ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের জনগণকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির উদ্যোগে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনে এটর্নি জেনারেল এবং দুদকের আইনজীবীর বিরোধিতার সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, ফলে গণতন্ত্র গভীর সংকটে পতিত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী ‘চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট: কোন পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে এই আলোচনার আয়োজন করে ন্যাপ।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের বিরোধিতায় খালেদা জিয়ার জামিন আটকে যায়। পরে ১২ মার্চ বিচারিক আদালত থেকে নথি আসলে চার মাসে জামিন দেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম এবং সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ১৩ মার্চ এই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বারর আদালতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদক। গতকাল বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হয়। এ সময় দুদকের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনে রোববার পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি প্রশ্ন করতে চাই, এটর্নি জেনারেল ও দুদকের আইনজীবী কি আওয়ামী লীগের আইনজীবী না রাষ্ট্রের? তাদের বেতন কি আওয়ামী লীগের ফান্ড থেকে হয়, না জনগণের টাকা থেকে হয়? হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে চুপ করে বসে থাকেন। আর খালেদা জিয়ার ব্যাপারে লাফ দিয়ে ওঠেন।
 সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়। পরে এসব মামলা উচ্চ আদালত থেকে খারিজ হয়ে যায়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির সেই মামলা আজ কোথায় ? তা নিয়ে তো দুদক, এটর্নি জেনারেলকে কোনো তদবির করতে দেখা যায়নি। তাহলে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে তারা কেন এত দৌড়-ঝাঁপ করছেন?
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলা রাজনৈতিক বিবেচেনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান নজরুল। এ নিয়ে এটর্নি জেনারেলের কোনো অবস্থান নেই, সেটিও জানতে চান তিনি। গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিকে ২০০৯ সালে বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পর আদালত পাঁচটা মামলা খারিজ করে দেয় বলেও জানান বিএনপি নেতা। বলেন, আজকের দুদকের যিনি আইনজীবী মুহূর্তের মধ্যে আপিল বিভাগ চেম্বার জজের কাছে দৌঁড়ায়ে চলে যান, সেদিন তারা কোথায় ছিলেন।
আরও চারটা মামলা খারিজ হলো ২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দিন চৌধুরীর কোর্টে। তার বিরুদ্ধে না এটর্নি জেনারেল, না দুদকের কোনো আইনজীবী আপিল করতে গেলেন। আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যখন মামলা চলে সপ্তাহে ২/৩ দিন তারিখ হয়। সাজা হয়ে গেল, হাইকোর্টে আসলাম। আড়াইটার সময় হাইকোর্টে জামিন হলো, তার এক ঘণ্টার মধ্যে পিপি কুমিল্লার কোর্টে গিয়ে আরেক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেন। পরের দিন দুদকের আইনজীবী এবং এটর্নি জেনারেল চেম্বার জজের কাছে আপিল করলেন।
কুমিল্লার যে পিপি তিনি কার নিয়োগপ্রাপ্ত, আইন মন্ত্রণালয়ের না? সেই পিপি যে দরখাস্ত করে ওখান থেকে অর্ডার ইস্যু করিয়ে নিয়ে আসলেন, এটাতে কি সরকারের ইনভলভমেন্ট নাই? এটর্নি জেনারেল এবং দুদকের আইনজীবীর আচরণ সরকারের ইনভলভমেন্ট না?।
তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার চায় না, খালেদা জিয়া বাইরে থাকুক, জনগণের মধ্যে থাকুক এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। কারণ খালেদা জিয়াকে তারা ভয় পায়।
ব্যাংকিং খাতের হরিলুটে বর্ণনা দিয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ব্যাংকে চলছে হরিলুট। হাজার হাজার কোটি টাকা অবাধে লুট হচ্ছে। আর এই লুটপাটে সহায়তা করছে খোদ সরকার। কোটি কোটি ডলার পাচার হচ্ছে এবং বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে এই লুটপাটকারীরা। এখনই এদের থামাতে হবে। গণতন্ত্র হুমকির মুখে। মানুষকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া যে গণতন্ত্রের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন সেই গণতন্ত্র আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেদিন যদি যাদু মিয়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে এসে না দাঁড়াতেন তাহলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতো কিনা সন্দেহ আছে। যাদু মিয়া শুধু শহীদ জিয়ার পাশেই দাঁড়াননি গণতন্ত্রের জন্য তিনি ন্যাপের নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা যাদু মিয়াকে বিএনপির উচিত যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। না হলে ইতিহাসের দায় থেকে তারা মুক্তি পাবে না। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিজয় অর্জন করতে হলে যাদু মিয়ার প্রদর্শিত পথেই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার সভাপতিত্বে ও মহানগর সদস্য সচিব শহীদুননবী ডাবলুর সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান  সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির সহ-গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ