ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 March 2018, ১ চৈত্র ১৪২৪, ২৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গেমস ফুটবল এবং বিশ্বকাপ

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ফুটবল গোলের খেলা। যা জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়। এর সঙ্গে যোগ হয় ড্র নামক শব্দটি। আবার গোল ছাড়াও এমন সমান্তরালের রেজাল্ট দেখা যায়। তা স্বাভাবিক ধারায়। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের নৈপূন্যের মান ছন্নছাড়া হোক তাতে কি? ফুটবল এখনো শীর্ষে রয়েছে জনপ্রিয়তার উত্তেজনার স্রোত ধরে রাখার ধারায়। সেটা সারা বিশ্বের ছায়াতলে। সেখানে লাল-সবুজ পতাকা দেশও ব্যতিক্রম নয়। এই ক্রীড়া মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সঙ্গে মিশে আছে। ম্যাচের মূল আকর্ষণই গোল। যা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয় সবাইকে। কখনো তা দ্রুত ঘটে। তখন উল্লাসের জোয়ার বইয়ে যায় তাদের মাঝে। গোল করা প্লেয়ারকে কমন বিষয় বানিয়ে আলোচনার ঝর উঠে। সেটা চলে দিনের পর দিন। অনেক সময় ইতিহাস হয়ে সেই আলোচনার পাত্রে স্থান পায় বছর, দশক এবং যুগ ধরে। এক্ষেত্রে মিডিয়া অন্যতম ভূমিকা রাখে। আবার সেই গোল সোনার হরিন হাতে পাবার মতো রূপ নেয়। তা না হবার কারণে। এর ফলে সমালোচনার ঝর উঠে। সেটা মিডয়ার প্রতিবেদন আকারে বার বার স্থান পায়। তাইতো এতো রব পড়ে যায়। যা চারদিকে ঘিরে থাকে। গোল হাহাকারের দৃশ্য টুর্নামেন্ট আকর্ষনহীন করে ফেলে। তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শক এই খেলার ভক্ত। যারা ফুটবলকে খুবই ভালোবাসেন। সে কারণে রাত জেগে ম্যান ইউ, বার্সেলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ, নেপোলি, এসি মিলান, বোকা জুনিয়র্স ক্লাবের দৃষ্টি নন্দন নৈপূন্য উপভোগ করেছেন। সেটা বিভিণœ টুর্নামেন্টকে ঘিরে।
বিশ্ব ফুটবলের জন্য দর্শকের অফুরন্ত ভালোবাসা সত্যি পজেটিভ দিক। কিন্তু আমার সোনা বাংলা। আমি তোমায় ভালোবাসি। এই মায়া ভরা জাতীয় সংগীতের আঁচলে ঘিরে থাকা বাংলাদেশের গোল বলের পজেটিভ সাইড কতটুকু পরিমান রয়েছে? তা অবশ্যই দেখার বিষয়। সে জন্য বিশ্লেষন করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে বেছে নেয়া যাক ২০১৮ বাংলাদেশ যুব গেমসকে। যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ভেন্যুতে গড়িয়েছে। তা সবার জানা আছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে যুব গেমস কতটুকু সাড়া জাগিয়েছে তৃনমূল পর্যায়ের খেলোযাড়দের কাছে? বিশেষ করে ফুটবল! এমন আয়োজন! যা ভাবিয়ে তুলে সকলকে! কারণ সেটা দায় ছাড়া গোছের আয়োজন। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমসে এই ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের অন্তর্ভূক্ত উত্তেজনা, আকর্ষণের ধারায় নতুন আলোচিত বিষয় নয়। তা সত্য কথা। বড় বড় গেমস ফুটবলের ইতিহাস এর বাস্তব বর্ণনার স্বাক্ষী বহন করে আসছে। সেটা যুগ যুগ ধরে। ফাইনালে উঠবে কোন দল? স্বর্ন পদক জয় করবে কারা? চমক দেখা যাবে কি? এমন নানা প্রশ্ন ঘিরে থাকে গেমস ফুটবলকে লক্ষ্য রেখে। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ ও এশিয়ান আসরে দলগুলোর লড়াইয়ে সেই দৃশ্য চারদিকে রব তুলে ফুটে উঠতো বার বার। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, জার্মানি, ইটালী, স্পেন, ফ্রান্স, হল্যান্ড, নাইজেরিয়া, দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, চীন, সৌদী আরব, ইরাক, ইরান, ইউএসএ, মেক্সিকো, ইংল্যান্ডের নাম ফেভারিট তালিকায় স্থান পেতো। অবশ্যই নৈপূন্য প্রদর্শনের বিশ্লেষনে। যা স্বাভাবিক। পাশাপাশি নয়া বিশ্ব তারকার সন্ধান পাওয়া যেতো এ সব গেমস হতে। তাই ফুটবলের লড়াইয়ে অনায়াসে দৃষ্টি পড়ে থাকতো সকলের। যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম। সেটা দর্শকের বেলায়। লাল-সবুজ পতাকা ফুটবল টিমকে ঘিরে নয়। অবস্থায় বাংলাদেশ যুব গেমস ফুটবল লড়াই মাঠে গড়িয়েছে।
এর আগে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় পর্যায়ে। সেখানে বিন্দু পরিমান প্রাণ ছিলো না। বাছাই থেকে মূল পর্ব পর্যন্ত কোথাও এর আলোচনার ছোঁয়া লাগেনি। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, রংপুর, হবিগঞ্জ, বাগের হাট, নড়াইল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, টাঙ্গাঁইল, শরিয়তপুর, কক্সবাজার, বান্দরবান, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় একই দৃশ্য ফুটে উঠে। তাতে বিন্দু পরিমান সন্দেহ নেই। বর্তমানে এই প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে রাজশাহী এবং সিলেট ফাইনালে নাম লেখায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার মতো শক্তিশালী দল গেমস ফুটবলে সাফল্য পেতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যা মহা আপসেট। সেটা শক্তির বিচারে। তা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের জানা রয়েছে।  অথচ এমন আপসেট নিয়ে দর্শকের মাঝে আলোচনা নেই। সেটা অবাক করা কান্ড! সত্য কথা বলতে কি, সুপার পারফরম্যান্সে ঘেরা তারকা নেই। সুতরাং আলোচনার পাত্র শূন্য। তা ঘরে ঘরে প্রচারের অভাবে। অথচ মেসি, নেইমার, জিদান, রোনাল্ডোর ছবি একই স্থানে শোভা পাচ্ছে। নৈপূন্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের বিবেচনায়। কথাটি অপ্রিয় সত্য। যা বোধগম্য সকলের। ফুটবলের এই অধঃপতনের মূলে বাফুফের দায়ছাড়া গোছের কর্মকান্ড ও প্লেয়ারদের বাজে নৈপূন্য সমান ভাবে দায়ী। বুদ্ধিজীবি সংসদ ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল। সে সাবেক ফুটবল প্লেয়ার। এমন প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট ভাষ্য, গত শতাব্দীর সত্তর, আশি, নব্বই দশকের তুলনায় বর্তমানে ফুটবলের নৈপূন্যের মান আকর্ষন করার মতো না। সেটা দেশের খেলোয়াড়দের বেলায় অক্টোপাসের মতো ঘিরে রয়েছে। যা স্বীকার করবো আমি। তাই নীরবে মাঠে গড়ায় গেমস ফুটবল। প্রচারটা চাহিদা মতো হয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হবে। এর জন্য অপেক্ষা মাত্র দু’মাস। জুনে সবুজ ঘাসের ময়দানের স্পর্শ পাবে সেটা। তা বৃহৎ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। ব্রাজিলের তারকা নেইমার। যিনি বিশ্বের অন্যতম সফল পরিচিত মুখ। তার ইনজুরি ভাবিয়ে তুলেছে সমর্থকসহ বাংলাদেশের মিডিয়াকে! তাকে আসন্ন বিশ্বকাপে দেখা যাবে কি? এমন প্রশ্নের মাঝে ঘুরপাক খেয়ে নেইমারের মাঠে ফেরার প্রতীক্ষায় আছেন সবাই।
বিষয়টি মিডিয়ার লাইম লাইটে স্থান পেয়েছে বার বার। যা ক্রীড়া ভুবনে আলোচনার শীর্ষ নিউজ হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সেটা নিয়ে তর্কও হয়। তা বজায় থাকে সকলের মাঝে। সমর্থকরা বলেছেন, নেইমার বিশ্বকাপ লড়াইয়ে মাঠে নামবেন। এমন প্রত্যাশা তাদের। প্রতিপক্ষ সমর্থকরা ধারনা করছেন ইনজুরির কারণে তার ময়দানে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। এ তর্কের  দৃশ্য বাংলাদেশের মিডিয়াতে স্থান পায় আলোকিত ধারায়। আর সেখানেই অবহেলায় পড়ে থাকে যুব গেমস ফুটবল। এর প্রান ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে কি? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দিবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ