ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলের তেল ও বর্জ্য অপসারণে মংলা বন্দরে সংযুক্ত হলো অত্যাধুনিক অয়েল স্পিল রেসপনস রিকভারি শিপ

খুলনা অফিস : প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর এই সর্বপ্রথম মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌযান বহরে সংযুক্ত হলো অত্যাধুনিক অয়েল স্পিল রেসপনস/রিকভারি ভেসেল (নদ-নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল/বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ) ‘পশুর কিনার-০১। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংলগ্ন সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনার তিন বছর পর তেল/বর্জ্য অপসারণকারী এই জাহাজটি ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেল সুরক্ষায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফিনল্যান্ড থেকে ক্রয়কৃত পশুর কিনার-০১ নামক বর্জ্য অপসারণকারী এ জাহাজটি মঙ্গলবার দুপুরে মংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। এ সময় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ, কে, এম ফারুক হাসান, মেম্বর (অপারেশন) আব্দুল বাতেন ও হারবার মাস্টার কমান্ডার ওয়ালিউল্লাহ ফিনল্যান্ড থেকে আসা জাহাজটি স্বাগত জানান এবং বুঝে নেন। 

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ, কে, এম ফারুক হাসান বলেন, মংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকায় ভবিষ্যৎতে যদি কখনও তেল কিংবা কোন ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে তাহলে এ জাহাজ দিয়ে তা মোকাবেলা ও অপসারণ করা সম্ভব হবে। মূলত সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ এ ধরণের জাহাজ ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলশ্রুতি ও প্রয়োজনীতায় এ জাহাজটি ক্রয় করা হয়েছে। ফিনল্যান্ডের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল জাহাজটি নিয়ে গত ১৩ মার্চ মংলা বন্দরের জেটি ভিড়েছে। তবে পশুর কিনার-০১ এর মত এ ধরণের জাহাজ দিয়ে সাধারণত ছোট ছোট নদী-খালে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু পশুর চ্যানেলের মত বড় নদীর জন্য এ ধরনের আরো ৩ থেকে ৪টি অয়েল স্পিল রিকভারি ভেসেলের প্রয়োজন। এজন্য আমাদের আরো ৩/৪টি অয়েল স্পিল রিকভারি ভেসেল ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাকীগুলো ক্রয় করা গেলে সুন্দরবন ও বন্দরের দীর্ঘ পশুর চ্যানেলের সুরক্ষা সম্ভব হবে।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বন্দরে যেহেতু প্রতিনিয়ত দেশী-বিদেশী জাহাজের অবস্থান ও আগমন ঘটে থাকে। সে সকল জাহাজ ও বিভিন্ন ধরণের নৌযান পড়া তরল বর্জ্য অপসারণে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদ্য ক্রয়কৃত এ জাহাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জাহাজটি সংযোজনের ফলে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলের পরিবেশ, জলজ-প্রাণীজ সম্পদসহ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এটি দেরিতে ক্রয় করা হলেও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর মংলার সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার ফানের্স অয়েল নিয়ে ও,টি সাউদার্ন স্টার-০৭ নামক একটি ট্যাংকার ডুবির ঘটনা ঘটে। তখন বন্দরের এ ধরণের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ না থাকায় ওই সময় সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজ এনে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ করা হয়। যাতে সময় ক্ষেপন ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। মূলত তখন থেকে বন্দরের নিজস্ব অয়েল স্পিল জাহাজ ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নানা প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ তিন বছর পর মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌযান বহরে সংযুক্ত হয়েছে পশুর কিনার-০১।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ