ঢাকা, রোববার 11 March 2018, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

করমজল প্রজননকেন্দ্রে খাদ্য  সংকটে বন্যপ্রাণি

 

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের করমজল প্রজননকেন্দ্রে বন্যপ্রাণির খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে এখানকার প্রাণিগুলোর প্রজনন ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারিভাবে বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লবণ পানির কুমির, হরিণ ও বানর সংরক্ষণ, এদের প্রজনন বৃদ্ধি এবং বংশবিস্তারের লক্ষ্যে ২০০২ সালে সরকারের বায়ো-ডাইভারসিটি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের উদ্যোগে করমজলে বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এটি দেশের একমাত্র বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্র। এখানে কুমিরসহ বন্যপ্রাণির প্রজনন ও উৎপাদন উপযোগী চারটি ব্রিডিং কেন্দ্র, একটি হরিণ ও বানর লালন-শেড, চারণভূমি, ১৮টি কুমির সংরক্ষণ প্যান (হাউস), একটি কুমিরের চারণপুকুর তৈরি করা হয়। গত একযুগ ধরে এ কেন্দ্রে হরিণ, বানর ও কুমির প্রজনন এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

করমজল বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘কেন্দ্রে ২০৭টি কুমির ও ৪০টি হরিণ রয়েছে। এসব প্রাণির জন্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার নেই। সেজন্য গত দুই মাস ধরে প্রাণিগুলোকে দিনে একবেলা, কখনও কখনও আধবেলা খাবার দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে বন্যপ্রাণিগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রাণিগুলো ধীরে ধীরে প্রজনন ক্ষমতা হারাবে এবং একপর্যায়ে মরতে শুরু করবে।’

করমজল বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্রের তত্ত¡াবধায়ক ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার আ. ছত্তার জানান, এ কেন্দ্রের প্রাণিগুলোতে ঘাস, গমের ভুসি, মুরগিসহ নানা ধরনের খাবার দিতে হয়। এতে দিনে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ হিসাবে মাসে প্রাণিগুলোর জন্য একলাখ বিশ হাজার থেকে একলাখ ৩৫ হাজার টাকার খাবার লাগে।’

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন-কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, প্রাণিগুলোর খাবারের জন্য সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। গত বছর বনবিভাগ থেকে ১৫ লাখ টাকা চেয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে। কিন্তু বরাদ্দ আসে মাত্র পাঁচ লাখ ৫০ হাজার। এ টাকা দিয়ে বন্যপ্রাণিগুলোর পুরো একবছরের খাদ্যের সংস্থান হয় না।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলে পাওয়া গেছে ৯ লাখ টাকা। নতুন করে আবারও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং তা  পাওয়া গেলে প্রাণিগুলোকে প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ