ঢাকা, রোববার 16 December 2018, ২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি বুধবার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের চার মাসের জামিন স্থগিতের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত।আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে চেম্বার জজ এ আদেশ দেন।আগামীকাল বুধবার শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজকের শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান।   

এর আগে আজ সকালে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।

সোমবার দুপুরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিনের আদেশ দেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে গত ৩২ দিন ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিম্ন আদালত থেকে ওই মামলার নথি হাই কোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার তাকে চার মাসের জামিন দেয়।

সেই সঙ্গে তার আপিল শুনানির জন্য ওই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাই কোর্ট চারটি যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করে।

এগুলো হল- ১. নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে, এই সাজায় হাই কোর্টে জামিনের রেওয়াজ আছে। সে বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। ২.  বিচারিক আদালতের নথি এসেছে, কিন্তু আপিল শুনানির জন্য এখনও প্রস্তুত হয়নি। ফলে আসামি জামিনের সুবিধা পেতে পারেন। ৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন; এর অপব্যবহার করেননি। আদালতে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। ৪. বয়স এবং বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেওয়া যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম  সোমবারই বলেছিলেন, তারা হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধ চেম্বার আদালতে যাবেন।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তারা আলাদাভাবে আবেদন করেন। কিন্তু চেম্বার আদালতের সাড়া না পাওয়ায় এখন তাদের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করছেন, আপিল বিভাগ যদি খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়, তারপরও এখনই তার মুক্তি মিলবে না, কারণ নাশকতার একটি মামলায় কুমিল্লার আদালত তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। 

চেম্বার আদালতে শুনানির পর মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন,  কুমিল্লার আদালত যে হাজিরা পরোয়ানা জারি হয়েছে, সে মামলাতেও খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে।

“কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেওয়ার অর্থই হল সে মামলাতেও তিনি এখন অবরুদ্ধ। তিনি সেই মামলায় জেলে আছেন বলে ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলাতে তাকে জামিন না নিয়ে মুক্তি পাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”

খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখতেই এসব জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এসব কথার কোনো সারবত্তা নেই।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ