্যাটা এখন বলতে পারব না।’
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন করে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নাচক করা হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি সংসদে জানিয়েছেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হবে না।
তারপরও আন্দোলন থেমে যায়নি। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন পালন করে। সেখান থেকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকে ৫০ জনেরও বেশি আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ