ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইউএস-বাংলার কাঠমান্ডু ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

সংগ্রাম ডেস্ক : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে নেপাল যাচ্ছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একটি দল। এজন্য আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়বেন সাত চিকিৎসকের প্রতিনিধিদলটি। বহরের একটি উড়োজাহাজ কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনায় পড়ে অর্ধশত মানুষ নিহত হওয়ার পর কাঠমান্ডুতে আপাতত ফ্লাইট না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইউএস বাংলা ও ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করলেও উভয়পক্ষের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিমানের পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এটিসি টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগগত ত্রুটির কারণে ওই দুর্ঘটনা হয়েছে। ইউএস বাংলা দুর্ঘটনার জন্য কন্ট্রোল রুমের ভুল বার্তাকে দায়ী করলেও ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানের পাইলট ভুল রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। শীর্ষনিউজ/বাংলা ট্রিবিউন/বিবিসি।
 নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। বুধবার নেপালের একটি হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্ত শেষ করতে আরও চার দিন লাগবে। তারপর তারা স্বজনদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য নিশ্চিত করে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। লাশ ফেরত পাঠাতে  হয়ত আরও ২-১ দিন বেশি লাগতে পারে।’
এছাড়া মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া লাশ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সেই লাশগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
লাশ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিস্তারিত জানানো হবে উল্লেখ করে এ সময় তিনি হতাহতদের স্বজনদের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে উপস্থিত থাকতে বলেন।
এদিকে নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের দেখতে না দেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটি মৃতদেহ দেখেছি। এসব মৃতদেহের প্রায় ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে। তাদেরকে আইডেন্টিফাই করা কঠিন হবে। লাশগুলোর অবস্থা ভয়ঙ্কর। তাই সেগুলো দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।’
আজ নেপাল যাচ্ছেন ৭ চিকিৎসক
 নেপালের কাঠমা-ুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দিতে নেপাল যাচ্ছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একটি দল। এজন্য আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়বেন সাত চিকিৎসকের প্রতিনিধিদলটি। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই সাত সদস্যের চিকিৎসকদলকে নেপালে পাঠানো হচ্ছে। আগামীকাল( আজ) সকাল ১১টায় নেপালের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়বেন তারা। চিকিৎসকদের দলে রয়েছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের তিনজন, জেনারেল ওয়ার্ডের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের (আইসিইউ) দুজন বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) দুজন চিকিৎসক।
ইউএস-বাংলার কাঠমান্ডু ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
বহরের একটি উড়োজাহাজ কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনায় পড়ে অর্ধশত মানুষ নিহত হওয়ার পর কাঠমান্ডুতে আপাতত ফ্লাইট না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম বুধবার সংস্থার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান।
ইউএস-বাংলার বিএস-২১১ ফ্লাইটটি গত সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময়  বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধশত নিহত হন। বিমানের পাইলটসহ চার কেবিন ক্রুর সবাই নিহত হন এই দুর্ঘটনায়। কামরুল বলেন, “ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটে আমাদের ফ্লাইট পরিচালনা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।”
এই দুর্ঘটনার পর দৃশ্যত উড়োজাহাজ সঙ্কটে পড়তে হয়েছে ইউএস-বাংলাকে। কেননা কানাডার বোম্বারডিয়ার কোম্পানির তৈরি যে ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়, সেদিন কাঠমান্ডুতে রওনা হওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ দুটি ফ্লাইট চালানো হয়েছিল এটি দিয়ে।
ইউএস বাংলার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বহরে চারটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। একটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এখন তাদের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা সাতটি।
কাঠমান্ডু ফ্লাইট আপাতত বন্ধ রাখলেও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে জানান কামরুল।
চার বছর আগে যাত্রা শুরু করা বিমান সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কলকাতা, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, মাসকাট, দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।
ইউ-এস বাংলার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে সকাল সাড়ে ৭টা, সকাল ১০টা, বিকাল ৩টা, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা, সন্ধ্যা ৬টায় এবং রাত পৌনে ৯টায় তাদের ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর ও কক্সবাজারে তাদের ফ্লাইটও সচল।
সকাল সাড়ে ৭টায় শাহজালাল বিমানবন্দর খেকে চট্টগ্রাম এবং সকাল ১১টায় কলকাতাগামী ফ্লাইট যাত্রা করেনি।
তবে ৭টা ৪০ মিনিটে যশোর, ৮টা ৪৫ মিনিটে সৈয়দপুর, ৮টা ৫০ মিনিটে কুয়ালালামপুর, সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম, ১০টা ১০ মিনিটে যশোর, ১১টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার, ১২টা ১০ মিনিটে সৈয়দপুর, দুপুর ১টায় সিলেট, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী, বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম, বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সৈয়দপুরের উদ্দেশে ফ্লাইটগুলো যাত্রা করেছে।
কার ভুলে বিধ্বস্ত হলো ইউএস বাংলার ফ্লাইট?
 নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইউএস বাংলা ও ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করলেও উভয় পক্ষের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিমানের পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এটিসি টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগগত ত্রুটির কারণে ওই দুর্ঘটনা হয়েছে। ইউএস বাংলা দুর্ঘটনার জন্য কন্ট্রোল রুমের ভুল বার্তাকে দায়ী করলেও ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে,বিমানের পাইলট ভুল রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে অতীতেও এই কন্ট্রোল রুমের ভুল বার্তা দেওয়ার নজির রয়েছে। জার্মান বিমান-নিরাপত্তা বিষয়ক ওয়েবসাইট জেএসিডিইসি থেকে প্রচার হওয়া অডিওতে দুইটি রানওয়েই অবতরণে প্রস্তুত বলে নির্দেশনা শোনা গেছে। এএফপির সরবরাহকৃত আরেক অডিওতে দুই যাত্রী কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া শেষ বার্তাকে ভীতিকর বলেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও অবতরণে অপেক্ষারত অবস্থায় বিমানটিকে রানওয়ের ওপর দিয়ে ঘুরপাক খেতে দেখেছেন। এদিকে ঘটনার দিন ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা ৬ কর্মকর্তাকে অন্যত্র স্থানান্তরের ঘটনাকে সন্দেহজনক মনে করছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে নেপাল। ফাঁস হওয়া অডিও বার্তাও তদন্ত করবে তারা। তদন্তের ফলাফল যাই হোক, দুর্ঘটনার পর পাওয়া বিমানের ব্ল্যাকবক্স থেকে প্রকৃত দায়ীকে চিহ্নিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের ধ্বংসাবশেষ
ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। সেনাসূত্রে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। সেনা মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন,নয়জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চ্যানেল নিউজ এশিয়া ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার দায় দিয়েছেন বিমানের পাইলটকে। বিমানবন্দরের  মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি বলেছেন, নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ রানওয়েতে নামতে পারেনি বিমানটি। তার দাবি, কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে বারবার পাইলটকে জ্ঞিজ্ঞেস করা হয়েছে, সব ঠিক আছে কিনা। পাইলট ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিয়েছেন।
আল জাজিরা তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে,জেনারেল ম্যানেজার বিমানটি কন্ট্রোল রুমের নির্দেশনা অনুসরণ করেনি। তিনি দাবি করেন, ‘বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বিমানটিকে দক্ষিণ দিকে অবতরণের অনুমোদন দিলেও তারা উত্তর দিকে অবতরণের চেষ্টা করে।’
তবে এ তথ্য মানতে নারাজ ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আফিফ। তিনি বলেন, এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে না পারলেও আমাদের আশঙ্কা কাঠমান্ডু বিমান কর্তৃপক্ষের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হয়েই পাইলট আবিদ হাসান ভুল রানওয়েতে নেমেছিলেন। ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও আসিফ ইমরান দুর্ঘটনার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন ও কাঠমান্ডু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-র মধ্যকার কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাইলটকে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
জার্মান বিমান-নিরাপত্তা বিষয়ক ওয়েবসাইট জেএসিডিইসি থেকে প্রচার হওয়া অডিওতে শোনা যায়,এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার-এটিসি থেকে পাইলটকে রানওয়ে ২০ এর দিকে এগোতে মানা করা হচ্ছে। পাইলট জানান, তিনি অপেক্ষা করছেন। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তাকে অবতরণ না করে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কারণ, আরেকটি বিমান ওই রানওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। বিমানটি ডানদিকে ঘুরে গেলে এটিসি থেকে জানতে চাওয়া হয়, পাইলট কি রানওয়ে জিরো টুতে (উত্তর প্রান্ত) ল্যান্ড করবেন নাকি রানওয়ে টু জিরোতে (দক্ষিণ প্রান্ত)। ইউএস বাংলার পাইলট জানান, তারা রানওয়ে টু জিরোতে (২০) ল্যান্ড করবেন। এরপর জানতে চাওয়া হয় তিনি রানওয়ে দেখতে পারছেন কিনা। পাইলট নেতিবাচক উত্তর দেন। এবার এসিটি থেকে তাকে ডানদিকে ঘুরতে বলা হয়। তখন পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। বলেন, জিরো টু-তে অবতরণ করার জন্য প্রস্তুত।
কন্ট্রোল টাওয়ার জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বিমানটিকে টু-জিরোতে নামার চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে (একটু আগেই কথা হয়েছে জিরো টুর বিষয়ে)।এ সময় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটি সামরিক বিমানকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। এরপর ইউএস বাংলার পাইলট জানতে চান, স্যার, আমরা কি অবতরণের অনুমতি পেয়েছি? কিছুক্ষণ নীরবতার পরই কন্ট্রোলের চিৎকার শোনা যায়, আমি আবার বলছি, ঘুরে যান। এরপরই ফায়ার ওয়ানকে ডাকা হয়, যার মানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর নেপালি একজন পাইলটের প্রশ্নের জবাবে রানওয়ে বন্ধ বলে জানানো হয়।
 নেপাল বিমান কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সঞ্জীব গৌতম, অডিও’র সত্যতা অস্বীকার করেননি। তবে এটি প্রকাশ্যে আনাকে তিনি আইন বিরুদ্ধ কর্মকা- দাবি করেন। এরইমধ্যে নেপাল জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া অডিওর সত্যতা নিশ্চিতে তাদের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এগুলো তদন্ত করে দেখবে।
অপর একটি কথোপকথনের সূত্রে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সেখানেও যোগাযোগগত ত্রুটি ঘটার আলামত মিলেছে। ফ্লাইট বিএস ২১১ নিয়ে বলতে গিয়ে একজন নেপালি বলছিলেন. ‘দেখেন, তাদের সত্যিই খুব বিচলিত মনে হচ্ছে’। আরেকজন বলে ওঠেন, ‘কী করবেন তারা তো বুঝে উঠতে পারছে না।’ অবতরণের কয়েক মুহূর্ত আগে পাইলট জানতে চেয়েছিলেন,‘আমরা কি নামতে পারি?’ একটু পরেই কন্ট্রোলার ফিরতি বার্তায় বলেন, ‘আমি আবার বলছি ঘুরে যান।’ এই নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে রানওয়েতে আগুন ধরে যায়। প্রাপ্ত কথোকথন সূত্রে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে,কন্ট্রোল রুম থেকে এমন করেই শেষ কথাটা বলা হয়েছিল যা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। এ ধরনের যোগাযোগে কখনও এমন স্বরে কেউ কথা বলে না।
২০১৬ সালের ২৭ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিমালয়ান টাইমস এক পাইলটকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, তিনি (ওই পাইলট) প্রায়ই ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ভুল তথ্য পান। দৈনিকটির কাছে ওই পাইলট অভিযোগ করে বলেছিলেন,‘আজ  সকালেও টাওয়ার থেকে আমাকে জানানো হয় বিমানবন্দরের দৃষ্টিসীমা ৩ কিলোমিটার। তবে কাঠমান্ডুর আকাশে কুয়াশা থাকায় আবহাওয়া বিভাগের আপডেট তথ্য দেখাচ্ছিল দৃষ্টিসীমা দেড় কিলোমিটারেরও কম। বিপরীতে বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট ১৭০০ ঘণ্টা ইউএস বাংলার এই বিমানটি চালিয়েছেন। তিনি এর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরও ছিলেন।
 নেপালে কর্মরত মার্কিনি আমান্দা সামার্স নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে এপি বলছে, প্লেনটি অবতরণের আগে এদিক-ওদিক ঘুরছিল। যখনই এটি নামতে থাকে তখনই পরপর দুইটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আগুনের ফুলকি উঠতে শুরু করে।
মিনহাজুর রহমান নামের একজন প্রত্যক্ষদশী বলেন, আমাদের চেকইন সব ওকে, অপেক্ষা করছিলাম উড়োজাহাজ আসার জন্য। বিমানটি ল্যান্ড করার সময় বিধ্বস্ত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে। অনেক ধোঁয়া দেখিছি, তবে পানি স্বল্পতা ছিল। মানুষজনকে উদ্ধার করতে অনেক মানুষ দেখেছি। আগুনের কু-লী বেশি থাকায় কাছে গিয়ে কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।যেভাবে পুড়েছে তাতে মানুষজনের বেঁচে থাকা কঠিন।
ঢাকার একটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককে উদ্ধৃত করে  ত্রিভুবন বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অবতরণের যথাযথ নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় বিমানটি দুইবার বিমান বন্দরের ওপর ঘোরাফেরা করে।
 নেপাল এরইমধ্যে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সেই তদন্তে কী উদঘাটিত হবে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। তবে বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারকৃত ব্ল্যাকবক্স থেকে প্রকৃত দায়ীকে শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দুইটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত ফ্লাইট রেকর্ডার দুই ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর নামের অংশটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ নিজস্ব সিস্টেমের অভ্যন্তরে রেকর্ড করে রাখে। অপর অংশ ককপিটভয়েস রেকর্ডারে (সিভিআর) নামের আরেকটি অংশে ককপিটের অভ্যন্তরীণ কথোপকথন আর  ককপিট এর সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে। পাইলট, কো পাইলট, ক্রুদের বসার কাছাকাছি জায়গায় অনেকগুলো মাইক্রোফোন বসানো থাকে। তাদের সব কথাবার্তা, নড়াচড়া বা সুইচ চাপা ইত্যাদি সব এসব মাইক্রোফোনে রেকর্ড হতে থাকে। সেগুলো এ্যাসোসিয়েটেড কন্ট্রোল ইউনিট নামের একটি ডিভাইসে পাঠায়। এরপর সেসব তথ্য ব্ল্যাক বক্সে গিয়ে জমা হয়। বিমান চলাচলের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্ল্যাক বক্স তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। মূলত শেষের দিকে তথ্য এটিতে জমা থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর আগের তথ্য মুছে যেতে থাকে আর নতুন তথ্য জমা হয়। ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্য এটিতে পাওয়া যায়। আধুনিক ব্ল্যাকবক্সগুলোয় ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট ডাটা ধারণ করে রাখতে পারে। তাই উদ্ধারকৃত ব্ল্যাকবক্সে সঞ্চিত কথোপকথন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দায়ীকে শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
আইন লঙ্ঘন করে পাইলটের কথোপকথন ফাঁস!
বিবিসি : আইন লঙ্ঘন করে পাইলটের কথোপকথন ফাঁস!আইন লঙ্ঘন করে পাইলটের কথোপকথন ফাঁস!
কাঠমান্ডুর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বা এটিসির সঙ্গে সোমবার ভেঙ্গে পড়া ইউএস বাংলার বিমানটির পাইলটের কথোপকথন দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ইউটিউবে। তার ভিত্তিতেই দোষারোপের পালা চলছে যে কার ভুলে দুর্ঘটনায় পড়েছিল বিমানটি। ওই কথোপকথন রেকর্ড করা বা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করে দেয়াটা বেআইনি।
কিন্তু ভারতের অ্যামেচার রেডিও অপারেটররা বলছেন, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বা আইটিইউ-র নির্দেশিকা ভেঙ্গেই এ ধরনের কথোপকথন শোনা এবং রেকর্ডিং করা বহু দেশেই চলছে, ভারতেও চলছে। ইউএস বাংলার পাইলট আর কাঠমান্ডু এটিসি-র এই কথোপকথন এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রথম দেয়া হয়েছিল যে সাইটে বিশ্বের বহু এটিসির সঙ্গেই পাইলটদের কথাবার্তার রেকর্ডিং পাওয়া যায়।
ওই ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা নানা দেশে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেন এটিসি এবং পাইলটদের মধ্যে কথোপকথন শোনা এবং তা লাইভস্ট্রিমিং করার জন্য। এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও অনেক সময়ে ওই ওয়েবসাইটটিই যোগান দিয়ে থাকে।
ভারতের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যামেচার রেডিও-র অধিকর্তা এস. রামমোহন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এটিসি এবং পাইলট কোনো ফ্রিকোয়েন্সিতে কথা বলছেন, এটা যদি কেউ জানতে পারে আর তার কাছে যদি ভিএইচএফ রেডিও যন্ত্রপাতি থাকে, তাহলে এই কথোপকথন শোনা এবং রেকর্ড করা সম্ভব।"
"এটা কোনো এনক্রিপ্টেড বার্তালাপ নয়। সাধারণ ভিএইচএফ বা ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামেই কথা বলে এটিসি ও পাইলটরা"।
তিনি বলেন, কারিগরি দিক থেকে এই বার্তালাপ শোনা কঠিন নয় কিন্তু এটা সারা পৃথিবীতেই বেআইনি।
আইটিইউ-র নিয়ম অনুযায়ী একজন রেডিও অপারেটরকে যে ফ্রিকোয়েন্সি দেয়া হয়েছে, তিনি তার বাইরে যেতে পারেন না। তবে আবহাওয়ার কারণে অনেকসময়েই অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের যন্ত্রেও পাইলট এবং এটিসি-র মধ্যেকার কথাবার্তা চলে আসে ক্ষণিকের জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ