ঢাকা, বুধবার 14 March 2018, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি ভাঙতে সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত বিএনপি নেতা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিতে ভাঙন সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন কৌশলে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই সরকার আমাদের বিরুদ্ধে চতুর্দিক থেকে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করাচ্ছে। ফেসবুকে দেখবেন, বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে ভাঙন সৃষ্টি করার জন্য যে, বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হোক।
 আমি বলতে চাই- জনগণের শক্তিকে ভয় পাচ্ছে বলেই আজকে তারা বিভিন্ন কৌশলে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে লাভ হবে না। আমাদের দেশে একটা কথা আছে শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অমলেশ দাস অপু’র পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ড, জন গোমেজ, অর্পনা রায়, নিপুন রায় চৌধুরী, সুশীল বড়ুয়া, দেবাশীষ রায় মধু, জয়দেব জয় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই আন্দোলনে সফলতা আসবে প্রত্যাশা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন আপনারা এই শান্তিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ করছেন, লাভ কী হচ্ছে। আমি বলতে চাই, এটাই একামাত্র পথ। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সম্পৃক্ততা নিয়ে এসে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে।
পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি দুঃখিত হই যখন দেখি আমাদের নামকরা সম্পাদকরা তারা এটার বলি হয়ে যান। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা। একটা পত্রিকার নাম বলতে চাই না, আমরা যে কারাগারে ম্যাডামের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম স্থায়ী কমিটির সব সদস্য। তিনি লিখেছেন আমরা নাকি তার কাছে সমঝোতার পাঁচটা নতুন প্রস্তাব নিয়ে গেছি। কোথায় পেলেন উনারা, কিভাবে জানলেন, কিভাবে লিখলেন? আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্বেয় মানুষেরা এসব লিখছেন। আবাল লাল হেডিং দিয়ে। আমি বলতে চাই, দেশনেত্রীর জেলে যাবার পর থেকে বিএনপি যেন আরো শক্তিশালী হয়েছে। সব নেতা-কর্মী এক হয়ে গেছে। এখন কোনো বিভেদ নেই। এখন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে বিএনপি অনেক ঐক্যবদ্ধ, অনেক শক্তিশালী।
খালেদা জিয়াকে সরকার ‘ছলচাতুরি’ করে আটকিয়ে রাখতে চাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দেশনেত্রী, আমাদের মাদার অব ডেমোক্রেসি তাকে ছলচাতুরি করে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। কেনো? ভয়ে। এতো ভয় পান যে বেগম জিয়া যদি আজকে বের হন তাহলে আপনারদের ওই যে মসনদ, এই মসনদ জনগণের ¯্রােতে ভেসে চলে যাবে। এই কারণে আপনারা তাকে আটকিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেশিদিন কারাগারে থাকবেন না, জনগণ তাকে মুক্ত করবে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করবো অতি দ্রুত ইনশাল্লাহ।
বিরোধী দল ‘নির্মূল’ করতে সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মামলা-মোকাদ্দমা’ ও ‘অত্যাচার-নির্যাতন’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে গণতান্ত্রিক সমস্ত পরিসরটা ছোট হতে হতে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সভা-সমাবেশ করার জায়গা দেয়া হয় না। আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে চেয়েছিলাম, জায়গা দেয়া হয়নি। একই সঙ্গে আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রামে. ১৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ২৪ মার্চ বরিশালে ও ৩১ মার্চ রাজশাহীতে জনসভার করার কথাও জানান বিএনপি মহাসচিব।
ছাত্র দলের তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান মিলনকে পুলিশি নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে মিলনকে হত্যা করেছে। মিলনের মা, তার বোন আহজারি করছেন যে আমার ছেলেটা ভালোভাবে সুস্থ অবস্থায় আটক হলো। তিনদিন রিমান্ডে নিয়ে তারা (পুলিশ) কী করলো যে, সে লাশ হয়ে ফিরলো? মিলনকে নির্যাতন-নিপীড়ন করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তাকে তারা জেলে পাঠিয়ে বলেছে যে, সে জেলে মারা গেছে। এই ছেলেটি জীবন দিয়ে দিয়েছে শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে ভালোবাসবার জন্য, গণতন্ত্রের রাজনীতি করবার জন্য, দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবার জন্য। আজকে একা মিলন নয়, এরকম কয়েক বছরের আমাদের অনেক মিলন চলে গেছে। ২০১৩ সাল থেকে আমাদের কতজন নিখোঁজ হয়ে গেছে, এখন পর্য়ন্ত কেউ ফিরে আসেনি।
বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে কিভাবে নির্বাচন হবে প্রশ্ন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বার বার বলছি যে, আমরা নির্বাচন করতে চাই। আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগনের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচনটা কীভাবে হবে? একটা নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছেন তা আপনাদের (ক্ষমতাসীন) লোকজন দিয়ে। আপনি যেভাবে বলবেন সেভাবে কাজ করবে। ইতিমধ্যে তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। আপনারা আমাদের দেশনেত্রীর কারাগারে যাবার পর থেকে আমাদের সাড়ে ৫ হাজার নেতা-কর্মীকে জেল দিয়েছেন। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৭৮ হাজার মামলা দিয়েছেন আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে, সাড়ে ১৮ লক্ষ আসামী বানিয়েছেন। এই হচ্ছে রাষ্ট্রের অবস্থা।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সমানে বুক চিটিয়ে, সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পড়ে বাহ্বা করে বলছেন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং এর বাইরে যাওয়া যাবে না। কেউ আসলে আসবে, কেউ আসলে আসবে না। তাদের (সরকার) কথা শুনলে মনে হয় এটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। পৈত্রিক সম্পত্তিরও কিছু আইন-কানুন আছে -কিভাবে ব্যবহার করবে, কিভাবে নিয়ম মেনে চলবেন। তাদের কাছে কোনো কিছুরই দরকার নেই। আমরা যেভাবে খুশি ব্যবহার করব- এই হচ্ছে তাদের মানসিকতাটা।
সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আহাজারি, এই ব্যথা, এই দুঃখকে শক্তিতে পরিণত করুন। এই যে বুকের ওপরে পাথর চেপে বসে আছে, এই যে কথায় কথায় আমাদের ভাই হত্যা করছে, ছেলেদের হত্যা করছে এদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ান। জনগণকে বলেন উঠে দাঁড়াতে, রাজপথে নামতে। এটাই একমাত্র পথ, বিকল্প কোনো পথ নেই। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ নেতা-কর্মীরা আইনি প্রক্রিয়ায় কারামুক্ত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১০ জন নেতার গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ