ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের কথা ॥ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

ভারতের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা
সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত মন্তব্য করেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অস্থির রাখতে চীনের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ওই এলাকার দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান। তার এ বক্তব্য সম্পর্কে ভারতীয় মিডিয়ায় বলা হয়েছে, একজন সেনাপতির পক্ষে এ বক্তব্য স্বাভাবিক নয়। কারণ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত রাজনীতি থেকে দূরে আছে (দৈনিক সংগ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। ভারতের হিন্দু মৌলবাদী আন্দোলন সম্পর্কে যারা ওয়াকিফহাল, তাদের কাছে ব্যাপারটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা নয়। এর কারণগুলো নি¤œরূপ :
এক. ভারতে আরএসএস প্রতিষ্ঠিত ‘বিদ্যাভারতী’ নামক হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোতে বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের হিন্দু মৌলবাদ প্রচারের সেবক বানানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রথামিক স্কুলে শিশুরা প্রতিদিন ভোরে এসেম্বলিতে যে শ্লোগান দেয়, তার মধ্যে আছে, ‘হিন্দুস্তান হামারা হয়, নেহি কিসি কা বাপ কা।’ পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্য ‘ইতিহাস গা রহা হায়’ পুস্তকে বলা হয়েছে : ‘(মুসলিম) আক্রমণকারীগণ এক হাতে তরবারি ও অপর হাতে কুরআন নিয়ে আসল। অসংখ্য হিন্দুকে তরবারির মুখে জবরদস্তিমূলকভাবে মুসলমান বানানো হলো। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি ধর্মীয় যুদ্ধে পরিণত হলো। ধর্মের জন্য অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়া হলো। আমরা এক যুদ্ধের পর আরেক যুদ্ধে জয়ী হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকলাম। আমরা কখনও বহিরাগত শাসকদের স্থায়ীভাবে বসতি করতে দেইনি। তবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আমাদের ভাইদের (অর্থাৎ, মুসলমানদের) এখনও হিন্দুধর্মে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারিনি।’ বিদ্যাভারতীয় নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বের হন, তারা স্বভাবতই সারা জীবন ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী চরম সাম্প্রদায়কি হিসাবে কাজ করেন।
দুই. ভারতীয় সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন চাকুরি-প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য আরএসএস ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও কোচিং সেন্টার স্থাপন করেছে। প্রার্থীদের মধ্যে যারা পরীক্ষায় পাস করে বিভিন্ন পেশায় যোগ দেয়, তারা আরএসএস-এর আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চাকুরি জীবনে কাজ করে।
তিন. ভারতের এমন কোনো পেশাজীবী শ্রেণি নেই, যাদের নিয়ে আরএসএস কোনো অঙ্গসংগঠন গড়ে তুলেনি। এসব সংগঠনের মধ্যে আছে, ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিসান সংঘ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, পূর্বসৈনিক সেবা পরিষদ। অবসর গ্রহণ করার পর সেনাবাহিনীর অফিসারগণ শেষোক্ত সমিতিতে (পুর্বসৈনিক সেবা পরিষদে) যোগদান করে থাকেন এবং বাকি জীবন হিন্দু মৌলবাদের পক্ষে কাজ করেন। এ জন্যই দেখা যায় সেনাপতি বিপিন রাওয়াত যে মন্তব্য করেছেন, তার পূর্ববর্তী সেনাপ্রদান তার পক্ষে মত দিয়েছেন। আরএসএস এবং বিজেপি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে যে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, তা এখন এক অপেন সিক্রেট। এ প্রসঙ্গে এডমিরাল (আব.) জে.জি. নাডকর্ণির একটি মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, “High officers of Indian army are coloured by Hindutva. Most of them wear Bhagwa banians beneath their military uniform.”
-রুরতাহিন বিল্লাহ জাসির (সাবেক গবেষক-পরামর্শক, আইডিবি, জেদ্দা)
e-mail : Mbjasir43@gmail.com

পেনশন প্রাপ্তিতে জটিলতা
পেনশন সহজিকরণ আদেশ ২০০৯-এ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও সংযোজনের পরিপত্র গত ৩০-০৪- ২০১৬ তারিখে জারি করা হলেও পেনশন প্রাপ্তি সহজিকরণ হয়নি। আসলে সমস্যার মূল জায়গায় যাওয়া হয়নি। মূল কারণ, না দাবি প্রত্যায়নপত্র। বিশেষ করে অডিট আপত্তির বিষয়টি। বেশির ভাগ অডিট আপত্তি প্রাতিষ্ঠানিক হলেও তা ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করা হয়। কোনো কোনো অডিট আপত্তি সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে হলেও তা ডিডিও-এর উপর চাপানো হয়। সে সমস্ত অডিট আপত্তি “অগ্রিম”, তার নিষ্পত্তির জন্য জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অডিট অফিসে প্রেরণ করতে হয় এবং তখনই শুরু হয় হয়রানী। অগ্রীম অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলে মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখা তা দীর্ঘদিন ফেলে রাখে। টাকা ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখা আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত জবাবটি নিষ্পত্তির জন্য অডিট অফিসে প্রেরণ করে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ত্রিপক্ষীয় সভা করতে চায় না, সভা করলেও সভার রেজুলেশন লেখে না, আবার রেজুলেশন করলেও তা অডিট অফিসে পাঠায় না। আবার দেখা যাচ্ছে এগুলো সবই হয় যদি মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখাকে তাদের চাহিদা মতো টাকা দেওয়া হয়। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জবাবটি অডিট অফিসে পৌঁছালে, সেখানে চলে আরেক খেলা। মাসের পর মাস অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত জবাবটি সেখানে পড়ে থাকে, কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। ভাগ্যবান থাকলে এবং টাকা দিলে আপত্তি নিষ্পত্তি হয়, আর তা না হলে ঠুকনো কারণ দেখিয়ে পুনঃজবাব চাওয়া হয়। এর অর্থ আবার জবাব লিখে মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখাকে আবার টাকা দিয়ে জবাবটি অডিট অফিসে নিয়ে আসতে হয়। এতে প্রচুর টাকা খরচ হয়, সময় নষ্ট হয় এবং চূড়ান্ত হয়রানি হতে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না করে আপত্তিটি জীবন্ত রাখা হয়। কিন্তু পেনশনের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অডিট অফিস এতদিন জড়ো করে রাখা অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য বলে এবং এই অজুহাতে তার পেনশন আটকে দেওয়া হয়। হতভাগ্য পেনশন প্রত্যাশি এই বৃদ্ধরা তখন ধারদেনা করে প্রচুর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অডিট শাখা ও অডিট অফিসকে দিয়ে এই আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করেন। পরবর্তীতে গ্রাচুইটির টাকা পাওয়ার পর এই ধার শোধ করেন। এটাই এখন বাস্তব সত্য। আবার বৃদ্ধ বয়সে পেনশনের টাকা না পেয়ে অনেকে খাওয়ার অভাবে, চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে, এমন নজিরও অনেক, যা সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। পিআরএল শেষ হওয়ার পর বেতন বন্ধ হলে একজন সরকারী কমকর্তা-কর্মচারী কিভাবে চলে তা দেখার কেউ নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। তাই আল্লাহর উপর বিচার দিয়ে তাদের জীবন শেষ হয়। পেনশনের টাকা সরকারের ঘরেই পড়ে থাকে।
একটা সময় ছিল, যখন আবেদন করলে পেনশনের ৮০% টাকা অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির পূর্বেই দেয়া হতো। এখন সেটা নানা অজুহাতে দেয়া হয় না। পেনশন প্রাপ্তি একজন সরকারী কর্মচারীর মৌলিক অধিকার। অথচ ঠুনকো কারণ দেখিয়ে তাকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। পেনশন সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের একটা নির্দেশনা ছিল যে, পেনশন প্রাপ্তিতে অডিট আপত্তির বিষয়টিকে না জড়াতে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়নি। কাজেই  সরকারের প্রতি অনুরোধ হাজার হাজার পেনশন প্রত্যাশি এইসব বৃদ্ধদের কথা চিন্তা করে আসলেই পেনশনপ্রাপ্তি সহজিকরণ করুন, কাগজে-কলমে নয়।
-ইসতিয়াক আহমেদ, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

॥ ১ ॥
কৃষি জমি আর
নষ্ট নয়
বাংলাদেশ প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে কৃষি জমিগুলোতে বাড়িঘর নির্মাণসহ পুকুর জলাশয় কিংবা ইটের ভাটা তৈরি হওয়ায় জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে করে আগামীদিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে এখনই কৃষি জমিগুলোর দিকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে বলে আমি মনে করি।
॥ ২ ॥
দেশের ৩১০টি নদ-নদী খনন করা হোক
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশ প্রাচীনকাল থেকেই নদ-নদী, খাল-বিল বিধৌত। তাইতো এ দেশের মানুষকে মাছে-ভাতে বাঙালিও বলা হয়। এ দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীসহ প্রায় ৩১০টি নদ-নদী খনন করার সময় এখনই। এতে বর্তমান প্রজন্মসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপকার বয়ে আনবে বলে মনে করি।
-আজিম উল্যাহ হানিফ,
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ