ঢাকা, বুধবার 14 March 2018, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জামিনের পরেও সরকার বিভিন্ন কূটকৌশল করছে -মওদুদ

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন,  খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরও সরকার বিভিন্ন কূটকৌশল করে তার (খালেদা জিয়া) মুক্তি বিলম্বিত করতেই কুমিল্লার মামলা তুলছে সরকার। একদিনের বেগম জিয়ার জামিন বিলম্বে দিগুণ জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত ‘মিথ্যা মামলার রাজনৈতিক তাৎপর্য ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদের পরিচালনায় অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক এসএম হাসান তালুকদার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, প্রকৌশলী রুহুল আলম, শহীদুল ইসলাম শহীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, এত এত উন্নয়ন করেছেন একবার নির্বাচন দিয়ে দেখে না, জনগণ কি করে কাকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করে সংসদে নিয়ে আসে, সরকার যে হারে দুর্নীতি করেছে তাদের এখন ভয় করছে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে।
মানুষ আমাদের কাছে জানতে চায় আমরা ক্ষমতা গিয়ে কি করবো আওয়ামী লীগের মত করবো তাদের পথে চলবো নাকি ভিন্ন কিছু করবো আমি বলতে চাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এসরকারে দুর্নীতির বিচার করা হবে শেতপত্র প্রকাশ করা হবে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে জনগণ দুর্নীতিবাজদে বিচার করবে বলেন মওদুদ আহমেদ।
তিনি বলেন, নিম্ন আদালত কিন্তু এখন সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নাই,  এটা চলে গেছে নির্বাহী বিভাগের অধীনে। এই যে দেখেন কুমিল্লার মামলায় ওয়ারেন্ট। এতাদিন চলছে ওয়ারেন্ট ইস্যু নেই। এখন যেহেতু উচ্চ আদালতে উনি (খালেদা জিয়া) জামিন পেয়ে গেছেন এখন ওয়ারেন্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য- ২৮ মার্চ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া যেন জেলখানায় থাকে তার ব্যবস্থা করা। এটা হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছু না। কিন্তু লাভ হবে না তাতে।
আমরা মনে করি, আপনারা(সরকার) যতই কলা- কৌশল করেন না কেনো, যতই ছল-চাতুরি করেন না কেনো, যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেনো বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আমাদের কাছে আবার ফিরে আসবেন।
মওদুদ বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে  এখন যত মামলা আছে সব স্থগিত আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।  ৪টা মামলা-  দুইটা ঢাকায়, একটা নড়াইল এবং একটা কুমিল্লায়।
একটা কথা আমি বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার  মুক্তি একদিনের জন্য বিলম্বিত হলে তার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ বাড়বে বাংলাদেশে। বিলম্ব করতে চান? করেন। আমার নেত্রীর কষ্ট হবে ঠিকই কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আপনারা ঠেকাতে পারবেন না।
উচ্চ আদালতের খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে সরকারের আপীলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম জিয়ার জামিন হয়ে গেলো। আমরা আশা করেছিলাম যে, উনি আজকে অথবা কালকের মধ্যে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। তো ঠিক আছে তাদের (সরকার) অধিকার আছে আপীল করার। তারা আজকে আপীল করতে গিয়েছিলেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা বলেছি কালকে ফুল বেঞ্চে শুনানি হবে।
আজ বুধবার ইনশাল্লাহ এক নম্বরে থাকবে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টা। আমরা মনে করি যে, এই যে বিচারিক প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়ায় উচ্চতম আদালত  হাইকোর্টের জামিনের রায় বহাল রাখবেন- এটাতে আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সন্দেহ হলো এযেন ১৫দিন বিলম্ব হলো। এটা তো আদালত করে নাই, সরকার করেছে, সরকারি কর্মচারীরা করেছে যারা এটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি করে তাকে সাথে নিয়েই আমরা নির্বাচন করবো এবং সেই নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
সেই নির্বাচনে যে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার উঠবে, দেশের মানুষ যখন উনার(খালেদা জিয়া) পক্ষে মাঠে নেমে যাবে তখন বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। আপনারা ধর্য্য ধরেন, কেউ হতাশ হবে না। ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঁচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ