ঢাকা, সোমবার 12 March 2018, ২৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিশুদের সাথে এ কেমন আচরণ?

গত দুই মাসে সারা দেশে কমপক্ষে ৬১ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে অন্তত ১১০ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের শিশু অধিকার লংঘন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এ তথ্য জানিয়েছে। শিশু অধিকার বিষয়ক ২৬৭টি সংগঠনের এই জোট বলছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম দুই মাসে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ আমাদের সমাজের অন্ধকার দিককেই তুলে ধরে। আর চিন্তার বিষয় হলো, এ ধরনের অপরাধের মাত্রা কমার বদলে বরং বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবী এডভোকেট সালমা আলী বলেন, শিশুদের সঙ্গে অপরাধমূলক ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। অপরাধীরা আমাদের ঐতিহ্যগত আইনগুলোর ক্ষতিকর সুবিধা গ্রহণ করে বেরিয়ে আসছে। এতে তারা অপরাধ করতে উৎসাহিত হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে অপরাধীদের একটি গোষ্ঠী। আর পেশীশক্তি ব্যবহারকারীরাও এসব অপরাধে জড়িত হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের অভাব অপরাধীদের এই অপরাধের সাথে জড়িত করতে সহায়তা করে। ফেসবুক, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উৎসের নেতিবাচক ব্যবহারও এসব অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করেন সালমা আলী।
এমন বিশ্লেষণ থেকে উপলব্ধি করা যায়, আমাদের সমাজে শিশু-সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই? তাই সহজেই তারা হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আর এসব ঘটনার শিকার অধিকাংশ শিশুই দরিদ্র ও শক্তিহীন পরিবারের। তারা আইনি সহায়তাও পায় না। এ ব্যাপারে সরকার এগিয়ে এলে দরিদ্রদের দুঃখের মাত্রা কমতে পারে। ভাবতে অবাক লাগে, একটি স্বাধীন দেশের শিশুরা এভাবে হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হবে কেন? দেশে সরকার আছে, প্রশাসন আছে। আছে রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনও। এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাদের নৃশংস অপরাধ চালিয়ে যায় কেমন করে? শুভশক্তি কি ঘুমিয়ে আছে? অপরাধীদেরও পরিবার আছে, সন্তান আছে। তারা শিশুদের হত্যা করে কেমন করে? মায়া-মমতা কিংবা মানবিক বোধ কি তাদের অন্তরে অবশিষ্ট নেই? তাহলে এখন তো এসব বিষয়ের চাষাবাদ জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি কি আমরা উপলব্ধি করবো না?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ