ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকার ৫টিসহ ৩৮ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য ঢাকার ৫টি আসনসহ ১৬ জেলার ৩৮টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করে পুনর্বিন্যস্ত নির্বাচনী এলাকার খসড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। এ খসড়া গতকালই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। কারো আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
গতকাল বুধবার কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
যে সব আসনে নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হল- নীলফামারী ৩, ৪; রংপুর ১, ৩, ৪; কুড়িগ্রাম ৩, ৪; পাবনা ১, ২; মাগুরা ১, ২; খুলনা ৩, ৪; সাতক্ষীরা ৩, ৪; জামালপুর ৪, ৫; ঢাকা ২, ৩, ৭, ১৪, ১৯; নারায়ণগঞ্জ ৪, ৫; শরীয়তপুর ২, ৩; মৌলভীবাজার ২, ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫, ৬; কুমিল্লা ১, ২, ৬, ১০; নোয়াখালী ৪, ৫ এবং চট্টগ্রম ৭, ৮ আসন।
হেলালুদ্দীন বলেন, আজ (বুধবার) এই তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হল। এ নিয়ে কারো কোনো দাবি-আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। কমিশন দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত ৩৮টি আসনে উপজেলার অখ-তা, প্রশাসনিক এলাকা যোগ ও বিলুপ্ত ছিটমহল যোগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে একাদশ সংসদে ২৬২ আসনের সীমানা আগের মতই থাকল।
কমিশনের সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখা দাবি করে; অন্যদিকে বিএনপি ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি করে আসছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পরদিনই প্রস্তাবিত পুনর্গঠিত এলাকার খসড়া প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
 গেল বছর ১৬ জুলাই ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সীমানা চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।
 রোডম্যাপে সিইসি বলেছিলেন, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে তাদের নতুন আইন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সবার সঙ্গে আলোচনা করেও নতুন আইন প্রণীত হয়নি। সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য পরামর্শকও নিয়োগ দিয়েছিল ইসি।
২০১১ সালে সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনসংখ্যার যথাসম্ভব সমতা রেখে দশম সংসদ নির্বাচনে আদমশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হয়। পরবর্তী আদমশুমারির প্রতিবেদন হবে ২০২১ সালে।
ইসি কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে একাদশ সংসদ নির্বাচন বিদ্যমান সীমানাতেই হতে পারবে। শুধু বিলুপ্ত ছিটমহল ও নতুন উপজেলা বা প্রশাসনিক কিছু এলাকা সংসদীয় আসনে যুক্ত করলেই চলবে। সেক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনার দরকার পড়বে না।
২০০১ সালের নির্বাচনের সময় ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে ১৩৩ সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দশম সংসদে ছয়টি নীতিমালা অনুসরণ করে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ