ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা সংস্কার দাবিতে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ পুলিশের টিয়ার শেল লাঠিপেটা ॥ আটক ৬৩

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে কোটা প্রথার সংস্করণের দাবিতে মিছিলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এক মাস ধরে আন্দোলনে থাকা বিক্ষোভকারীরা গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় শাহবাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে রওনা দেয়। মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবন চত্বরে পৌঁছালে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং টিয়ার শেল (কাদুনে গ্যাস) ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থী সুমন কবির বলেন,  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে হাজারের বেশি চাকরি প্রত্যাশী মিছিল শুরু করে। “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সচিবালয় অভিমুখে যাচ্ছিলাম। হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। আমরা বসে পড়লে পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছোড়া শুরু করে। তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।”
ওই তিনজনকে রমনা থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে পরে চল্লিশ জনকে আটক করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হাসান সরদার জানিয়েছেন।
আন্দোলনের এক মুখপাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসান আল মামুন, “আমরা আটককৃতদের মুক্তির ব্যাপারে কথা বলতে প্রায় একশ’ জনের মতো রমনা থানায় এসেছি। তবে পুলিশ আমাদের কোনো কথা না শুনেই আমাদের ঘিরে ধরে লক-আপের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলে। এ সময় ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।”
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, রাস্তা আটকানো ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার জন্য তাদের আটক করা হয়েছে।
 কোটা সংস্কারের দাবিতে ৫ দফা দাবিতে গত এক মাস ধরেই আন্দোলন করে আসছে চাকরিপ্রার্থীরা। ৫ দফা দাবি হচ্ছে, সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।
জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, হাইকোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তারা অবস্থান নেয়। তাদের বারবার  রাস্তার একপাশে অবস্থান নিতে বলা হলেও  তারা রাস্তা ছাড়েনি। সে কারণে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহবাগ। গতকাল  বিকেল থেকে শাহবাগে রাস্তার এক পাশ বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুরে কোটা সংস্কারের আন্দোলন থেকে আটক তিনজনকে ছাড়াতে গিয়ে রমনা থানায় আটক হয়েছেন আরও ৬৩ জন আন্দোলনকারী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টিএসসিতে জড়ো হয়ে রমনা থানার উদ্দেশে বের হয়। সেখানে থানার সামনে অবস্থান নেয় তারা। পরে বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকশ’ শিক্ষার্থী শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বলে গত রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে। এ সময় তারা এক দফা এক দাবি, মুক্তি আর সংস্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিচ্ছেন। এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদে মিছিল বের করা হয়েছে। শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। থানার সামনের রাস্তায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ করে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন। সন্ধ্যা থেকেই তারা শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান পাঁচজনকে রমনা থানায় গিয়ে কথা বলার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না।
আন্দোলনকারীরা বলছে, তাদের কর্মসূচি থেকে ৩ জনকে আটক করে রমনা থানা পুলিশ। এরপর তাদের ছাড়াতে আরো অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী রমনা থানায় গেলে তাদেরও আটক করা হয়। এসব আটক নেতাকর্মীকে নিঃশর্ত ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত রাস্তা ছেড়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ