ঢাকা, মঙ্গলবার 13 March 2018, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেন আতঙ্কের এই জীবন?

আতঙ্কের জীবন আমাদের কাম্য নয়। মানুষ তো আতঙ্কের পরিবেশে জীবন যাপনের জন্য সমাজবদ্ধ হয়নি। অথচ বর্তমান সময়ে আতঙ্ক আমাদের পিছু ছাড়ছে না। এ কারণেই হয়তো পত্রিকায় শিরোনাম হয় ‘পুলিশ পাহারায় আতঙ্কের জীবন!’ ১২ মার্চ পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজধানীর শ্যামলীর ২ নম্বর সড়কের বাড়িটির সাড়ে আট কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের চার সদস্য ও অতিথিসহ ছয়জনকে এ্যাম্বুলেন্সে করে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সাড়ে চার ঘণ্টা তাদের এখানে-ওখানে ঘোরানো হয়। এই সময়ের মধ্যে তিনটি ট্রাকে করে তাদের মালামালগুলো সরিয়ে বাড়িটি খালি করা হয়। বাড়ির সামনে উচ্ছেদকারীরা জমির মালিকানার সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেয়। পরে অবশ্য পুলিশের সহায়তায় পরিবারটি তাদের বাড়িতে ফিরে আসে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বাড়ির মালামালগুলোও ঘরে আনা হয়। তবে পরিবারটি এখনো সংসার আগের মতো সাজিয়ে নিতে পারেনি। পুলিশ পাহারা থাকলেও আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন ও রাত।
পুলিশ বলছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগের ও মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ওই হামলা ও জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তৌফিক উর রেজাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অন্যজনের নাম রাজন। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাড়িতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। হামলার শিকার বাড়িটির গৃহকর্তা মিহির বিশ্বাস বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্ত্রী, ১০ বছরের ছেলে, বৃদ্ধা পিসিমা আর একজন গৃহকর্মীসহ ওই বাড়িতে থাকেন।
সন্ত্রাসী হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিহির বিশ্বাস বলেন, শনিবার সকাল সাতটার দিকে ছেলেকে স্কুলভ্যানে তুলে দিয়ে তিনি এসে শুয়েছেন মাত্র, এ সময় ১০ থেকে ১২ জন লোক তার বাড়িতে ঢুকে। তিনজন লোক তার ঘরে ঢুকে মুঠোফোনের চার্জার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগায়। পরে টেনেহিঁচড়ে মেঝেতে নামায়। এরপর অপেক্ষমাণ এ্যাম্বুলেন্সে তাদের তোলা হয়। এদিকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক কামরান শাহিদ প্রিন্স মোহাব্বতের য্ক্তুতা পাওয়া গেছে তদন্তে। তিনি এখন পলাতক। এখানে বলার মতো বিষয় হলো, সরকারি দলের লোকজন তো দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তারা বাড়ি দখল ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো সন্ত্রাসী কর্মে যুক্ত থাকবেন কেন? এ ব্যাপারে প্রশাসন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ