ঢাকা, বুধবার 14 March 2018, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শরীর শিউরে উঠা উদ্ভুত কান্ড

জাফর ইকবাল : শুনতে অন্যরকম মনে হলেও আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যেগুলো ভাবলেও শরীর শিউরে উঠে। কেউ তার অবুঝ কন্যার খেলার সঙ্গী করছেন সাপকে। ক্ষমতা যা আইনের প্রয়োগ তার। এমনটি শোনা গেলেও এবার খোদ মেয়রকেই শাস্তি পেতে হলো দুর্নীতির দায়ে। এমনিতেই শিক্ষার সামগ্রিক অবকাঠামো নেই। তার উপর কম্পিউটার শিক্ষা। তা যদি হয় কম্পিউটার ছাড়াই। এটাও কি সম্ভব। অপরাধের শাস্তি হলে কারাবাস করতে হয়। কিন্তু শখ করে কারাবাস করতে শূনেছেন? ঘ্যা তাই ঘটেছে। এবারের আয়োজনে এমনই কিছু ঘটনা থাকছে।
খেলার সঙ্গী অজগর! : অ্যালিসার বয়স তখন মাত্র ১৪ মাস। এই বয়সের একটি শিশুর সারাদিন কাটে নানা রকম খেলনা সামগ্রী নিয়ে। অ্যালিসাও তার বয়সি শিশুদের থেকে ব্যতিক্রম ছিল না। তারও দিন কেটেছে খেলে। তবে আর দশটা শিশুর চেয়ে তার খেলার সঙ্গী ছিল ভিন্ন। তের ফুট লম্বা অজগর সাপের সঙ্গে খেলে বড় হয়েছে সে। অ্যালিসার বাবা জেমি গাউরিনো সাপুড়ে। বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্টয়েট শহরে। সাপ পোষা তার শখ। সাপ যে মানুষের পোষা প্রাণী হতে পারে এটা বোঝানোর জন্য তিনি তার মেয়ের সাথে সাপের খেলা করার দৃশ্যটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আর তাতেই চমকে উঠেছেন অনেকে। 
দৃশ্যটি ছয় বছর আগে ধারণ করা হলেও সম্প্রতি জেমি তার ফেসবুক পাতায় ভিডিওটি দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ মানুষ ভিডিওটি দেখে ভয়ে শিউরে উঠেছেন। অনেকেই পোষা অজগর সাপ নিয়ে তাদের বাজে অভিজ্ঞতার কথা কমেন্ট বক্সে লিখেছেন। এত আগে ধারণ করা ভিডিও এখন ফেসবুকে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে জেমি জানান, সাপকে মানুষ যতটা ক্ষতিকর ভাবে আসলে সাপ ততটা ক্ষতিকর নয়। একটি কুকুরের চেয়েও সাপ মানুষের জন্য কম ক্ষতিকর। এটিও একটি চমৎকার পোষা প্রাণী হয়ে মানুষের ঘরে থাকতে পারে। সাপ সম্পর্কে মানুষের মন থেকে নেতিবাচক ধরণা দূর করতেই তিনি এতদিন পরে ভিডিওটি ফেসবুকে দিয়েছেন।   
অদ্ভুত সাজা : আইন সকলের জন্য সমান। কিন্তু যারা আইন প্রণয়ন করেন সেই আইন  প্রণেতা, জনপ্রতিনিধিরা একথা প্রায়ই ভুলে যান। তবে বলিভিয়ার সান বউনাভেনতুরা মফস্বল শহরে সেটা প্রায় অসম্ভব। এই শহরের জনগণ প্রায়ই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ধরে অদ্ভুত রকমের শাস্তি দেন। এ কাজ তারা করেন এই কারণে যাতে তারা আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকে পরিণত না হন। সম্প্রতি শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্নীতির অভিযোগে তাদের মেয়রের এক পা কাঠের তক্তার মধ্যে আটকে রেখেছিলেন।
স্থানীয় পৌরসভা ও সরকারী বরাদ্দের অর্থ দিয়ে একটি সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মেয়র জাভিয়ার দেলগাদো। কিন্তু তিনি যখন সেখানে পৌঁছান তখন বুঝতে পারেন, সেতুর উদ্বোধন দেখতে নয়, বরং লোকজন অন্য একটি কারণে তার জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো কিছু ভালো করে বুঝে ওঠার আগেই উপস্থিত জনতা মেয়রের পা তক্তার সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে লা রাজন পত্রিকাতে বলা হয়েছে, ‘আমা কুহইলা, আমা লুলা, আমা সুওয়া’অর্থাৎ ‘অলসতা করবে না, মিথ্যা বলবে না, চুরি করবে না’ নামে প্রচলিত সামাজিক বিচারের রীতিতে মেয়রকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি একটি সেতু তৈরির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে দুবার মেয়রকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে লা রাজনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করার আগেই তার সঙ্গে এমনটা করেছে। তিনি মনে করছেন, বিরোধী পক্ষ তাকে হেয় করার জন্য তার নামে দুর্নীতির কেচ্ছা রটিয়েছে। এতে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে সাধারণ মানুষ। যদিও তার কথাগুলো বুঝিয়ে বলার পর তার কাছে সবাই ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান মেয়র।
কম্পিউটার শিক্ষা : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার ছোট মফস্বল শহর স্কাইডিউমেইজ। আধুনিক জীবনের অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেখানকার মানুষ। দুবেলা খাবারের সংস্থান করতে যে শহরের মানুষের দিনভর ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের কাছে কম্পিউটার শিক্ষা কল্পনাতীত। তবে যেখানে অউরা হোতিশের মতো মানুষ রয়েছে সেখানে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। স্কাইডিউমেইজ সিনিয়র হাই স্কুলের এই শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শেখাতে বেছে নিয়েছেন এক অভিনব পন্থা।
ব্ল্যাকবোর্ডে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ লেআউট এঁকে তিনি শিক্ষার্থীদের শেখানো শুরু করেছেন। এতে করে কম্পিউটার ছিল যাদের কাছে স্বপ্নের মতো সেই সকল শিক্ষার্থীরা অতি আনন্দের সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহার না করেই শিখতে পারছে কীভাবে লিখতে হয় কম্পিউটারে। সম্প্রতি হোতিশ তার এই অভিনব শিক্ষাদান পদ্ধতির কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এতে হোতিশ লিখেছেন, ‘আমি কি পড়াচ্ছি তা বোঝানোর জন্যই আমি এটা করেছি। আমি চাই আমার শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের কম্পিউটার না থাকার অভাববোধ যেন না করে।’ ফেসবুকে হোতিশের ছবিগুলো বেশ সাড়া ফেলেছে। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাদান পদ্ধতি স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অনেকেই তাকে কম্পিউটার বা নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শখ করে কারাবাস : অপরাধের শাস্তি হিসেবে মানুষকে পাঠানো হয় কারাগারে। সেখানে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দুঃসহ ও মানবেতর জীবন কাটাতে হয় বন্দিদের। ফলে কেউই কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে চায় না। কিন্তু মালয়েশিয়ার দুই নাগরিক স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছেন! তাও আবার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে! শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে এমনটাই ঘটেছে। নং ইন উ এবং অন বং তেক নামের মালয়েশিয়ার দুই পর্যটক এক দিনে ৫০০ রুপি দিয়ে তেলেঙ্গানার ওই কারাগারে বন্দি হিসেবে কাটিয়েছেন।
১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারাগারটি ভারতের সবচেয়ে পুরাতন কারাগার। দুইশত বছরের পুরাতন এই কারাগারটিতে সাধারণ মানুষকে জেলের বন্দি জীবনের অনুভূতি পাইয়ে দিতে ‘ফিল দ্য জেল’ অর্থাৎ কারাগারের অভিজ্ঞতা নামক একটি উদ্যোগ নিয়েছে তেলেঙ্গানা জেলার কারা বিভাগ। অর্থাৎ পুরো একটা দিন কারাগারে অন্য কয়েদির মতোই সব অনুশাসন মেনে কাটাতে হবে আপনাকে। এক দিন কারাগারে থাকার জন্য ফি হিসেবে দিতে হয় ৫০০ রুপি। স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা ব্যক্তিদের কয়েদির পোশাক পরেই কাটাতে হয় কারাগারে। সেখানে কয়েদিদের জন্য বরাদ্দ খাবারই দেওয়া হয়। এ ছাডা কেউ চাইলে জেলে বন্দি থাকা অন্য কয়েদির সঙ্গে একই সেলে থাকার অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ