ঢাকা, রোববার 16 December 2018, ২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙ্গে বাংলাদেশ বেড়িয়ে এলো হুংকার দিয়ে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙ্গে বেরিয়ে এলো বাংলাদেশ।দুঃসময়ের গণ্ডি জয় করে নিল শ্রীলংকার বিরুদ্ধে অসাধারণ এক বিজয়ের আনন্দ-চিৎকারের মধ্য দিয়ে।ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান তাড়ার ইতিহাস গড়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।আর এই জয়ের কাণ্ডারী বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহমান। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জেতালেন মুশফিক।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে ২১৫ রানের প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে টাইগাররা। মুশফিকুর রহীমের ৩৫ বলে ৭২ রানের অবিশ্বাস্য এই ইনিংসে ঘরের মাঠের শ্রীলঙ্কাকে ২ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে হারিয়েছে বাংলাদেশ। 

শুরুতে দলকে জয়ের বিশ্বাস জুগিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। বাকিটুকু মুশফিকের অনন্য ব্যাটিংয়ের গল্প। বীরোচিত ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে রচনা করলেন নতুন এক অধ্যায়ের।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.২ ওভারেই ৫৬ রান তুলে ফেলেছিল চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। অবশেষে বিধ্বংসী এই জুটিটা ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্যাম্পই উড়ে যায় ২৬ রান করা দানুষ্কা গুনাথিলাকার।

এরপর কুশল মেন্ডিস আর কুশল পেরেরা- দুই কুশল মিলে বাংলাদেশি বোলারদের উপর ভালোই তাণ্ডব চালিয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৮৫ রানের জুটি। অবশেষে এই জুটিটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের ১৪তম ওভারে টাইগার অধিনায়কের বলে সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৩০ বলে ৫৭ করা কুশল মেন্ডিস।

একই ওভারে দাসুন শানাকাকে শুন্য রানে আউট করে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়েছেন রিয়াদ। এই ক্যাচটিও নেন সাব্বির। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ সাব্বিরের। এবার আউট ২ রান করা চান্দিমাল। তবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলেও লঙ্কানদের রানের গতি আটকাতে পারেনি টাইগাররা।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে খেলতে গিয়ে বল উপরে তুলে দেন কুশল পেরেরা। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৪৮ বলে ৭৪ রান করা এই ব্যাটসম্যান। একই ওভারে এক বল পরই থিসারা পেরেরাকে শুন্য রানে নাজমুল অপুর ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। উপুল থারাঙ্গা অপরাজিত ছিলেন ১৫ বলে ৩২ রানে।

২১৫ রানের প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই এগিয়েছে শ্রীলঙ্কার রানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে। শ্রীলঙ্কা পঞ্চাশ স্পর্শ করে ৩.৫ ওভারে। বাংলাদেশের লাগে মাত্র দুই বল বেশি। পাওয়ার প্লে শেষ হতে হতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশই। ৬ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ৭০, বাংলাদেশের ১ উইকেটে ৭৪।

এগিয়ে থেকেই বাংলাদেশ পা রাখে তিন অঙ্কের সীমানায়। ৯.২ ওভারে আসে একশ, লঙ্কানদের শতরান ছিল ১০.২ ওভারে। দেড়শতেও বাংলাদেশ এগিয়েছিল এক ওভার। অতীতে কাছে গিয়ে পথ হারানোর গল্প অনেক আছে। এদিন শেষেও এগিয়ে বাংলাদেশই।

সম্ভবত ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে পাঠানা হয় লিটন দাসকে। দলকে বিশাল রান তাড়ার পথে এগিয়ে নেয় এই জুটি। স্কোরবোর্ডে দুজন এনে দেন কাঙ্ক্ষিত ভিত, ড্রেসিং রুমে ছড়িয়ে দেন আত্মবিশ্বাস, প্রতিপক্ষকে ফেলে দেন চাপে।

লিটন শুরুটায় একটু ছটফটে থাকলেও পরে খেলেছেন দারুণ সব শট। তিনি ছন্দে থাকলে যেমন খেলেন, যথারীতি ছিলেন তেমন স্টাইলিশ। যথারীতি ফ্লিক শটগুলো ছিল দৃ্ষ্টিনন্দন। তামিম চেনা চেহারায়।

৫ ছক্কায় ১৯ বলে ৪৩ করে লিটন আউট হন নুয়ান প্রদিপের স্লোয়ারে। ততক্ষণে রান হয়ে গেছে ৭৪। গত বছর এই মাঠেই সৌম্য ও ইমরুলের ৭১ রান ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি।

দলকে একশতে নিয়ে গেয়ে আউট হন তামিম। ফিফটি পাননি তিনিও। ২৯ বলে ৪৭ বলে ফিরতি ক্যাচ দেন থিসারা পেরেরাকে। গত ১৩টি টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বোচ্চ স্কোর এটি।

তিনে নামা সৌম্যর শুরুটা ছিল নড়বড়ে। তবে উইকেট ছুঁড়ে আসেননি। আরেক পাশে মুশফিক শুরু থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত। মাঝে-মধ্যে সৌম্য মেরেছেন বাউন্ডারি। বাংলাদেশ তাই পেয়ে যায় আরেকটি অর্ধশত রানের জুটি।

২২ বলে ২৪ করে সৌম্য ফিরেছেন। ১১ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও কাজ শেষ করে আসতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। শেষের আগের ওভারে রান আউট সাব্বির। দলের ভরসা ছিল কেবল সেই মুশফিকই।

বেঙ্গালুরুর স্মৃতি উঁকি দিয়েছে অনেকের মনে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাতের মুঠো থেকে জয় ফেলে দিয়েছিলেন মুশফিক। এবার কোনো ভুলের পথে পা নয়। শেষের আগের ওভারে প্রদিপকে ছক্কা মেরে সমীকরণ নিয়েছেন ৬ বলে ৯ রানে।

শেষ ওভারের প্রথম বলে দুই, পরের বলে দারুণ বাউন্ডারি। পরের বলে আবার দুই। এরপর সিঙ্গেলে জয়। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৩৫ বলে ৭২ রানে অপরাজিত মুশফিক। সম্ভবত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২১৪/৬ (গুনাথিলাকা ২৬, মেন্ডিস ৫৭, পেরেরা ৭৪, শানাকা ০, চান্দিমাল ২, থারাঙ্গা ৩২*, থিসারা ০, জিবন ৬*; তাসকিন ১/৪০, মুস্তাফিজ ৩/৪৮, রুবেল ০/৪৫, মিরাজ ০/৩১, নাজমুল ০/২০, সৌম্য ০/১১, মাহমুদউল্লাহ ২/১৫)

বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ২১৫/৫ (তামিম ৪৭, লিটন ৪৩, সৌম্য ২৪, মুশফিক ৭২*, মাহমুদউল্লাহ ২০, সাব্বির ০, মিরাজ ০*; চামিরা ১/৪৪, দনঞ্জয়া ০/৩৬, প্রদিপ ২/৩৭, গুনাথিলাকা ০/২২, থিসারা ১/৩৬, অজন্তা ০/২৫, শানাকা ০/১২)

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ