ঢাকা, রোববার 11 March 2018, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসের শিকার শ্রীলংকার মুসলমানরা

চারদিন ধরে শ্রীলংকার ক্যান্ডি শহরে মুসলমানদের বাড়িঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে উগ্রবাদী বৌদ্ধদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর গত শুক্রবার সমগ্র শ্রীলংকায় জুমা নামাযের সময় মসজিদগুলোয় সেনা ও পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। শুক্রবারও অনেক জায়গায় মুসলমানদের ওপর উগ্রবাদী বৌদ্ধদের হামলা অব্যাহত ছিল। খবর ব্যাংকক পোস্টের। ওই সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে মুসলমানরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। ক্যান্ডি শহরের কেন্দ্রস্থলে সিংহলি বৌদ্ধ গ্রুপগুলো মুসলমানদের ওপর হামলা চালায়। ক্যান্ডির মসজিদের বাইরে সশস্ত্র সেনা ও পুলিশ টহল দেয়। তবে বেশিরভাগ মসজিদ পুড়িয়ে দেয়ায় এবং তছনছ করায় লোকেরা খোলা চত্বরে নামায আদায় করেন শুক্রবার। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হামলার প্রধান উস্কানিদাতাসহ অন্তত ১৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। মুসলিম বিদ্বেষী কর্মকান্ডে প্রধান উস্কানিদাতার নাম অমিথ বিরাসিংমে নামের এক সিংহলি । সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুসলিমবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত ছিল।
মুসলিমবিরোধী সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রীলংকার পর্যটন শিল্পে। ক্যান্ডির হোটেল পরিচালকরা বলছেন, তারা বিপুলসংখ্যক পর্যটকের রিজার্ভ বাতিলে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। ক্যান্ডির ডিলাক্স হোটেলের পরিচালক বলেন, আমাদের হোটেলে ৮০ শতাংশ কক্ষ গ্রাহকে পূর্ণ থাকে, এখন তা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংমে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ৩৭ বছরের গৃহযুদ্ধের পর পর্যটক খাত উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি এই সহিংসতা বড় আঘাত হেনেছে।
শ্রীলংকার মুসলিম কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী রউফ হাকিম সহিংসতা কবলিত এলাকায় কারফিউ বলবতে নিয়োজিত পুলিশ ও সেনাদেরকে দাঙ্গাকারীদের দেখামাত্র গুলী করার নির্দেশ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় সহিংসতা রোধে অনেক দুর্বলতা ছিল। হাকিম দাঙ্গা দমনে প্রস্তুতির অভাব ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মিয়ানমারের পর শ্রীলংকায় যেভাবে মুসলমানদের ওপর হামলা চালানো হলো, তাতে প্রমাণিত হলো যে, বর্তমান পৃথিবীতে মুসলমানরাই সন্ত্রাসের বড় শিকার। আর এই বিষয়টিও প্রমাণিত হলো যে, ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ একথা বৌদ্ধরা এখন আর মানেন না। সভ্যতার শাসকরা এমন বাস্তবতার কি ব্যাখ্যা দেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ