ঢাকা, মঙ্গলবার 13 March 2018, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়া আজ কোথায়? কোথায় বা আনোয়ার চৌধুরী?

শিরোনামের প্রথম প্রশ্নটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি এ অধমের। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়। তিনবার যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা প্রধান ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, তিনি এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলে যান তা আবার দু’চার কোটি টাকা। অথচ আট হাজার কোটি টাকা চুরি হওয়ার পরেও আমরা শুনতে পেয়েছিলাম ‘এটা কোন টাকাই নয়।’ সে বিতর্ক আমার বিষয় নয় এ বিষয় আওয়ামী লীগ এর অনেক বড় বড় বুদ্ধিজীবী ও আইনজীবী রয়েছেন তারা তো ব্যাখ্যা দিয়েছেনই যে ‘কম টাকা তাতে কি দুর্নীতি তো দুর্নীতিই।’ আওয়ামী লীগ নেতা বা বুদ্ধিজীবীদের মুখ থেকে কত রকম কথাই শুনা যায় বা শুনতে হয়। আমি জানি না বা নিজের তখন শুনার বয়সও হয়নি যে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “সাড়ে সাত কোটি মানুষ আর কম্বল হলো আট কোটি তাহলে আমার কম্বলটা কোথায় “আমি জানিনা তবে শুনেছি। তিনি বলেছিলেন ‘সবাই পায় স্বর্ণের খনি আর আমি পেলাম চোরের খনি। আমার চতুর্দিকে চাটার দল।’ এমন কিছু কথা যেমন সমাজে প্রচলিত আছে আবার এর সত্যতাও নেই যে এমন নয়। তবে কেন অন্যদের কে এতটা কটাক্ষ করে নিজেকে এতটা অহংকারী হিসেবে প্রচার করা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন “চোরের মার বড় গলা’ এসব কথা কিন্তু সেই গ্রাম্য সাধারণ মানুষদের ভাষা এগুলো সবার মুখে মানায়ও না আবার সুন্দরও শুনা যায় না। ৮ ফেব্রুয়ারি যখন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় হয়, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একটি মনোরম পর্যটন এলাকা পায়রা বন্দরে। সেখানে যেমন নিজের নামে নৌবাহিনীর ঘাটি উদ্বোধন করেন এটি একটি অতীব আনন্দের বিষয় অন্যটি ছিলো মনোরম পরিবেশে কিছু সময় কাটানো বা মুক্ত বাতাস খাওয়া। এটি আরো একটি আনন্দ। যখন অন্য একজন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী সময় কাটাচ্ছিলেন মর্মাহতভাবে। এমতাবস্থায়ও কি তৃতীয় আনন্দটি উপভোগ না করলে হতো না। সেটি হলো খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার কথা শুনে আনন্দ প্রকাশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন “খালেদা জিয়া আজ কোথায়?” এটা কি আর বলতে হয় দেশের মানুষতো দেখেছেই খালেদা জিয়া কোথায়? আসলে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষায়ই বলেছেন। সিরাজ সিকদারকে নাকি মহান সংসদেই চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে পরে বলেছিলেন “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার’। ‘৭০ এর নির্বাচনে মাত্র ৯টি আসন পায় অন্য সব দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আর সে মাত্র ক’জন সংসদ সদস্যকেও সম্বোধন করা হতো ‘টাউট বাটপার বলে’ অতএব অন্যের মতের প্রতি সম্মান বা গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান কোন পর্যায়ে থাকলে এমন কথা বা আচরণ পরিলক্ষিত হয়, যাক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ প্রশ্নটা শুনেই আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগে উঠলো “কোথায় আজ আনোয়ার চৌধুরী”। আমরা নিশ্চয়ই দেখেছিলাম যখন প্রয়াত: নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলতেন “আইজ্জা আর ইয়াইজ্জার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না।” আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনে অংশ নিলোনা, অথচ সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য চারদলীয় জোট নির্বাচন করতে চেয়েছিল তখন ব্রিটিশ দুতিয়াল তৎকালীন বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনার জনাব আনোয়ার চৌধুরীর উপর যেনো মহান দায়িত্ব পড়ে গেলো, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার এবং তিনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে বলেছিলেন আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। জামায়াতের শহীদ নেতা তৎকালীন লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেছিলেন আবার যখন বিএনপি জামায়াত ছাড়া কোন নির্বাচনের পাঁয়তারা করা হয় তখন যেনো আনোয়ার চৌধুরী দেরকে পাওয়া যায। এর পর সেই বাঙ্গালী ব্রিটিশ আনোয়ার চৌধুরীকে আর কোন সংকটাপন্ন সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেবল বিএনপি জামায়াতের মতো দলকে বাইরে রেখেই নয় বরং নজরবন্দি রেখে একতরফাভাবে হোলিখেলার মতো ভোটাভোটি খেলা হল এবং সেই ভোট নিয়েও দাম্ভিকতায় সাথে ক্ষমতা চালাচ্ছেন কিন্তু আনোয়ার চৌধুরী সাহেবদের কোন সন্ধান আর মিললো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উক্তি শুনে সেই আনোয়ার চৌধুরীর কথাটাই মনে পড়ে গেল। আরো মনে পড়লো ১০ ফেব্রুয়ারি আরেক ব্রিটিশ নেতা ব্রিটিশ পরাষ্ট্রমন্ত্রী এর কথা শুনে। শুনতে খুবই ভালো লাগে তিনি বলেন আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই। প্রশ্ন হচ্ছে তারা কি চায় কি চায় না তাতে কি আসে যায়? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন “আমাকে জাতি সংঘের মহাসচিব ফোন করেছে জন কেরী ফোন করে বলেছেন কাদের মোল্লার ফাঁসি না দেওয়ার জন্য। আমি কারো কথা শুনি নাই। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, তাই বর্তমানে ব্রিটিশ দুতিয়াল আনোয়ার চৌধুরীদের উত্তর সুরীরা কি বললো বা বললো না তাতে বঙ্গবন্ধুর কন্যার কিছুই যায় আসে না। বাংলার মাটি থেকে খালেদা জিয়ার মতো এতিমের অর্থ আত্মসাতকারী আর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের চিরতরে বিদায় করবেনই। তবে তো আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনই হয় না, অন্য কোন দল বা নেতা না থাকলে এক নেতার এক দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। এখানে আর কোন সমস্যাই থাকার কথা নয়। অবস্থা দেখে তো মনেই হচ্ছে তারা আর কাউকে ক্ষমতায় আসতে দিবেই না। রায় পরবর্তী একটি টকশোতে আলোচনা করছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ খানও ড. মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। জাফরুল্লাহ খান বললেন “কোন আত্মসাৎ বা দুর্নীতি হয় নাই টাকা তো আরো বেড়ে তা ফান্ডে রয়েছে তবে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করলো কি ভাবে বরং অভিযোগটা উঠতে পারতো যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক ফা-ের টাকা অন্যফা-ে নেয়া হয়েছে মাত্র। রায় যা হয়েছে তাতে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের সহানভুতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কথাটাও সহ্য হয়নি আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবী ড. হারুন অর রশিদ সাহেবের। তিনি বলেন, “জাফরুল খান কি ভাবে বুঝলেন খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের সহানুভুতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি কি কোন জরিপ করেন। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ এর বুদ্ধিজীবীগণও কত বিজ্ঞ। একজন মানুষের প্রতি জনগণের সহানুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে এ কথা বলতে হলেও নাকি গণজরীপ করতে হবে। আবার যদি বলা হয় ভোট কাটছেন কেন জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ দেন তখন বলা হয় “খালেদা জিয়ার রাজনীতি শেষ জনগণ আর এদের চায় না দেখেন না তাদের জনসভায় লোক হয় না। তারা মানুষ পোড়ায় তারা গাড়ি ভাঙ্গে। আরেকজন বুদ্ধিজীবী সুভাস সিং বাব্ ুতার কথা শুনলে মনে হয় হায়রে বুদ্ধিজীবী। তিনি কত বুদ্ধিমত্তার সাথে বিএনপি ভুরিভুরি গুনাহ খাতাব কথা তুলে ধরছেন অথচ ছাত্রলীগের চাঁদা আর টেন্ডার বাজী কিংবা “৭৪ সালে কুকুরের খাবার ভাগ করে খাওয়া মানুষের বমি মানুষে খাওয়া কিংবা কাঙ্গালী ভোজের খিচুরী খেতে গিয়ে বাসন্তি দেবীদের সর্বস্ব হারানোর কথা রড ছাড়া বিল্ডিং আর পোড়া মবিলের রাস্তাসহ হাজারো নেকীর কাজ একবারও তুলে ধরেন না। টিভির রিমোর্টটা অনেক সময় ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করে হুমায়ুন আহমদ নেই। নেই কোন হাসি বা বিনোদনের নাটক। হানিফ সংকেতের ইত্যাদি নেই। নেই ফজলে লোহানী বা ফতেহ লোহানীর “যদি কিছু মনে না করেন” এর মতো মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান। আছে কেবলই ভালবাসার নাটক আর বুদ্ধিজীবীদের টকশো তার মধ্যে বেশির ভাগই হল বেগম খালেদা জিয়ার গুনাহ আর কবিরা গুনাহর বর্ণনা। সব সময় একই প্যাঁচাল ভালো লাগে না বলে ঘরের বউ রিমোটটা টান দিয়ে নিয়ে ঐ যে স্টার জলসা, জি বাংলা। বাংলাদেশের সব চ্যানেলের প্রতি ধিক্কার জানায়। আমাদের দেশপ্রেমিকরা যতই ভারতীয় চ্যানেলের বিরুদ্ধে গলা ফাটাক ঘরে গেলে তো আর এর বাইরে যেতে পারি না। দেশের অবস্থা দেখে শান্তি পাই না, শান্তি পাই না ঘরে গেলেও অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহে দুদিন ছুটি ঘোষণা করেছেন একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তা হলো পরিবারকে সময় দেওয়া। ফলাফল কি হচ্ছে এখনতো পরিবারের সাথে ঝগড়ায় এক মহাব্যবস্থাই দেখা যায়। কি আর করার কোথাও যখন শান্তি নেই তাই বাসার পাশে ‘নূরুল ইসলাম এর ইরানী টেইলার্সে বসে রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত শান্তি খুঁজি। এ দিকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে মেয়ের শ্বশুর সিরাজ ভাই ফোন করে প্রায়ই প্রশ্ন করেন এত রাতে বাইরে কেন বেয়াইনের সাথে কি ঝগড়া?” এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না আর কবে সঠিক উত্তরটা দিতে পারবো তাও জানি না বাকী জীবনটায় তা পারবো কিনা তাও জানি না। যে ভাবে আওয়ামী লীগ প্রধানসহ সকল পর্যায়ের নেতারা কথা বলেন তাতে মনে হয় এ প্রশ্নের জবাব দেয়া কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব না উত্তর কেবলই মহান আল্লাহর নিকট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ