ঢাকা, বুধবার 14 March 2018, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নেপালে হতাহতদের স্বজনরা জীবিত ১৯ জনকে শনাক্ত

সংগ্রাম ডেস্ক : বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল ৯টায় ৪৬ স্বজন ও ইউএস-বাংলার সাত কর্মকর্তাকে নিয়ে বিমানটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি পরিবার থেকে একজনকে নেপালে নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশীসহ ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ৯ বাংলাদেশীসহ ২২ জন।

ত্রিভুবন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ৬ কর্মকর্তা বদলি
সংগ্রাম ডেস্ক : নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সে সময় দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। দেশটির ইংরেজি নিউজ পোর্টাল মাই রিপাবলিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করার ধাক্কা ‘সামলে ওঠার সুযোগ দিতে’ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে সোমবার দুপুরে ত্রিভুবনে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট  বিএস ২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
ওই উড়োজাহাজে নেপালের ৩৩ জন, বাংলাদেশের ৩২ জন এবং চীন ও মালদ্বীপের একজন করে যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২২ জনকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর।
ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি কেন দুর্ঘটনায় পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনের একটি রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছে, যাতে মনে হয়  রানওয়েতে নামা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে দিক দিয়ে বিমানটির রানওয়েতে নামার কথা ছিল, পাইলট নেমেছেন তার উল্টো দিক দিয়ে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এ দুর্ঘটনার জন্য ত্রিভুবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনেছে।
তবে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপ মহা পরিচালক রাজন পোখারেল বলেছেন, ওই অডিও রেকর্ডের সঙ্গে ছয় কর্মকর্তাকে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনক এমন দুর্ঘটনার পর মানসিক চাপ লাঘবের এটাই প্রচলিত নিয়ম।

দুর্ঘটনায় যারা জীবিত আছেন
গত সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুতে ত্রিভূবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের পর স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাতে জীবিত ১৯ যাত্রীকে শনাক্তের কথা জানায় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাটি। এরা হলেন, ইমরানা কবির হাসি, কবির হোসেন, মেহেদী হাসান, রিজওয়ানা আব্দুল্লাহ স্বর্ণা সাঈদা কামরুন নাহার, শাহরিন আহমেদ, মো. শাহীন বেপারি, মো. রিজওয়ানুল হক, প্রিন্সি ধামি, সামিরা বায়জানকার, কিশোর ত্রিপাটি, হরিপ্রসাদ সুবেদী, দয়ারাম তামরাকার, কিষাণ পান্ডে, আশিস রঞ্জিত, বিনোদ পৌদাল, সনম সখ্য, দিনেশ হুমাগাইন, বসন্ত বহরা।
এদের মধ্যে ইমরানা কবির হাসি রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক, ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের বাড়ি গাজীপুরে। কামরুন নাহার স্বর্ণা তার স্ত্রী।
ঢাকায় ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ১৯ জনের নাম সাংবাদিকদের জানালে আহতদের অবস্থা কী, সে সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি তখন বলেন, “ যেহেতু অ্যাক্সিডেন্টটা বার্নের, এজন্য অনেকে কী অবস্থায় আছেন, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছেন আহতরা। আহতের সংখ্যা ২২ বলে নেপালের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার সময় বিমানটিতে মোট যাত্রী ছিলেন ৬৭ জন। এছাড়া ক্রু ছিলেন চারজন। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৩২ জন।
প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতান আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। ক্রুদের মধ্যে ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ ও ক্রু খাজা হোসেনের নাম কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া মৃতদের তালিকায় রয়েছে। আরেক ক্রু নাবিলার খবর পাওয়া যায়নি।
 নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজটির ৪৯ আরোহী নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত বিমানটি আগুন ধরে যাওয়ায় অনেকের লাশ পুড়ে গেছে বলে নেপালি কর্মকর্তারা জানান।
ইমরান আসিফ বলেন, “আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের দেশে ফিরিয়ে আনবে ইউএস বাংলা। ইউএস বাংলা, সিভিল এভিয়েশন ও সংশ্লিষ্টরা আজ (মঙ্গলবার)  নেপাল যাবেন।

বিমানের ল্যান্ড করা নিয়ে কি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল?
নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনার খবরটি সারা বিশ্বেই প্রধান খবর হিসাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই নেপালের সব গণমাধ্যমেও এই খবরটিই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে সেই সঙ্গে আরো একটি খবর শিরোনাম হয়ে এসেছে, ল্যান্ড করা নিয়ে কি ককপিট আর এয়ার কন্ট্রোলের মধ্যে কোন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল?
 শেষ চার মিনিটের কথোপকথন
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও আসিফ ইমরান বলেন, দুর্ঘটনার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন ও কাঠমান্ডু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-র মধ্যেকার কথোপকথন তারা পেয়েছেন এবং সেটি ইউটিউবেও পাওয়া যাচ্ছে।
ওই কথোপকথনের বিবরণ তুলে দিয়েছে নেপাল টাইমস। সেখানে বলা হয়, এটিসি থেকে পাইলটকে বলা হচ্ছে, আমি আবার বলছি, রানওয়ে ২০দিকে এগোবেন না।
পাইলট বলেন, তিনি অপেক্ষা করছেন।
এরপর তিনি সেটিকে অবতরণ না করে অপেক্ষা করতে বলেন। কারণ আরেকটি বিমান ওই রানওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে।
বিমানটি ডানদিকে ঘুরে গেলে এটিসি থেকে জানতে চাওয়া হয়, পাইলট কি রানওয়ে জিরো টুতে (উত্তর প্রান্ত) ল্যান্ড করবেন নাকি রানওয়ে টু জিরোতে (দক্ষিণ প্রান্ত)। ইউএস বাংলার পাইলট জানান, তারা রানওয়ে টু জিরোতে (২০) ল্যান্ড করবেন।
তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি জবাব দেন, নেগেটিভ, অর্থাৎ না। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তাকে ডানদিকে ঘুরতে বলা হয়। এরপরই পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন।
এরপর পাইলট বলেন, রানওয়ে জিরো টু-তে অবতরণ করার জন্য প্রস্তুত। এটিসিও তাকে বলে জিরো টুতে নামার অনুমতি দেয়। (যদিও একটু আগেই টু জিরোতে নামার বিষয়ে পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল টাওয়ারের কথা হয়েছে।)
এ সময় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটি সামরিক বিমানকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। কন্ট্রোল টাওয়ার জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বিমানটিকে টু-জিরোতে নামার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে (একটু আগেই কথা হয়েছে জিরো টুর বিষয়ে)।
এরপর ইউএস বাংলার পাইলট জানতে চান, স্যার, আমরা কি অবতরণের অনুমতি পেয়েছি? কিছুক্ষণ নীরবতার পরই কন্ট্রোলের চিৎকার শোনা যায়, আমি আবার বলছি, ঘুরে যান। এরপরই ফায়ার ওয়ানকে ডাকা হয়, যার মানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর নেপালি একজন পাইলটের প্রশ্নের জবাবে রানওয়ে বন্ধ বলে জানানো হয়।

বিধ্বস্ত বিমানের ‘ব্লাক বক্স’ উদ্ধার
বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার করা হয়েছে - এটি এমন একটি যন্ত্র যাতে ককপিটের যাবতীয় কথাবার্তা এবং বিমানের কারিগরি তথ্য রেকর্ড করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ব্লাক বক্সে'র তথ্য যাচাই করেই দুর্ঘটনার কারণটি জানা যাবে।
ব্লাক বক্স কী? প্রথমেই বলা ভালো, ব্লাক বক্স নামে ডাকা হলেও এর আসল নাম হলো ফ্লাইট রেকর্ডার। যেটি বিমান চলাচলের সর্বশেষ সব তথ্য রেকর্ড করে রাখে।
এভিয়েশন বা বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা কিন্তু এটিকে ব্লাক বক্স নামে ডাকেন না, তারা বলেন ফ্লাইট রেকর্ডার।
নামে ব্লাক বক্স কিন্তু আসলে কালো কোনো বস্তু নয়। বরং এর রঙ অনেকটা কমলা ধরণের। এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ বা যেকোনো তাপমাত্রায় টিকে থাকে। এটি দুইটি অংশের সমন্বয়ে আসলে একটি ভয়েস রেকর্ডার। বিমান চলাচলের সময় সব ধরণের তথ্য এটি সংরক্ষণ করে রাখে।
এর মধ্যে দুই ধরণের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হলো ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর, যেটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামের আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সাথে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিটের সাথে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে।
ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্লাক বক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়।
বাক্সটির বক্স উজ্জ্বল কমলা হওয়ায় সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। সমুদ্রের তলদেশেও ৩০ দিন পর্যন্ত ব্লাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ থেকে একটি সাহায্যকারী দল পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন।
সিঙ্গাপুর সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় তিনি হতাহতের জন্য শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
ওদিকে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে তারা তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছেন এবং দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঠমান্ডু গিয়ে তদন্ত শুরু করবে।

অবতরণের আগে বিমানটি অস্বাভাবিক আচরণ করছিল- আহত যাত্রী
নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটির শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি জানা গেছে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ভাষ্যে।
কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বসন্ত বোহোরা নামের ওই নেপালি বর্তমানে আরও ১৫ জনের সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।   
রাশিতা ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেলস অ্যান্ড টুরস এর কর্মী বসন্ত জানান, তারা বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সির মোট ১৬ জন কর্মী বাংলাদেশে এক প্রশিক্ষণ শেষে নেপালে ফিরছিলেন।
তিনি বলেন, ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১ ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার সময় সব স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ত্রিভুবনে অবতরণের আগ মুহূর্তে উড়োজাহাজ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।
‘হঠাৎ প্রচ- ঝাঁকুনি শুরু হয়। এর পরপরই বিকট শব্দ। আমি জানালার ওপর আছড়ে পড়লাম। কীভাবে যেন ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।”
কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছে তা মনে করতে পারেন না বসন্ত বোহোরা। তাকে প্রথমে সিনামঙ্গল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এক বন্ধু তাকে নরভিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
“আমার মাথা আর পায়ে আঘাত লেগেছে। তারপরও আমার সৌভাগ্য যে এমন ঘটনার পরও আমি বেঁচে আছি।”

অবতরণের আগে ২ বার আকাশে চক্কর দেয় বিমানটি
নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি অবতরণের আগে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে দুই বার চক্কর দিয়েছিল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
ওই বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি জানান, পাইলট অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর উত্তর দিকে অবতরণ করতে চান। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানান, কোনো সমস্যা নেই। এরপর অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় উড়োজাহাজটি। আবার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু কি ঠিক আছে? জবাবে পাইলট জানান, ঠিক আছে।
এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, উড়োজাহাজটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

১০ নেপালিকে বাঁচাতে জীবন দিলেন পাইলট প্রিথুলা
নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিমানটির বাংলাদেশী কো-পাইলট প্রিথুলা রশিদ।
নিজের জীবনের বিনিময়ে বিমানটির ১০ নেপালি যাত্রীকে বাঁচিয়েছেন তিনি। ইউএস-বাংলার প্রথম নারী পাইলট প্রিথুলা নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সময় ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
এতে বিমানটিতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনই মারা যান। এর মধ্যে পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট প্রিথুলা রশিদ ও ক্রু খাজা হোসেন রয়েছেন। অন্যদিকে বেঁচে আছেন ক্রু কে এইচ এম শাফিসহ ২২ জন।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘সিকিম ম্যাসেঞ্জার’ নামে একটি পেজে প্রিথুলার মহানুভবতার কথা তুলে ধরে বলা হয়, ‘আজ নেপালি নাগরিকদের বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশী কন্যা তার নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে কাঠমান্ডুতে আজ এই বাংলাদেশী তরুণী পাইলট মারা গেছেন।
তার নাম মিস প্রিথুলা রশিদ। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট বিএস২১১) কো-পাইলট ছিলেন। যেটি আজ নেপালের কাঠামান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে। যাই হোক, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ১০ নেপালি নাগরিককে রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। যাদের সবাই জীবিত আছেন।’
প্রিথুলার ফেসবুক পাতা থেকে জানা যায়, তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ